প্রতারনায় নিঃস্ব হয়ে ফিরছে বাংলাদেশীরা

প্রকাশিতঃ ডিসেম্বর ২, ২০১৯ আপডেটঃ ৩:৩৬ অপরাহ্ন

সংসারে হাসি ফোটাতে বৈধ এবং অবৈধ পন্থায় মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করে প্রতারণার শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশীরা। এক প্রকার প্রতারনায় নিঃস্ব হয়ে মালয়েশিয়া ত্যাগ করেছে অবৈধ বাংলাদেশীরা। এজেন্টকে লক্ষাধিক টাকা দিলেও ভিসা মেলেনি মালয়েশিয়া সরকারের দেওয়া বৈধ হওয়ার সুযোগে। দীর্ঘদিন বৈধ হওয়ার আশায় মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে ভিসা হবে বলে আশায় বুক বাঁধলেও, শেষ পর্যন্ত সে দেশের সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে বৈধতা হারায় প্রায় ৩ লাখ বাংলাদেশী।

বৈধতা না পেয়ে আশায় বুক বেঁধে ছিলেন বৈধতা পাবেন তারা। পাসপোর্ট এজেন্টের কাছে জমা থাকার কারণে মাঝেমধ্যেই তারা এজেন্টকে টাকা দিতো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভিসা তো দুরের কথা, পাসপোর্ট পর্যন্ত ফেরত পায়নি বহু বাংলাদেশী। কথা গুলো বলছিলেন নরসিংদীর সোহরাব হোসেন।

মালয়েশিয়ার কলকারখানা খ্যাত পেনাং শহরের বাংলাদেশি জিল্লু এই প্রতিবেদককে বলেন, আমিন নামে এক বাংলাদেশীর কোম্পানিতে বৈধ হওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করার পরেও বৈধতা পাইনি শতাধিক বাংলাদেশী। কিন্তু বৈধতা না পেলেও প্রত্যেকের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ৮০ থেকে ১ লক্ষ টাকা করে। অবশেষে সরকারের দেওয়া ব্যাগ ফর গুডের আওতায় দেশে ফিরছি আমরা।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে অবৈধ কর্মীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দিয়েছিল মালয়েশিয়ার সরকার। দেশটির সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৬২৭ জন বাংলাদেশি আবেদন করেন। তবে বাংলাদেশ হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বৈধ হতে আবেদন করেন প্রায় ৬ লাখ। শেষ পর্যন্ত বৈধ হওয়ার সুযোগ পান ২ লাখ ৮০ হাজার ১১০ জন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে সাগর পথে অবৈধ অভিবাসী হয়ে স্বপ্নের দেশ মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেন অনেক বাংলাদেশী। আবার অনেকে ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে আর দেশে ফেরেন না, অনেকে স্টুডেন্ট ভিসায় মালয়েশিয়া গিয়ে কলেজে যান না, ফলে দেশটিতে প্রবেশের পরেই অবৈধ হয়ে যান তারা। ইমিগ্রেশন পুলিশের কড়া অভিযানে প্রতিনিয়ত গ্রেপ্তার হচ্ছে অবৈধ অভিবাসী বাংলাদেশীরা। ফলে গ্রেপ্তার হয়ে মালয়েশিয়ার জেলে জীবন পার করছেন বহু বাংলাদেশী।

অনেকেই একটি টিকিটের অভাবে মাসের পর মাস ডিটেনশন ক্যাম্পে অবস্থান করছে। বর্তমান সরকারের দেওয়া সুযোগ শেষ হবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯। একদিকে চলছে অবৈধদের দেশে ফেরার সুযোগ অন্যদিকে চলছে ধরপাকড় অভিযান। যার কারনে দিশেহারা বাংলাদেশিরা মালয়েশিয়া সরকারের দেওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশে ফিরে যাচ্ছে নিঃস্ব হয়ে। সেদেশের এজেন্টের প্রতারণার শিকার হয়নি এমন বাংলাদেশি খুঁজে পাওয়া কঠিন।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসন বিভাগের প্রধান দাতুক খায়রুল দাজামি দাউদ স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে জানান, জানুয়ারি থেকে আমরা দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করব। তিনি আরো বলেন, অবৈধ অভিবাসী এবং নিয়োগকর্তাদের মালয়েশিয়ার আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হতে হবে হবে।

এসএইচ-০৭/০২/১৯ (প্রবাস ডেস্ক)