বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ হবে অব্যবহৃত স্টেডিয়ামগুলোতে!

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭ আপডেটঃ ৮:০১ অপরাহ্ন

সর্বশেষ ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। এই নয় বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নতিটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। বিশ্বের যেকোন দলকেই হারানোর সামর্থ্য আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। অথচ এমন একটি দলের বিপক্ষে পুরো সিরিজই রাখা হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে খারাপ স্টেডিয়ামগুলোতে।

চলতি মাসের ২৮ তারিখ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে সফরের দুই টেস্টের প্রথম ম্যাচ। ভেন্যু দক্ষিণ আফ্রিকার সেনউইজ পার্ক স্টেডিয়াম। যেখানে এ পর্যন্ত টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে মাত্র একটি। ২০০২ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট ভেন্যু হিসেবে যাত্রা শুরু হয় পচেফস্ট্রমের এই মাঠের।

আরও খবর : রুবেল দক্ষিন আফ্রিকা যাচ্ছেন শুক্রবার

এরপর ১৫ বছরে এই মাঠে আর কোনো টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। দীর্ঘদিন খেলা না হওয়ায় উইকেটের বিরুপ আচরণ এই মাঠের নিয়মিত ব্যাপার। পরিচিত মাঠ হলে তার অতীত ইতিহাস-পরিসংখ্যান ঘেঁটে কিছুটা পরিকল্পনা সাজানো যায়। কিন্তু সম্পূর্ণ অপরিচিত, কম ব্যবহৃত এই মাঠ সম্পর্কে কোন ধারণাই পাচ্ছে না মুশফিকুর রহিমের দল।

দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু ব্লুমফন্টেইনের মাঙ্গুয়াঙ ওভাল। সাকুল্যে এই মাঠে টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে মাত্র চারটি। এর মধ্যে ২০০৮ সালে সর্বশেষ এই মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষেই টেস্ট খেলেছিল স্বাগতিকরা। এরপর নয় বছরে মাঙ্গুয়াঙ ওভালে আর কোন টেস্ট ম্যাচ হয়নি। তবে বেশ কিছু ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রোটিয়াদের বিপক্ষে বাংলাদেশের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ রয়েছে, যার ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে কিম্বার্লির ডি বিয়ারস ডায়মন্ড ওভাল, পার্লের বোল্যান্ড পার্ক এবং ইস্ট লন্ডনের বাফেলো পার্ক। এর মধ্যে বাফেলো পার্ক স্টেডিয়ামে ২০০২ সালে একটি মাত্র টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেটিও বাংলাদেশের বিপক্ষে। এরপর এই মাঠে আর কোন টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে হাতে গোনা কয়েকটি ওয়ানডে ম্যাচ হয়েছে। সর্বশেষ ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০১৫ সালে। এর আগে ২০১২ সালে একটি, ২০০৮ সালে একটি ম্যাচ হয়েছে।

কিম্বার্লির ডি বিয়ারস ডায়মন্ড ওভাল স্টেডিয়ামে এপর্যন্ত কোন টেস্ট ম্যাচ হয়নি খেলা হয়নি। ২০১৩ সালে সর্বশেষ ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরুর পর মাত্র ১১টি ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে এখানে। একই অবস্থা পার্লের বোল্যান্ড পার্ক স্টেডিয়ামের। সেখানেও ২০১৩ সালে সর্বশেষ ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরুর পর মাত্র ১০টি ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই মাঠে।

দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও পরিচিত মাঠ গুলোর মধ্যে আছে জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়াম, কেপ টাউনের নিউল্যান্ডস, পোর্ট এলিজাবেথের সেন্ট জর্জ পার্ক, সেঞ্চুরিয়নের সুপার স্পোর্টস পার্ক কিং, ডারবানের কিংসমিড মাঠগুলো। অথচ বাংলাদেশ সফরে এসব মাঠের কোনটিতেই ম্যাচ রাখা হয়নি।

থাকা-খাওয়ার ভালো ব্যবস্থা, অনুশীলনের সুবিধার ব্যাপারে আগে থেকে খোঁজ নিলেও উইকেট সম্পর্কে কোন ধারণাই নেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। দল কোন মাঠে খেলতে যাচ্ছে সে সম্পর্কে কেউ জানেন না।

এসএইচ-২৮/২১/০৯ (স্পোর্টস ডেস্ক)