রাত ৮:৫১
রবিবার
১৭ ই অক্টোবর ২০২১ ইংরেজি
২ রা কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
১০ ই রবিউল-আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

আমরা বাংলাদেশের পক্ষে: বাঁধন (ভিডিও)

আমরা বাংলাদেশের পক্ষে

এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করেছে। নির্বাচন সুষ্ঠু হোক এমন প্রত্যাশা সবার।দেশজুড়ে শুরু হয়ে গেছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। এতে যুক্ত হয়েছেন তারকারাও।

প্রকাশ হচ্ছে বিভিন্ন ভিডিও বার্তা। এমনি এক ভিডিও বার্তায় দেখা গিয়েছে ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে।

ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আমার কাছে বাংলাদেশ মানে বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে নিয়ে দেখেছিলেন হাজারো স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন গুলো এক এক করে বাস্তবায়ন হতে দেখেছি তাঁর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। এই উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের পক্ষে।

আরএম-০১/১২/১২ (বিনোদন ডেস্ক)

দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়ে বিরক্ত ঈশান্ত শর্মা

২০০৩ সালের পর আবার ২০১৮। সৌরভের পর আবার অ্যাডিলেডে টেস্ট জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করলেন বিরাট। ভারত-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট ক্রিকেটে গত ৭০ বছর ধরে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে। ৭০ বছরে এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ায় কোন টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিতল ভারত। স্বাভাবিকভাবেই খুশিতে ভাসছে গোটা দল।

বিরাট কোহলি, রবি শাস্ত্রীর খুশি হওয়ার কারণ তো আরও বেশি। একই ক্রিকেট বর্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ জেতা হয়ে গেল এই জুটির। এমন আনন্দঘন মুহূর্তে কি না মন খারাপ করে বসে আছেন দলেরই সিনিয়র ক্রিকেটার। দলের পারফরম্যান্সের জন্য নয়, নিজের পারফরম্যান্সের কারণেই মন খারাপ ঈশান্ত শর্মার।

যশপ্রীত বুমরাহরে একটা নো বলেই সেবার ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হাতছাড়া হয়েছিল ভারতের। ফকর জামানের শতরান ট্রফি থেকে দূরে ঠেলে দিয়েছিল বিরাটদের। এবার অ্যাডিলেডেও খাদের কিনারে পৌঁছে গিয়েছিল ভারতীয় দল। সেখান থেকে ৩১ রানে জয় ছিনিয়ে আনলেও ভারতীয় শিবিরকে চিন্তায় রাখছে বোলিং ডিপার্টমেন্ট। বিশেষ করে ঈশান্তকে।

এক নয়, একাধিক নো বল করে ভারতের জয়ের সময়কে আরও তরান্বিত করেছেন ঈশান্ত। প্রথমে অ্যারন ফিঞ্চ, পরে শন মার্শ এবং সব শেষে নাথান লায়ন। এই তিন জনই শিকার হতে পারত ঈশান্তের। তবে সেটা হয়নি তার ভুলেই। একের পর এক নো বলে করেই উইকেট হাতছাড়া যেমন করেছেন তেমনই দলকে বিপদের দিকেও ঠেলে দিয়েছিলেন তিনি।

ঠিক সময়ে মার্শের উইকেট না পড়লে এই ম্যাচের ভবিষ্যৎ অন্য কিছুও হতে পারত। এটা ভেবেই মন খারাপ ঈশান্ত শর্মার। দলের একজন সিনিয়র ক্রিকেটার হয়েও কীভাবে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিলেন তিনি, এই ভেবেই বিরক্ত ঈশান্ত শর্মা।

অ্যাডিলেড টেস্ট জয়ের পর সাংবাদিক সম্মেলনে এসে ঈশান্ত শর্মার মন খারাপের কথা অবলীলায় জানিয়েছেন বিরাট। তিনি জানান, “ঈশান্ত ছাড়া আমরা সবাই আনন্দ করছি। ও নিজের ওপরই ক্ষুব্ধ, বিরক্ত।” তবে বিরাট কোহলি আশাবাদী, পার্থ টেস্টে এই ভুল আর করবেন না ঈশান্ত। বরং যে দায়িত্বের সঙ্গে তিনি ক্রিকেট খেলছেন, তাতে মুগ্ধ বিরাট কোহলি।

