মালয়েশিয়ায় ১৩ বছর নিখোঁজের পর দেশে ফিরলেন জাহের মিয়া

প্রকাশিতঃ জুন ১৩, ২০১৮ আপডেটঃ ৯:১৬ পূর্বাহ্ন

মালয়েশিয়ায় দীর্ঘ ১৩ বছর নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে নিজের পরিবারের কাছে ফিরলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থানার চাঁনপুর গ্রামের জাহের মিয়া। ২০ বছর আগে কাজের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান জাহের মিয়া। পরিবার জানায়, প্রথমদিকে তাঁদের সাথে যোগাযোগ ছিলো জাহের মিয়ার।

কিন্তু প্রায় ১৩ বছর আগে হঠাৎ জাহের মিয়ার সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় তাঁর পরিবারের। পরিবার যোগাযোগের অনেক চেষ্ঠা করলেও কোনো উপায়ে যোগাযোগ করতে পারেননি। দীর্ঘদিন খোঁজ না থাকায় তাঁর পরিবারের সদস্যদের ধারণা ছিলো, হয়তো কোনো দুর্ঘটনায় তিনি মারা গেছেন। তাঁর বেঁচে থাকার খবরে স্ত্রী পেয়ারা বেগম ও তাঁর তিন সন্তান কান্নায় ভেঙে পড়েন।

গত ৫ জুন মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সমিতি মালয়েশিয়ার সহযোগিতায় স্মৃতিশক্তি হারানো মানসিক ভারসাম্যহীন জাহেরকে পরিবারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

আরও খবর : পাঁচ বাংলাদেশীর নিউইয়র্ক জয়!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রাহাদুজ্জামান জানান, প্রায় দেড় বছর আগে অসুস্থ জাহেরকে কে বা কারা কুয়ালালামপুরের অদূরে ক্লাং হাসপাতালের সামনে ফেলে রেখে চলে যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক চিকিৎসায় তাঁর জ্ঞান ফিরে এলেও জাহেরের স্মৃতিশক্তি হারিয়ে যায়। কোনো স্বজনের খোঁজ না পাওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বাংলাদেশ হাইকমিশনকে অবহিত করে।

তবে হাইকমিশনও অনেক চেষ্ঠায় খুঁজে পাচ্ছিলেন না জাহের মিয়ার কোন ঠিকানা। কারণ লোকটি দেখে বাংলাদেশি নিশ্চিত হওয়া গেলেও জাহের তাঁর ঠিকানা লিখতে বা বলতে পারেন না। পরিচয় খুঁজতে নানান পদ্ধতি অবলম্বন করলেও দীর্ঘ সময়ে কোনো খোঁজ মেলে না তাঁর। পরে দূতাবাস থেকে মালয়েশিয়া প্রবাসী সাংবাদিকদের মাধ্যমে বাংলাদেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে জাহের মিয়াকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এই সংবাদের মাধ্যমে খোঁজ পাওয়া যায় তাঁর পরিবারের ঠিকানা।

এদিকে, জাহের মিয়াকে বাংলাদেশি পৌঁছানোর জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন মালয়েশিয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমিতির সভাপতি নাজমুল ইসলাম বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রাহাদুজ্জামানসহ অন্য সদস্যরা।

কারণ, বাংলাদেশের মানচিত্র দেখিয়ে তাঁরা অনেকটা নিশ্চিত হোন যে লোকটির বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। সম্প্রতি চাঁনপুর গ্রামে লোকটির ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা জাহের মিয়ার পরিচয় নিশ্চিত করে। শুরুতেই বিশ্বাস করতে পারেনি পরিবার। কারণ, দীর্ঘসময় কোনো যোগাযোগ না থাকায় তাঁদের ধারণা ছিলো, জাহের মিয়া মারা গেছেন।

মালয়েশিয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সমিতির উদ্যোগে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহযোগিতায় গত ৫ জুন বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে মানসিক ভারসাম্যহীন জাহেরকে দেশে পাঠানো হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রাহাদুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন পরিবারের থেকে বিচ্ছিন্ন ভারসাম্যহীন একজন প্রবাসীকে দেশে ফেরত পাঠাতে পেরে আজ তিনি অনেক আনন্দিত। আর এই কাজে সার্বিক সহযোগিতার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান সমিতির সভাপতি নাজমুল ইসলাম বাবুল, সহ-সভাপতি সাইদুর সরকার, সহদপ্তর সম্পাদক শামীম, মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ওহিদুর রহমান অহিদ, শফিকুর রহমান চৌধুরী, শাহ আলম হাওলাদার, কৃতজ্ঞতা জানান হাইকমিশনের লেবার কাউন্সিলর সায়েদুল ইসলাম, প্রথম সচিব (শ্রম) হেদায়েতুল ইসলাম মণ্ডল ও কল্যাণ সহকারী মোকসেদ আলীকে।

এসএইচ-০৭/১৩/০৬ (প্রবাস ডেস্ক, তথ্যসূত্র : ভয়েস বাংলা)