মালয়েশিয়ার বুকে এক টুকরো বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০১৯ আপডেটঃ ২:৫৩ অপরাহ্ন

সেই চিরচেনা বাংলাদেশ ফেলে খুঁজে পেয়েছে এক টুকরো বাংলাদেশ মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের পার্শ্ববর্তী জহুর বারুতে। বিশ্বাস না হলেও এটাই বাস্তব। আর বিশ্বাস না হওয়ারই কথা। প্রবাস কখনো স্বদেশ হয় না। কিন্তু এমনই একটা স্থানের সন্ধান মিলছে সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া সাগরের তীরবর্তী স্থান ফরেষ্ট সিটি নামক মালয়েশিয়ার জহুর প্রদেশে। হাজার হাজার বাংলাদেশি শ্রমিকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার যানজট আর মুখোরোচক খাবারের কথা মনে করিয়ে দিবে এই জায়গা। আর এর সৌন্দয্য উপভোগ করতে হলে আপনাকে যেতে হবে সন্ধা ৭টার পরে। এই সিটিতে যেতে হলে মেইন গেটে পুলিশের কাছ থেকে ৭ দিনের ভিজিটর পাশ নিতে হবে। যার জন্য গুণতে হবে ৫ রিঙ্গিত যা বংলাদেশি ১০০ টাকা। আর এই সিটিতে কর্মরত হলে ৬ মাসের পাসের জন্য গুনতে হবে ১০ রিঙ্গিত। সারা দিন মুদিখানা, হোটেল, রেষ্টুরেন, সেলুন, মোবাইল শোরুম গুলি খোলা থাকলেও সন্ধার পরে রাস্তার দুই পাশে পসরা সাজিয়ে খোলা হয় হরেক রকম দোকান।

তবে ফুসকা চটপটি, হালিম, চিতই পিঠা, কাচ্চিবিরিয়ানি, তেহরী,আর ফল ও ঔষধি দোকানগুলোতেই বেশি ভিড়জমে থাকে। তবে বসে নেই হোটেল রেস্তরাঁ মালিকরাও। নান রুটি আর, গ্রিল চাড়াও আছে নানান রকম শুটকি ভর্তা, সাথে আছে শরষে ইলিশ, ভাজা ইলিশ, আছে লইট্যা মাছের ভুনা সহ কয়েক প্রকার মাছ,সবজী,গরুর মাংস, খাসি, মোরগি, সব মিলিয়ে একটা দোকানে ১৫-২০ আইটেম তরকারি।

এই সব হেটেলে খেতে গেলে আপনি মনের অজান্তে হারিয়ে যাবেন কোথায় আছেন। খাওয়া শেষে হোটেল থেকে বের হতেই পাবেন হোটেলের সাথে লাগোয়া পানের দোকান, সেখানেও পাবেন কয়েক রকম পান, মিষ্টি পান, জদ্দা পান, আবার জদ্দার মাঝে খুঁজে নিতে হবে আপনার পছন্দের আইটেম। এই সিটিতে ৫০০+ দোকান যার ৮০% বাংলাদেশি মালিকানা।

প্রতিটা দোকানের সামনেই বাংলা লেখা সম্বলিত সাইনবোর্ড। প্রতিদিনই জবেহ হচ্ছে কয়েকটা গরু, কাচাঁ বাজারেও মিলছে তরতাজা শাক সবজি, মাছ, মোরগ দামও আপনার নাগালের মধ্যেই। আছে দেশিও ভিবিন্ন ব্যন্ডের টিশার্ট লুঙ্গিসহ যাবতীয় পোশাক। এই সিটির বিভিন্ন ক্যাম্পে প্রায় লক্ষাধিক লোকের বসবাস তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। কেউ কেউ আছেন আবার পরিবার পরিজন নিয়ে।

মালয়েশিয়া যদিও লুঙ্গি পরে কেউ বাহির হয় না, কিন্ত এই সিটিতে দেখবেন অধিকাংশ লোকই যেন বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখায় ব্যস্ত।রাস্তায় অন্য মনষ্ক হয়ে হাটতে গেলে হয়তো জুতো হারাবেন আর নয়তো আপনাকে আবিষ্কার করতে হবে মানুষের পায়ের নিচ থেকে, বিশেষ করে সন্ধার পরে,সব কিছু মিলিয়ে আপনি বুঝেতেই পারবেন না আপনি প্রবাসে নাকি বাংলাদেশে। প্রবাসীরা এমন এক স্থানে আছেন, একটা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যা কিছু প্রয়েজন সব কিছুই পাবেন। শত কষ্টের মধ্যেও হারিয়ে যায় বাংলাদেশে।

যদিও এই মিনি বাংলাদেশের স্থায়ীত্ব কারো জানা নেই। কতদিন এভাবে চলবে। তবুও কেউ পিছিয়ে নেই ব্যবসায়ী ক্ষেত্রে।

বাংলাদেশি দোকান মালিকদের সাথে কথা বলে পর্যায় জানা গেল। এই সিটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে ২০৩০ সালে। কিন্ত এইসব প্রতিষ্ঠানের স্থায়িত্ব নিয়ে কেউ মন্তব্য করতে পারছেন না।

এক ব্যবসায়ী জানান, বর্তমান মার্কেট এর স্থানে বিমান বন্দর হবে, আর কাজ শুরু হলেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে এই মিনি বাংলাদেশ। তারপরও থেমে নেই ব্যবসা। এভাবে খুঁজে পাওয়া যাবে বাংলাদেশের প্রবাসীদের মিলন মেলা।

এসএইচ-০৬/১৭/১৯ (প্রবাস ডেস্ক)