এসএইচ-০৪/১২/১২ (স্পোর্টস ডেস্ক)

দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে গণধোলাই

দ্বিতীয় বিয়ে করতে যাওয়াটাই বিপদ ডেকে আনল যুবকের। পাত্রীর পরিবারের লোকেদের হাতে গণধোলাই খেয়ে থানার দ্বারস্থ ভারতের বিহারের যুবক।  শরীরে মারধরের চিহ্ন নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধেয় গার্ডেনরিচ থানায় হাজির হয় এক যুবক। পুলিশ আধিকারিকদের কাছে সে অভিযোগে জানিয়েছে, দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে পাত্রীপক্ষের হাতে তাকে গণধোলাই খেতে হয়েছে। এমন অভিযোগ পেয়ে পুলিসও অবাক। যদিও ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, শাহরুখ নামে ওই যুবকের আসল বাড়ি বিহারের ভাগলপুর জেলার তাতারপুর থানা এলাকায়। সেখানে রয়েছে তার সংসার। পুলিশের কাছে সে স্বীকার করেছে যে, তার স্ত্রীর নাম আমরিন। তিনি থাকেন ভাগলপুরে। কাজের সূত্রে বছর কয়েক আগে কলকাতায় আসে শাহরুখ। টাকা রোজগারের রাস্তা পেয়ে গেলেও স্ত্রী–র অভাব বোধ করত যুবকটি। মাঝেমধ্যে স্ত্রীর সঙ্গে কথা হত। কলকাতায় একা থাকতে আর ইচ্ছা করত না। তাই মাস কয়েক আগে হঠাৎই শাহরুখ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে, একাকীত্ব কাটাতে এবার কলকাতায় একটা বিয়ে করতেই হবে।

সম্প্রতি গার্ডেনরিচের এক যুবতীকে পছন্দ হয় শাহরুখের। ধীরে ধীরে যুবতীর সঙ্গে আলাপ। তারপর তাঁর পরিবারের লোকেদের সঙ্গে। শেষে বিয়ের প্রস্তাবই দেয় শাহরুখ। যদিও এই বিয়ে যে দ্বিতীয়, তা কনেপক্ষকে একবারও জানায়নি শাহরুখ। তাই কনেপক্ষের দিক থেকেও আপত্তি আসেনি। গার্ডেনরিচের বিচালিঘাটের কাছে মঙ্গলবার সন্ধেয় বসে বিয়ের আসর। শাহরুখ সেজেগুজে তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে পৌঁছায় বিয়ের আসরে।

কিন্তু পাত্র জানত না যে, বিয়ের দিন ঠিক হওয়ার পর থেকে তার বিষয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে পাত্রীর বাড়ির লোকেরা। আর খোঁজখবর নিতে গিয়েই তাঁরা জেনে অবাক হন যে, পাত্র বিবাহিত। তাঁরা পাত্রকে এই বিষয়ে কিছুই বলেননি। বিয়ের দিন পাত্রীর বাড়ি পৌঁছনোর পর মিষ্টি দিয়ে অ্যাপ্যায়নের বদলে জুটল মার।

শাহরুখের অভিযোগ, তাকে চড়, কিল, ঘুসি মেরে পাত্রীপক্ষের লোকেরা বলেন, ‘‌প্রথম বউ থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় বিয়ে করতে আসার কারণে এই গণধোলাই।’‌ শাহরুখ প্রতিবাদ করে উঠলে তাকে লাঠি দিয়েও বেদম মারা হয় বলে অভিযোগ। যদিও শাহরুখের অভিযোগ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। তাই তদন্ত শুরু করে যাঁরা গণপিটুনি দিয়েছেন, তাঁদের শনাক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এসএইচ-০৩/১২/১২ (অনলাইন ডেস্ক, তথ্য সূত্র : অাজকাল)

নারী ক্রিকেটার চামেলী পেলেন নতুন জীবন

বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় চামেলী খাতুন পেলেন নতুন জীবন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সার্বিক সহযোগিতায় দীর্ঘ দেড় মাসের চিকিৎসা শেষে ঢাকা থেকে বেসরকারি বিমান নভোএয়ারের একটি ফ্লাইটে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী হযরত শাহমুখদুম বিমানবন্দরে পৌছান। এর অাগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর থেকে বেসরকারি বিমান জেট এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ঢাকা হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌছান।

