প্রবাসীরাই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন

প্রকাশিতঃ জুলাই ১৯, ২০১৮ আপডেটঃ ৪:৩১ অপরাহ্ন

গোছানো ফুটবলে ক্রোয়েশিয়া অনেক আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত ক্রোটদের ৪-২ গোলে হারিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে ফ্রান্স। অথচ ফ্রান্সের জাতীয় দলটি সাজানো হয়েছিলো অভিবাসীদের দিয়ে। কারণ চূড়ান্ত স্কোয়াডের ২৩ জনের মধ্যে ১৬ জনই ছিলেন অভিবাসী। দলটির অভিবাসীরা দেশটির সাবেক উপনিবেশভুক্ত দেশগুলো থেকেই এসেছে। তখন কে জানতো, এই অভিবাসীরাই বিশ্বকাপ এনে দেবে ফ্রান্সকে।

১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলটির মূল নায়ক ছিলেন জিনেদিন জিদান। তিনি আলজেরিয়ান বংশোদ্ভূত। এ নিয়ে বর্ণবৈষম্যের শিকার হতে হয়েছিলো এক সময়কার বিশ্বসেরা এই তারকাকে। আলজেরিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ায় পর তাঁর বাবা-মা পালিয়ে এসে আশ্রয় নেন ফ্রান্সে। এবার বিশ্বকাপ জেতাতে মূল ভূমিকা রেখেছেন কিলিয়ান এমবাপে। তাঁর জন্ম প্যারিসে হলেও এমবাপে’র বাবা ক্যামেরুনের এবং মা আলজেরিয়ার।

বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে, রাশিয়া বিশ্বকাপের উদীয়মান সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার পাওয়া এমবাপেও একজন অভিবাসী। তবে, স্টিভ মানদানা ও স্যামুয়েল উমতিতি বাদে বাকি সব খেলোয়াড়ের জন্ম ফ্রান্সেই। ফ্রান্সের হয়ে ২৮ ম্যাচ খেলা মানদানার জন্ম কঙ্গোতে এবং ১৫ ম্যাচ খেলা উমতিতির জন্ম ক্যামেরুনে।

আরও খবর : পদ ছাড়লেন শীর্ষস্থানীয় ক্যান্সার গবেষক নাজনীন

এছাড়া, পল পগবা ফ্রান্সে জন্ম নিলেও তাঁর বাবা-মা দু’জনই গায়ানা’র বাসিন্দা ছিলেন। অর্থাৎ নাইজেরিয়া, সেনেগাল, ক্যামেরুন, আলজেরিয়া, কঙ্গো থেকে আসা অভিবাসীদের হাতেই উড়েছে ফ্রেঞ্চ পতাকা। এর মধ্যে বজানা পাঁভা ও ফ্লোরিয়ান থোভিনকে বলা যেতে পারে ‘প্রকৃত’ ফরাসি।

বাকি খেলোয়াড়দের মধ্যে মাতৌদির বাবা অ্যাঙ্গোলা ও মা কঙ্গো থেকে ফ্রান্সে আসেন। একই জায়গা থেকে এসেছিলেন এনজোনজি। এনগোলো কান্তের জন্ম ফ্রান্সে হলেও তাঁর পরিবার এসেছে মালি থেকে। বার্সায় খেলা ওসমান দেম্বেলের বাবা নাইজেরিয়া ও মা এসেছেন সেনেগাল থেকে। নাবিল ফেকিরের বাবা-মা দু’জনই আলজেরিয়ান।

অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বিশ্বের প্রায় সব দেশই কঠোর হচ্ছে। ফ্রান্সও এর বাইরে নয়। দু’দশক ধরে দেশটিতে অভিবাসীদের রুখতে আইন ও শক্তিপ্রয়োগ করে যাচ্ছে ফ্রান্সের শাসকগোষ্ঠী। সেখানকার সমাজে অভিবাসী বিরোধী আন্দোলন হচ্ছে, অভিবাসীদের বিরুদ্ধে হিংসা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

অথচ যে অভিবাসীদের ওপর ফ্রান্সের এতো নির্যাতন, তাঁরাই ফ্রান্সের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গৌরব এনে দিলেন। ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স দলেও মাত্র দু’জন ছিলেন মূল অধিবাসী। বাকিরা অভিবাসী। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের পর অনেকেই বলেছিলেন ‘দ্য রেইনবো টিম’। এবারও অনেকে বলছেন দ্বিতীয়বার শিরোপা জিততে ফরাসিরা আবারো ‘দ্য রেইনবো টিম’ কাজে লাগিয়েছে।

এক সমীক্ষায় দেখা যায়, রাশিয়া বিশ্বকাপে ইউরোপের ১০টি দেশের ২৩০ জন ফুটবলারদের মধ্যে ৮৩ জনই অভিবাসী ফুটবলার। অভিবাসী ফুটবলারের আধিক্য সবচেয়ে বেশি ছিলো ফ্রান্সে। ফ্রান্স জাতীয় দলের ৭৮.৩ শতাংশ ফুটবলার অভিবাসী। সুইজারল্যান্ডের ৬৫.২, বেলজিয়াম ও ইংল্যান্ডের ৪৭.৮, জার্মানির ৩৯.১ ও পর্তুগালের ৩০.৪ শতাংশ ফুটবলার অভিবাসী।

এসএইচ-০৬/১৯/০৭ (প্রবাস ডেস্ক)