নতুন ভিসা পদ্ধতিতে বাংলাদেশি গবেষক ও বিজ্ঞানীরা যেতে পারবেন

প্রকাশিতঃ জুলাই ১০, ২০১৮ আপডেটঃ ৩:৫২ অপরাহ্ন

দক্ষ অভিবাসী প্রবেশের সুযোগ দিতে একের পর এক ভিসানীতিতে পরিবর্তন আনছে যুক্তরাজ্য সরকার। ভিসানীতির আওতায় বরাবরই দেশটি দক্ষ ও মেধাবীদের জন্য সুযোগের দ্বার উম্মুক্ত রাখে।মেধাবীদের দ্বারা যুক্তরাজ্য এগিয়ে যাবে এমনটি বিশ্বাস করে ব্রিটিশ সরকারও। এবার সেই উদ্যোগের আওতায় গবেষণা খাতের উন্নয়নে উৎসাহ দিতে ‌ইউকেআরআই সায়েন্স, রিচার্স অ্যান্ড অ্যাকাডেমিয়া’ নামে নতুন এক ধরনের ভিসা চালু করেছে দেশটি।

চালু হওয়া ভিসা পদ্ধতিতে গবেষক এবং বিজ্ঞানীদের জন্য উম্মুক্ত থাকবে যুক্তরাজ্য। নতুন এই ভিসা পদ্ধতিতে অন্য দেশের বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মতো বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ও গবেষকরাও যুক্তরাজ্যে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

৬ জুলাই চালু হওয়া নতুন ভিসা বিদ্যমান টায়ার-৫ (সরকার অনুমোদিত অস্থায়ী কর্মী বিনিময়) ভিসানীতিতে অন্তর্ভুক্ত হবে। এর আওতায় ইউরোপের বাইরের দেশগুলো থেকে গবেষক, বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদরা দুই বছরের জন্য যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।

আরও খবর : লটারিতে ৩০ কোটি টাকা!

নতুন এই ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়ে এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যের অভিবাসনমন্ত্রী ক্যারোলিন নোকস বলেছেন, গবেষণা ও উদ্ভাবনে অন্যতম বিশ্ব নেতৃত্ব যুক্তরাজ্য। ভিসা ব্যবস্থার এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক গবেষণা কাজ পরিচালনা এবং এতে যুক্তরাজ্যকে যুক্ত করাকে সহজ করবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের এমন একটি অভিবাসন ব্যবস্থা থাকতে হবে, যাতে করে আমরা আন্তর্জাতিক শীর্ষ প্রতিভাগুলো আকর্ষণ করে তাঁদের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান থেকে যুক্তরাজ্যের লাভবান হওয়া নিশ্চিত করতে পারি।’

ইউকেআরআই’র প্রধান নির্বাহী প্রফেসর মার্ক ওয়ালপোর্ট বলেন, ‘গবেষণা ও উদ্ভাবন সহজাতভাবেই আন্তর্জাতিক। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটি আমাদের মানতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিভাবান ব্যক্তিদের আদান-প্রদানের মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতা খুবই প্রয়োজনীয়। নতুন এই প্রকল্প আন্তর্জাতিক গবেষণা ও তাতে যুক্তরাজ্যের সংযুক্ত হওয়াকে আরও সহজ করবে।’

যুক্তরাজ্যের নতুন চালু করা এই ভিসা পরিচালনা করবে দেশটির গবেষণা ও উদ্ভাবন দফতর (ইউকেআরআই)। এই দফতরের আওতায় দেশের সাতটি গবেষণা কাউন্সিল ছাড়াও ইনোভেট ইউকে এবং রিসার্চ ইংল্যান্ড রয়েছে। ইউকেআরআই’র আওতায় থাকা ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের মতো ১২টি অনুমোদিত গবেষণা সংস্থা সরাসরি দক্ষ ব্যক্তিদের যুক্তরাজ্যে কাজের জন্য স্পন্সর করতে পারবে। এসব দক্ষ ব্যক্তির মধ্যে বিশেষজ্ঞ ও টেকনিশিয়ানও থাকবেন। প্রকল্পটির তদারকি সংস্থা হিসেবে ইউকেআরআই স্পন্সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তদারক করবে। এসব স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের টায়ার-৫ স্পন্সর লাইসেন্সও থাকতে হবে।

মূলতঃ সরকার অনুমোদিত বিনিময় ভিসা টায়ার-৫ ব্যবহার করে ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকার বাইরে থেকে বিভিন্ন পেশাজীবী যুক্তরাজ্যে প্রশিক্ষণ ও কর্ম অভিজ্ঞতার জন্য আসতে পারেন। এর আওতায় যুক্তরাজ্যে আসা যে কোনো ব্যক্তি দুই বছর সেখানে থাকতে পারবেন।

যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য, জ্বালানি ও শিল্প পরিসংখ্যান দফতর (বিইআইএস) ইউকেআরআই’র সংগে নিয়মিত এই প্রকল্পের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে। ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর মাধ্যমে টায়ার-৫ প্রকল্পের মানদণ্ড যে অনুসরণ করা হচ্ছে, তা নিশ্চিত করবে।

প্রস‍ংগত, দেশকে বহুমাত্রিক, উন্মুক্ত ও বৈশ্বিক বাণিজ্য উপযোগী করে গড়ে তুলতে নতুন প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। বিগত কয়েক মাসের মধ্যে নিজেদের ভিসা ব্যবস্থায় অনেক পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাজ্য। এর মধ্যে রয়েছে, টায়ার-২ ভিসার নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে ডাক্তার ও নার্সদের সরিয়ে দেওয়া। ফলে অন্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশ থেকেও সেখানে ডাক্তার ও নার্সদের প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত জাতীয় স্বাস্থ্য সেবায় (এনএইচএস) কর্মী সংকট মেটাতে এই উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য।

এসএইচ-০৬/১০/০৭ (প্রবাস ডেস্ক, তথ্যসূত্র : ভয়েস বাংলা)