মুলত চামেলীর দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে চিকিৎসা করা হয় ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে। শীর্ষ পর্যায়ের স্পর্শ বেসরকারি অর্থপেডিক হাসপাতালের ডাক্তারের তত্ত্বাবধায়নে ১৭ দিন ধরে তাঁর চিকিৎসা চলে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে মহানগরীর দরগাপাড়া এলাকার নিজ বাড়িতে ফেরেন পদ্মা পাড়ের এই মেয়ে। অাগামী তিন মাস পর অাবার তাঁকে চেকঅাপের জন্য যেতে হবে ভারতে। প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ি তাঁকে ৫ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে বুধবার সকালে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে জানান এই অলরাউন্ডার।

চামেলী জানান, আগের তুলনায় অনেকটা সুস্থ্যবোধ করছেন এখন। তবে দীর্ঘ এই জার্নির কারেন পা কিছুটা ফুলেছে। তবে তা সেরে যাবে। চিকিৎসকের পরামর্শে ধীরে ধীরে চলাফেরার চেষ্টাও করছেন। তবে এখনও সেভাবে পারছেন না। ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর শীর্ষ পর্যায়ের স্পর্শ বেসরকারি অর্থপেডিক হাসপাতালে চামেলীর ডান পায়ের লিগামেন্টের অস্ত্রোপচার হয়েছে ২৬ নভেম্বর। দু’দিন হাসপাতালে অবজারভেশেন থাকার পর ড্রেসিংসহ অন্যান্য চিকিৎসার জন্য ৯ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকতে হয় তাঁকে। এসময় কালিন থাকেন হাসপাতালের ঠিক দক্ষিণে দুই মিনিটের হাঁটা পথে সোয়েতা গেস্ট হাউজে। এখান থেকেই প্রতিদিনের ড্রেসিং আর অন্যান্য চিকিৎসা নেন। ৮ ডিসেম্বরঐ হাসপাতালে সেলাই কাটার কথা থাকলেও অপারেশনস্থানের সার্বিক বিবেচনা করে অাগামী ২২ ডিসেম্বর সেলাই কাটার পরামর্শ দেয়া হয়েছে তাঁকে। স্থানীয় হাসপাতালেই তা কাটা হবে।

স্পর্শ হাসপাতালের অর্থপেডিকের ডা. প্রশান্ত তেজওয়ানির বরাত দিয়ে তিনি জানান, পায়ের পরিস্থিতি উন্নতির দিকে রয়েছে। পুরোপুরি সেরে উঠতে আরও এক বছর সময় লাগবে। বর্তমানে স্ট্রেচারে ভর দিয়ে অন্য সদস্যের সাহায্য নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে। এইভাবে চলবে ছয়মাস। তারপর স্বাভাবিকভাবে পা ফেলতে পারবেন। এ সময়ের মধ্যে তাঁকে নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হবে এবং কিছু ফিজিওথেরাপি নিতে হবে। অাগামী বছরের মার্চে অাবারো তাঁকে যেতে হবে ভারতের ঐ হাসপাতালে চেকঅাপের জন্য। এই তিন মাসের সার্বিক চিকিৎসার সবকিছু বুঝিয়ে দিয়েছেন পদ্মা পাড়ের এই মেয়েকে। এক বছর পর মাঠে ফিরতে পারবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার অালম, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান পাপন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, সদর অাসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশাসহ সকল শুভাকািঙ্খদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে চামেলী বলেন, সকলের সার্বিক সহযোগিতার কারনে নতুনভাবে জীবন ফিরে পেলেন। নইলে হয়ত ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা তাঁরপক্ষে করা সম্ভব হতনা।

