সৌদি আরব যেতে চাচ্ছেন ফেরত আসা নারীরা

প্রকাশিতঃ জুলাই ১০, ২০১৮ আপডেটঃ ৫:৪৩ অপরাহ্ন

সৌদি আরবে গৃহকর্মী নির্যাতন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হলেও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী দাবি করেছেন, দেশটিতে বাংলাদেশি নারী কর্মীরা এখন ‘ভালো আছেন’। ফিরে আসা নারী কর্মীরা এখন সৌদি আরবে ফিরতে চাইছেন বলেও দাবি করেছেন মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি।

২০১৫ সালে চুক্তির পর গত চার বছরে দুই লাখ নারী গৃহকর্মী সৌদি আরবে পাঠানো হলেও তাঁদের অনেকে ফেরত আসছেন। ফেরত আসা নারীরা মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে গৃহকর্তা কর্তৃক নির্যাতিত হওয়ার কথা বলছেন। জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মাহজাবীন মোরশেদ সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মীদের নির্যাতনের বিষয়ে ৭১ বিধিতে একটি নোটিস আনেন। ৯ জুলাই তার জবাব দিতে গিয়ে মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি সৌদি আরবে গৃহকর্মী নির্যাতন বন্ধে সরকারের নানান পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বলেন, “সরকারের পদক্ষেপের ফলে অনেক অত্যাচার-নির্যাতন কমেছে। নারীকর্মীরা অনেক ভালো আছে। যারা ফেরত এসেছেন, তাঁরা আবারও যেতে চান।” কতো নারী সৌদি আরব থেকে ফিরেছেন, তা সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও প্রতি মাসে গড়ে দুইশ জনের মতো ফিরছেন বলে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অভিভাসন বিষয়ক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আরও খবর : নতুন ভিসা পদ্ধতিতে বাংলাদেশি গবেষক ও বিজ্ঞানীরা যেতে পারবেন

সৌদি আরবে গৃহকর্মী পাঠানোর পরপরই নির্যাতনের খবর এলেও তখন তা নাকচ করেছিলো প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটি। কমিটির একটি দল সৌদি আরব ঘুরে এসে বলেছিলো, গৃহকর্মীরা সেখানে ‘বেশ ভালো আছেন’।

ভাষা না জানা, খাবার ভালো না লাগা এবং ঘরের প্রতি অতি টানের কারণে তাঁরা দেশে ফিরতে চান। তবে সৌদি আরব থেকে ফিরে আসা নারীদের কথায় ভিন্ন চিত্রই উঠে আসে। তাঁরা যৌন নির্যাতনের অভিযোগও তুলেছেন। এদের কেউ কেউ মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেছেন।

নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, “বিদেশ থেকে যারা ফিরে আসে, কী কারণে আসে এবং তাঁরা কোথায় নির্যাতিত হয়েছে, তাঁর খবরাখবর আমরা রাখছি। যাদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছে, তাঁদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে না পারলেও আমাদের মিশনের মাধ্যমে যোগাযোগ করি। দরকার দলে সে দেশের মন্ত্রীর সংগে যোগাযোগ হয়।”

মাহজাবীন তার নোটিসে টাকার অভাবে যারা বিদেশ যেতে পারে না তাঁদের জন্য ভিসার উপর ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন। দালালদের হয়রানি বন্ধ করতে বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, “দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য রোধে জনসচেতনতামূলক নানানবিধ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে বুকলেট, লিফলেট, পোস্টার ইত্যাদি বিতরণ, টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপনসহ মেলার আয়োজন করা হচ্ছে।”

এসএইচ-১৩/১০/০৭ (প্রবাস ডেস্ক, তথ্যসূত্র : ভয়েস বাংলা)