কেন বাংলাদেশের শ্রমবাজার ছোট হয়ে আসছে?

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ আপডেটঃ ৮:৩৬ অপরাহ্ন

সৌদি আরবে বেকারত্বের হার ১২ দশমিক ৮ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে সরকারি-বেসরকারি খাতে বিদেশি শ্রমিক ছাঁটাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। সৌদির শ্রম ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী তিন ভাগে সৌদি আরবের ১২ ধরনের প্রাইভেট খাতকে সৌদিকরণ করা হচ্ছে। বুধবার থেকে এ নিয়ম কার্যকর করার ফলে সৌদি আরবে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ছোট হয়ে আসছে বলে জানিয়ে রিয়াদের একটি কূটনৈতিক সূত্র।

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, যে ১২টি সেক্টরে নিষেধাজ্ঞা আছে, তার মধ্যে গৃহস্থালি-অফিশিয়াল ফার্নিচার, পাইকারি ও খুচরা পোশাক বিক্রি ও গৃহস্থালি তৈজসপত্রের ব্যবসায় যুক্ত রয়েছেন বাংলাদেশিরা। তাই সৌদি আরবে থাকতে আগ্রহীরা কোনও ব্যবসার উপায় খুঁজছেন। আবার দীর্ঘদিন ধরে যারা ব্যবসা করছেন, তারা নতুন করে আর নতুন করে ঝামেলায় না জড়িয়ে দেশে ফেরার চিন্তা করছেন।

দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত গোলাম মসি বলেন, সৌদি সরকার একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখনও বাস্তবায়ন করেনি। তবে ধীরে ধীরে করবে। আমাদেও লোকজন কিছুটা হলেও গ্রস্থ হবে। তবে আমরা চেষ্টা করছি, নতুন নতুন সেক্টরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

সৌদির শ্রম ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রন্ত্রী আলী আল ঘাফিস গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিদেশি শ্রমিকের স্থলে সৌদি নাগরিকদের নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত মানা না হলে শ্রম আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশটির শ্রম ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় বলছে, সৌদি নাগরিকদের মধ্যে বেকারত্ব কমিয়ে আনতেই ১২ ধরনের প্রাইভেট খাতকে সৌদিকরণ করছে তারা। এই ১২টি খাতে দেশটির নারী-পুরুষ ছাড়া অন্য কোনও দেশের নাগরিকরা এখন থেকে কাজ করতে পারবেন না। খাতগুলো হলো- মোটরযান এবং এর যন্ত্রাংশ খুচরা বা পাইকারি বিক্রয় কেন্দ্র, পাইকারি ও খুচরা পোশাক, কাপড়-জুতা-প্রসাধনী বিক্রয় কেন্দ্র, গৃহস্থালি-অফিসিয়াল ফার্নিচার বিক্রয় কেন্দ্র, গৃহস্থালি তৈজসপত্র এবং হাঁড়ি-পাতিল বিক্রয় কেন্দ্র।

এ ছাড়া দ্বিতীয় ধাপে ১০ নভেম্বর থেকে পাইকারি ও খুচরা ইলেক্ট্রনিক ও ইলেক্ট্রিক জিনিসপত্র বিক্রয় কেন্দ্র, ঘড়ি বিক্রয় কেন্দ্র, চশমা বিক্রয় কেন্দ্র সৌদিকরণ করা হবে। তৃতীয় ধাপে আগামী বছরের ৮ জানুয়ারি থেকে ফার্মেসি, হেল্থ ও হাসপাতাল সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি, নির্মাণ সামগ্রী বিক্রয় কেন্দ্র, কার্পেট বিক্রয় কেন্দ্র, চকলেট ও মিষ্টান্ন বিক্রয় কেন্দ্র সৌদিকরণ করা হবে। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া শ্রমিকদের বড় একটা অংশ এসব খাতের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাদেরকে দেশে ফিরতে হবে নয়ত, অন্যকোনো কাজ খুঁজে নিতে হবে।

এসএইচ-১৮/১২/০৯ (প্রবাস ডেস্ক)