২০১১ সালে ক্রিকেটার চামেলীর পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন থেকে অবস্থান করছিলেন রাজশাহী মহানগরীর দরগাপাড়ার জরাজীর্ণ বাড়ির একটি ঘরে। বিষয়টি পদ্মানিউজ২৪ ডটকমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে অনেকেই তার পাশে এসে দাঁড়ান। এ সময় তার চিকিৎসার সকল দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত ২ নভেম্বর রাজশাহী থেকে ঢাকা নিয়ে ভর্তি করা হয় জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতালে) ২১৬ নং কেবিনে। সেখানে প্রাথমিক পর্যায়ের পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে হাসপাতালেই চিকিৎসার প্রস্তুতি শরু হয়। কিন্তু চামেলী দাবি করেন ভারতে চিকিৎসার জন্য। তার দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় ভারতে। গত ২৩ নভেম্বর চিকিৎসার জন্য ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর যান। সেখানকার বেসরকারী স্পর্শ অর্থপেডিক হাসপাতালে ভর্তি হন ২৫ নভেম্বর।

বাংলাদেশ জাতীয় নারী দলের হয়ে ১৯৯৯ থেকে ২০১১ পর্যন্ত মাঠ মাতিয়ে বেড়িয়েছেন চামেলী খাতুন। ২০১০ সালের এশিয়া কাপের রানার আপ হওয়া দলের হয়ে মাঠ মাতান এই দাপুটে ক্রিকেটার। এর বাইরে ঢাকা বিভাগে খেলেছেন টানা। দুই মৌসুম শেখ জামালের ক্যাপ্টেন হিসেবে সামনে থেকে টেনে নিয়ে গেছেন দলকে। সেই তিনিই পরাস্ত হন ইনজুরিতে। এখন তার চিকিৎসা চলছে।

পড়ুন : দেশে ফিরেছেন চামেলী

এসএইচ-০২/১২/১২ (সুমন হাসান)

স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ

চূড়ান্ত বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে বীর বাঙালী। দেশের অধিকাংশ অঞ্চলই কার্যত স্বাধীন। বিশ্বের মানচিত্রে ৫৫ হাজার বর্গমাইলের দেশটি জন্মের ঠিক আগ মুহূর্তে পাক হানাদারদের পক্ষে নগ্ন হয়ে মাঠে নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। প্রভাবশালী এই দুটি দেশ পাকিদের পরাজয় ঠেকাতে মরিয়া। যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে এ দুটি দেশের শেষ চেষ্টা আবারও ব্যর্থ হয়। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের দীর্ঘ বক্তব্যের পর অধিবেশন মুলতবি হয়ে যায়। স্বাধীনতার পথে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে যায়।

১২ ডিসেম্বর, ১৯৭১। একাত্তরের রক্তঝরা এ দিনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল গুল হাসান টেলিফোন করে জেনারেল নিয়াজীকে আশ্বস্ত করেন, ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ উভয় দিক থেকে বন্ধুরা এসে পড়বেন। গুল হাসানের কাছ থেকে এ আশ্বাস শুনে ঢাকায় পাকিস্তানি সামরিক কর্তৃপক্ষ নিজেদের প্রতিরক্ষার আয়োজন নিরঙ্কুশ করতে ২৪ ঘণ্টার জন্য কারফিউ জারি করে ঘরে ঘরে তল্লাশি চালায়। এ সময় পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এ দেশীয় দোসর আলবদর বাহিনী মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সহানুভূতিশীল পেশাজীবী ও বুদ্ধিজীবীদের আটক ও হত্যা শুরু করে।

চীন এ সময় পাকিস্তানি ঘাতকদের সমর্থনে পুরোপুরি অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আজকের দিনে পিকিং রেডিও ঘোষণা করেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন ভারতের মাধ্যমে মূলত চীনকেই দমন করতে চায়। বিশ্বে আধিপত্য বিস্তারকেই ভারতের মাধ্যমে ‘তথাকথিত’ বাংলাদেশ সমর্থনের অন্যতম কারণ। এছাড়াও আজকের এ দিনে চীনা প্রতিনিধি হুয়াং হুদা নিউইয়র্কে আলেকজান্ডার হেগকে জানান, চীন কেবল আরেকবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে আগ্রহী। উপমহাদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের ব্যাপারে আগ্রহী নয়। কিন্তু চীন-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারতসহ মিত্র দেশগুলো।

