মালয়েশিয়ায় ক্ষতিপূরণ আদায়ে সক্রিয় বাংলাদেশ দূতাবাস

প্রকাশিতঃ জুলাই ১১, ২০১৮ আপডেটঃ ৫:৫৮ অপরাহ্ন

মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত শ্রমিকদের মৃত্যুর পর বছরের পর বছর কেটে গেলেও নানান আইনি জটিলতায় ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না মৃত শ্রমিকদের পরিবার। গত এক যুগে বিভিন্ন দেশ থেকে ৩১ হাজারের বেশি প্রবাসী শ্রমিকের লাশ দেশে এলেও এখনো কর্মস্থল থেকে ক্ষতিপূরণ পাননি ১২ হাজার পরিবার। এবার এই ক্ষতিপূরণ আদায়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

মালয়েশিয়ায় নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন কয়েক লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক। বিভিন্ন সময় কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন তাঁরা। কিন্তু সময়মতো কর্মক্ষেত্র থেকে ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না দুর্ঘটনার শিকার এসব শ্রমিক। তাই মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রচেষ্টা চলাচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

বাংলাদেশ দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দূতাবাসের সক্রিয় আইনি সহায়তায় গত এক মাসে ২১ লাখ ২২ হাজার ৮৪৩ টাকার ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। চলতি মাসে ৮২ লাখ ৯৪ হাজার ১৩৮ টাকার বকেয়া বীমা আদায়ের আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

আরও খবর : শিক্ষার্থীদের স্থায়ী বসবাসের সুযোগ হচ্ছে

বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়েছে, যে সকল বাংলাদেশি কর্মীর ক্ষতিপূরণের চেক পাওয়া গেছে তাঁরা হলেন- আব্দুল্লাহ (পাসপোর্ট নং- বিই ০২৮৩৬৪৭), আমির হোসেন (পাসপোর্ট নং-বিএল ০৩৭৮৮০৩), মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন (পাসপোর্ট নং এই ১৭৮০৯৭৬), আবুল কাসিম (পাসপোর্ট নং-এফ ০০৯১৬৮৬), মনিরুল ইসলাম (পাসপোর্ট নং-এফ ০৬৪৭২৩), মৃত সুরুজ শেখ (পাসপোর্টনং- এফ ০৩৩৭৭০৮), মো. তরিকুল ইসলাম (পাসপোর্ট নং- এফ ০০৮০৬৫৮), মো. কানচন মিয়া (পাসপোর্টনং- বিবি ০১৭২৬৯৩)।

তবে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিরা কর্মরত অবস্থায় বকেয়া, দুর্ঘটনা, মৃত্যু ও ইন্স্যুরেন্সের ক্ষতিপূরণ আদায়ে দূতাবাসের সংশ্লিষ্টরা কাজ করলেও বাংলাদেশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, প্রশাসনিক ধীরগতি ও হয়রানিসহ নানান কারণে বেশিরভাগ শ্রমিকের পরিবার সময়মতো ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাইকমিশনার শহীদুল ইসলামের প্রচেষ্টায় ও সার্বিক দিক-নির্দেশনায় আইনি সহায়তায় দুর্ঘটনা, বকেয়া বেতন, মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ আদায় বাবদ নিয়মিত চেক বাংলাদেশে পাঠালেও বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতায় তা প্রত্যাশিত ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাতে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে চেকটি নগদায়নে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

ফলে চেকটি পুনরায় মালয়েশিয়ায় ফেরত পাঠাতে হচ্ছে। যে কারণে নতুন করে মালয়েশিয়ার শ্রম অফিসের মাধ্যমে চেকটি পুনরায় পেতে অনেক সময় লেগে যায়। শুধু তাই নয়, সে দেশের শ্রম অফিসের কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে মনক্ষুন্ন হচ্ছেন। এ অবস্থায় ক্ষতিপূরণ প্রত্যাশীরা একের পর এক দায়-দেনার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন।

এসএইচ-২২/১১/০৭ (প্রবাস ডেস্ক, তথ্যসূত্র : ভয়েস বাংলা)