`হামরিয়া’ প্রসিদ্ধ বাঙ্গালি পাড়া

প্রকাশিতঃ জানুয়ারী ১১, ২০১৮ আপডেটঃ ৪:০৩ অপরাহ্ন

প্রায় ৮ লাখ বাংলাদেশি ওমানে বসবাস করছে। পুরো ওমানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এসব বাঙালি। ওমানের ভিতর যে কয়টা বিভাগ আছে, এর ভিতর উল্লেখযোগ্য “সালালাহ, সোহার, ইবরি, ও মাস্কাট। সাধারণত মাস্কাট থেকে এই শহর গুলোর দূরত্ব ৩০০ থেকে ১১০০ কিমি, পর্যন্ত, কাজের জন্য বেশিরভাগ শ্রমিক থাকেন শহরের বাইরে, আবার কেউ থাকেন মরুভূমিতে।

এখানে বেশিরভাগ শ্রমিক যেহেতু ফ্রি ভিসায় আসে। সুতরাং এদের কাজের কোনো গ্যারান্টি থাকে না। নিজেদেরই কাজের সন্ধান করে নিতে হয়, আর এর জন্য রয়েছে প্রসিদ্ধ এক জায়গা। যার নাম “হামরিয়া” এটা রাজধানী মাস্কাট এর রুই তে অবস্থিত।

আরও খবর : অস্ট্রেলিয়ার ভিসায় কিছু পরিবর্তন আসছে

হামরিয়া কে ওমানিরা বলে দ্বিতীয় বাংলাদেশ। কারন হামরিয়ার ৮০% ই বাংলাদেশি। ওমানে অবস্থানরত বেশিরভাগ শ্রমিকেরই এখানে রুম নিয়ে রাখেন, বিশেষ করে যারা ফ্রি ভিসার লোক। কারন এখানে প্রতিদিন সন্ধার পর থেকে বিভিন্ন কোম্পানির জন্য শ্রমিক নিতে আসেন, অনেকটা আমাদের দেশের হাটের মতো। সবাই দাঁড়িয়ে থাকে মাঝখানে উঁচু যায়গায় দাঁড়িয়ে যার শ্রমিক দরকার সে বলতে থাকে। এভাবে দরদাম করে এখান থেকে প্রতিনিয়ত শ্রমিকরা কাজে যোগদান করে।

বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই এলাকাটা গুলিস্তান এর রূপ ধারণ করে। কারণ মাস্কাট এর বাহিরে যে সকল শ্রমিক কাজ করেন তারা শুক্রবার আসেন পরিচিতদের সাথে দেখা করতে এবং ভালো কাজের সন্ধানে। এই জন্য আবার প্রায় শুক্রবার দিন সন্ধ্যার পর পুলিশ এর চেকিং ও হয়ে থাকে। যদি কেউ বুঝতে পারে যে পুলিশ আসছে,সে এমন এক আওয়াজ করে যাতে অন্য সকল বাঙালি বুঝতে পেরে যে যার মতো দৌড়ে পালায়!

অনেকে ধরা পরে পুলিশের হাতে। যারা পুলিশের হাতে আটক হয় তাদের বেশিরভাগ লোকের ভাগ্যেই দেশে চলে আসতে হয়। অন্যথায় জেল খাটতে হয়, আর যাদের আরবাব (ওমানি স্পন্সর কে আরবাব বলে) ভালো, তাদের আরবাব থানায় গিযে টাকা পয়সা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।

আপনজন ছেড়ে প্রবাসে এভাবেই প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যান বেশিরভাগ শ্রমিক। অথচ পরিবারের মানুষ মনে করে বিদেশ মানেই টাকা।

এসএইচ-০৬/১১/০১ (প্রবাস ডেস্ক, তথ্যসূত্র : ভয়েস বাংলা)