চারিদিকে শুধুই মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয়, আর পাক হানাদারদের পরাজয়ের খবর। একাত্তরের এদিনে গাইবান্ধা, নরসিংদী, সরিষাবাড়ী, ভেড়ামারা, শ্রীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা শত্রুমুক্ত হয়। ঢাকাবাসী এ সময় রয়েছেন অভীষ্ট আনন্দ আর অজানা আশঙ্কার এক অদ্ভুত দোলাচলে। অতি কট্টর পাকিস্তান সমর্থকরাও এখন আর দেশটির অখ-তা সম্পর্কে বড় কথা বলার সাহস দেখাচ্ছে না। স্বাধীনতার ওই মাহেন্দ্রক্ষণটি কখন আসবে সেই মুহূর্তটি দেখতে অধীর অপেক্ষায় ঢাকাবাসী।

এদিকে ঢাকা বিজয় করতে চারদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনী ঘেরাও করে ফেলে। ডিসেম্বরের এ দিন বিকেলেই ভারতের চার গার্ডস ইউনিট ঢাকার ডেমরা ঘাটের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে যায়। সূর্যাস্তের আগেই জামালপুর ও ময়মনসিংহের দিক থেকে জেনারেল নাগরার বাহিনী টাঙ্গাইলে প্যারাস্যুট ব্যাটালিয়নের সঙ্গে যুক্ত হয়। এর ফলে ঢাকা অভিযানের সর্বাপেক্ষা সম্ভাবনাপূর্ণ পথের ব্যবহার শুরু করা সম্ভব হয়ে ওঠে।

দেশের বীর সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা হামলা ও যৌথবাহিনীর ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে ভীত সন্ত্রস্ত পাকিস্তানি বাহিনী বিভিন্ন এলাকার ক্যাম্প ছেড়ে পালাতে থাকে। নিজ ভূমির সার্বভৌমত্ব ও পৃথক একটি পতাকার জন্য তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের আপামর জনসাধারণ মরিয়া হয়ে ওঠে। কেন্দ্রীয় সরকারের অন্তহীন বৈষম্য আর নিপীড়নের বন্দীদশা থেকে মুক্ত হওয়ার দুর্বার আন্দোলনের শেষ অধ্যায়ে পৌঁছে গেছে বীর বাঙালী।

এদিন বঙ্গোপসাগর থেকে ২৪ ঘণ্টার দূরত্বে মার্কিন সপ্তম নৌবাহিনী নিশ্চল দাঁড়িয়েছিল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ততদিনে পাকিস্তানি বাহিনী পালিয়েছে। অধিকাংশ অঞ্চলই তখন কার্যত স্বাধীন হয়ে পড়ে। আর ঢাকার বিজয় নিশ্চিত করা তখন শুধু সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

 এসএইচ-০১/১২/১২ (অনলাই্ন ডেস্ক)

নির্বাচনী সমন্বয় কমিটি করেছে ঐক্যফ্রন্ট

ফাইল ছবি

নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘নির্বাচনী সমন্বয় কমিটি’ গঠন করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় বিজয়নগরস্থ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কার্য্যালয়ে ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় ও মহানগর সমন্বয় কমিটির এক সভায় ওই কমিটি গঠিত হয়।

নির্বাচনকালীন সমন্বয় কমিটির প্রধান করা হয়েছে গণফোরাম নেতা জগলুল হায়দার আফ্রিক। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-আ. ও. ম. শফিকুল্লাহ,এড. শাহ মোহাম্মদ বাদল , গূলজার হোসেন, আজমেরি বেগম ছন্দা, শহিদ্দুলাহ কায়ছার, মমিউল্লাহ, হাবিবুর রহমান, শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, মোবারক হোসেন, এম এ ইউনুস, নুরুল আফছার, নুরুল হুদা মিলু চৌধুরী।

উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন ঐক্যফ্রন্টের ঢাকা মহানগরীর সমন্বয়ক বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আব্দুস সালাম। সভায় প্রধান অতিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের প্রধান সমন্বয়ক সাবেক উপ-মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জনাব বরকত উল্লাহ্‌ বুলু।

সভায় ফ্রন্টের নেতারা নিজ নিজ আসনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং প্রতিটি আসনের জন্য যৌথ ভাবে একটি করে লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বিএ-১৯/১১-১২ (ন্যাশনাল ডেস্ক)

