প্রবাসীদের বসন্ত উৎসব

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারী ১১, ২০১৮ আপডেটঃ ৩:৩৪ অপরাহ্ন

বসন্তের রং প্রকৃতি থেকে ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মনে। হৃদয়ে জেগে ওঠা নতুনের সেই আনন্দে মেতে বসন্তকে বরণ করে নেওয়াটা হলো বাঙালির শত বছরের ঐতিহ্য। কিন্তু বসন্ত যে কেবল বাঙালির মনেই দোলা দেয় না, এর আবেদন যে বিশ্বজনীন, তারই স্বাক্ষর রাখল মাদ্রিদের বসন্ত উৎসব (ফেস্টিভ্যাল ফাল্গুন বাংলা ২০১৮)। মাদ্রিদ সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় বাংলাদেশি মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন দে ভালিয়েন্তে বাংলা এই উৎসবের আয়োজন করে।

আয়োজনটি উপস্থিত সকলকে কিছুটা সময়ের জন্য হলেও আপ্লুত করে। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশগ্রহণ করেন।

আরও খবর : মালদ্বীপে থাকা বাংলাদেশিদের মাঝে আতঙ্ক কমেছে

১০ ফেব্রুয়ারি শনিবার সন্ধ্যায় স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের সেন্ট্রো কমিউনিটারি ক্যাসিনো দে লা রেইনা হলে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে বাঙালির বসন্ত উদ্‌যাপন বহুজাতিকতার নতুন মাত্রা লাভ করেছে। দর্শকের হৃদয় জয় করে নেওয়া এ অনুষ্ঠানে বাংলা নাচ-গানের সঙ্গে ছিল মাদ্রিদপ্রবাসী বাংলাদেশি নারীদের উদ্যোগে পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দেশের ঐতিহ্যবাহী পুলি, ভাপা, দুধ চিতই, পাটিসাপটা, প্যারা, জিলাপি ও সাজের পিঠাসহ হরেক রকমের পিঠার পসরা সাজিয়েছিলেন সর্বস্তরের মাদ্রিদ প্রবাসী বাংলাদেশি নারীরা।

উৎসবের উদ্বোধন করেন কমিউনিটি নেতা ও বাংলাদেশ মসজিদের সভাপতি খোরশেদ আলম মজুমদার। পরিচালনা করেন অ্যাসোসিয়েশন দে ভালিয়েন্তে বাংলার সভাপতি মোহাম্মদ ফজলে এলাহী। উপস্থিত ছিলেন রেড ইন্টার লাভাপিয়েসের প্রেসিডেন্ট পেপা টরেস, এনজিও ইন্টারন্যাশনাল অসফান-এর কর্মকর্তা মিরকাপিয়েছ খোয়ান, গ্রেটার সিলেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লুৎফুর রহমান, ব্যবসায়ী আবুল হোসেন ও রমিজ উদ্দিন প্রমুখ।

পিঠা উৎসব আয়োজনে সহযোগিতা করেন তানিয়া সুলতানা, লুনা আলম, জান্নাত শিউলি, মারুফা আরেফিন, সেতু হাসান ও নিগার সুলতানা প্রমুখ।

মোহাম্মদ ফজলে এলাহী বলেন, দেশের আবহমান সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যকে এগিয়ে নেওয়া আর সেই সঙ্গে বিদেশের মাটিতে নতুন প্রজন্মকে দেশের আবহমানকালের সংস্কৃতিকে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই এই ধরনের পিঠা উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। তা ছাড়া আমাদের নারীরা কোনো না কোনোভাবে কর্মজীবী তাই পরিবার পরিজন নিয়ে সবাই একসঙ্গে হওয়ার আনন্দটা সব সময় অন্যরকম।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করে নিশাত, সান্তা ও ভরসা।

এসএইচ-০৮/১১/০২ (বকুল খান ও কবির আল মাহমুদ, প্রথম আলো)