এক বছরেই সাড়ে ৯ লক্ষাধিক কর্মীর বিদেশ গমন

প্রকাশিতঃ জানুয়ারী ১২, ২০১৮ আপডেটঃ ৩:৩৩ অপরাহ্ন

২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ৮ লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি কর্মী কাজ নিয়ে বিদেশে যায়। এতোদিন এটাই ছিলো সর্বোচ্চ রেকর্ড। গত বছর মাত্র ১১ মাসেই এ রেকর্ড ভেঙ্গে যায়। ২০১৭ সালের নভেম্বর পযর্ন্ত ৯ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫৪ জন বিদেশে গেছেন।

মন্ত্রণালয়ের হিসাব বলছে, বিদায়ী বছর বাংলাদেশ থেকে যত মানুষের বিদেশে চাকরি হয়েছে তার মধ্যে অর্ধেকই হয়েছে সৌদি আরবে। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই দেশটিতে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ কর্মী গেছে। এর বাইরে মালয়েশিয়ায় এক লাখ, ওমানে প্রায় ৯০ হাজার এবং কাতারে গেছে ৮২ হাজার জন।

বিদায়ী বছর দেশের বাইরে যাওয়া কর্মীদের মধ্যে নারীর সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার। এদের মধ্যে সৌদি আরবে গিয়েছেন প্রায় ৮৩ হাজার, জর্ডানে প্রায় ২০ হাজার এবং ওমানে প্রায় ৯ হাজার।

আরও খবর : আমিরাত প্রবাসীরা আউট পাস পাবেন

বিগত বছরে বিদেশে যত কর্মী গেছে তার মধ্যে জি টু জি প্লাস প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় গেছে প্রায় এক লাখ। ২০১৬ সালে মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবের বাজার খুলে যাওয়ায় এ রের্কড হয়েছে বলে মনে করেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তবে রপ্তানির রের্কড ভাঙ্গলেও ভাঙ্গেনি প্রবাসী আয়ের রের্কড। মধ্যপ্রাচ্যে তেলের দাম পতনেই এর কারণ বলে মনে করেছেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী।

এদিকে রপ্তানিকারকরা বলেন প্রবাসীরা বৈধ উপায়ে টাকা পাঠাতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। তবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় নতুন বছরে প্রবাসী আয় বাড়ানোর জন্য অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানায়, ২০১৭ সালের মার্চে আইএম জাপান এর সাথে সমঝোতা স্মারক সই করে টেকনিক্যাল ইর্ন্টান কর্মী পাঠাতে শুরু করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, জাপানের সাথে সমঝোতা, মরিশাসের সাথে কর্মী প্রেরণ সংক্রান্ত চুক্তি এবং রাশিয়ার সাথেও কর্মী প্রেরণ সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এসব চুক্তি অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হবে এবং কর্মী পাঠানো শুরু হবে। শ্রম কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকায় ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১৮টি দেশে ১৯টি নতুন শ্রম কল্যাণ উইং খোলা হয়েছে।

এরই মধ্যে ২০১৭ সালে লেবানন ও মরিশাস দুইটি দেশে শ্রম কল্যাণ উইং চালু করা হয়েছে। বর্তমানে ২৭ টি দেশের মিশনে ৩০টি শ্রম কল্যাণ উইং অভিবাসন সমর্থিত কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় তাদের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ১০.৭ এর আলোকে নিরাপদ, নিয়মিত ও দায়িত্বশীল অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে কাজ করছে। সে লক্ষ্যে অভিবাসন ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে।

এ বছরই সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াসহ ১৫টি দেশের অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে জানিয়ে একজন কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক তদারকি চলছে।

এসএইচ-১৩/১২/০১ (প্রবাস ডেস্ক, তথ্যসূত্র : ভয়েস বাংলা)