মালদ্বীপ প্রবাসীদের জন্য হেল্পলাইন

প্রকাশিতঃ জানুয়ারী ১৮, ২০১৮ আপডেটঃ ১০:০৬ পূর্বাহ্ন

মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু করেছে সেদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। দুই প্রবাসী খুন হওয়ার পর বাংলাদেশিদের টেলিফোনে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে এই ‘হেল্পলাইন’ চালু করা হয়েছে। হেল্পলাইনের +৯৬০৩৩২০৮৫৯ নম্বরে ফোন করে যে কেউ যে কোনো সময় সহযোগিতা চাইতে পারবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে,মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনার এই ‘হেল্পলাইন’ চালু করেন। সম্প্রতি ভারত মহাসগরীয় দ্বীপ দেশটিতে দুই বাংলাদেশি খুন হওয়ার পর সেখানকার প্রবাসী স্বদেশি নাগরিকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এছাড়া কয়েকজনকে ছুরি মেরে আহত করার ঘটনাও ঘটেছে।

মালদ্বীপের হাভেরু অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর ২২ মার্চ ভোরে চার মুখোশধারীর হামলায় খুন হন প্রবাসী বাংলাদেশি শাহিন মিয়া। তিনি মালের সাউথ-ওয়েস্ট হারবার এলাকায় ‘লিয়ানু ক্যাফে’তে কাজ করতেন।

আরও খবর : নারী গৃহকর্মী বিক্রি জমজমাট অনলাইনে

একইভাবে ‘আলিফ আলিফ আতোল থড্ডু’ দ্বীপ থেকে বিলাল নামে আরেক বাংলাদেশির লাশ উদ্ধারের কথা জানায় মিনিভান নিউজ নামে মালদ্বীপের অন্য একটি ইন্টারনেট সংবাদমাধ্যম। এসব হামলার ঘটনার প্রতিবাদে দেশটিতে কর্মরতরা বিক্ষোভের ডাক দিলে মালদ্বীপের কর্মকর্তারা ভিসা বাতিলের হুমকি দিয়েছে বলে প্রবাসীদের অভিযোগ।

হত্যা ও ছুরিকাঘাতের এসব ঘটনায় মালদ্বীপ পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারলেও দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, খুনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে মালদ্বীপে হুমকিতে পড়ে বাংলাদেশিরা। তারা একটি বিক্ষোভ ডাক দেয়। তবে এই বিক্ষোভ অংশ নিলে দ্বিতীয় কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই ভিসা বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে দেশটির সরকার।

হাভেরু অনলাইনের খবরে বলা হয়, সার্কভুক্ত এই দ্বীপ দেশে গত এক সপ্তাহে প্রবাসীদের ওপর আরো তিনটি আক্রমণের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাভিরি হিঙ্গুনের টেপকন হার্ডওয়ারের সামনে প্রথম আক্রমণ হয়, যাতে এক বাংলাদেশি আহত হন। এর ১০ মিনিটের মাথায় একই সড়কের আরেকটি দোকানের সামনে দ্বিতীয় হামলায় ছুরিকাহত হন আরেক বাংলাদেশি। এছাড়া কাছাকাছি সময়ে স্থানীয় মাছ বাজারের কাছে এক ভারতীয়কে ছুরি মারা হয়।

মালদ্বীপের একজন পুলিশ কর্মকর্তা হাভেরুকে বলেন, ওই তিন প্রবাসীর ওপর হামলার সঙ্গে শাহিন মিয়া হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগাযোগ তারা তদন্তে পাননি। তবে শাহিনের ওপর হামলার আগের রাতে একদল যুবক ওই ক্যাফেতে গিয়ে বিনা পয়সায় কফি চাইলে কর্মীদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি হয়। পরে ওই যুবকরা ওই ক্যাফেতে ভাংচুর চালায় বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়।

প্রবাসীদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনায় সেখানে বসবাসরত বিদেশিদের নিরাপত্তার দাবিতে শুক্রবার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিরও পালন করেছে প্রবাসী বাংলাদেশির।

এসএইচ-০৪/১৮/০১ (প্রবাস ডেস্ক, তথ্যসূত্র : ভয়েস বাংলা)