“বিজয় দিবস,দিবসেই সীমাবদ্ধ”

“বিজয় দিবস-দিবসেই সীমাবদ্ধ” এই বিষয় দিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক প্রতিযোগিতা। রাজশাহী কলেজের আয়োজনে মহান বিজয় দিবস- ২০১৮ উপলক্ষে রোববার থেকে ৪ দিনব্যাপী এই বিতর্ক প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

এই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় কলেজের ২২টি বিভাগের শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। এই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় পর্যায়ক্রমে কলেজের সকল বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ৭১ এর সার আমাদের সংস্কৃতিরর মাটিকে উর্বর করতে পারেনি এই বিষয়ে সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিফাইনালে আরবী বিভাগের মুখোমুখি হয় উচ্চ মাধ্যমিক, এবং দর্শন বিভাগের সাথে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিযোগিতা হয়। এতে বিজয়ী হয় উচ্চ মাধ্যমিক ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ।

আগামীকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় কলেজের তৃতীয় বিজ্ঞানের ৪০১ নম্বর কক্ষে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে সমাজবিজ্ঞানের মুখোমুখি হবে উচ্চ মাধ্যমিক।

রাজশাহী কলেজ সমাজবিজ্ঞান বিতর্ক ক্লাব ( আরসিএসডিসি) এই বিতর্ক প্রতিযোগিতাটির পরিচালনা করছে। এবং এর সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল মালেক সরকার।

বিভিন্ন পর্বের বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন উদ্ভিদবিদ্যার সহকারী অধ্যাপক ডঃ মোঃ শরিফুল ইসলাম, সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডঃ মোঃ আব্দুর রহমান, অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক ডঃ নাহিদা আফরোজ, ইংরেজির প্রভাষক স্যামসন হাসদা, আরবীর সহযোগী অধ্যাপক মোঃ নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

বিএ-১৮/১১-১২ (নিজস্ব প্রতিবেদক)

দেশে ফিরেছেন চামেলী

ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর স্পর্শ বেসরকারি অর্থপেডিক হাসপাতালে দুসপ্তাহের অধিক সময় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন মঙ্গলবার বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় চামেলী খাতুন। বেসরকারি বিমান জেট এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌছান। শনিবার দুপুরে তাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দিয়েছেন। ফের অাগামী তিন মাস পর অাবারো তাঁকে চেকঅাপের জন্য ঐ হাসপাতালে যেতে হবে। এ তথ্য নিশ্চিত করেন চামেলী। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ রাজশাহী হযরত শাহমুখদুম বিমানবন্দরে পৌছাবেন। ফিরবেন মহানগরীর দরগাপাড়া এলাকার নিজ বাড়িতে। তিন মাসের সার্বিক চিকিৎসার সবকিছু বুঝিয়ে দিয়েছেন পদ্মা পাড়ের এই মেয়েকে। অাগামী ২২ ডিসেম্বর স্থানীয় ডাক্তারের মাধ্যমে তাঁর অপারেশেনর সেলাই কাটা হবে বেল জানান সাবেক এই অলরাউন্ডার।

ডা. প্রশান্ত তেজওয়ানির বরাত দিয়ে তিনি জানান, পায়ের পরিস্থিতি উন্নতির দিকে রয়েছে। পুরোপুরি সেরে উঠতে আরও ছয় মাস লাগবে। এক বছরের মধ্যে মাঠে ফিরতে পারবেন তিনি। এ সময়ের মধ্যে তাঁকে নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হবে এবং কিছু ফিজিওথেরাপি নিতে হবে।

চামেলী জানান, আগের তুলনায় অনেকটা সুস্থ্যবোধ করছেন এখন। তবে দীর্ঘ এই জার্নির কারেন পা কিছুটা ফুলেছে। তবে তা সেরে যাবে। চিকিৎসকের পরামর্শে ধীরে ধীরে চলাফেরার চেষ্টাও করছেন। তবে এখনও সেভাবে পারছেন না।

ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর শীর্ষ পর্যায়ের স্পর্শ বেসরকারি অর্থপেডিক হাসপাতালে চামেলীর ডান পায়ের লিগামেন্টের অস্ত্রোপচার হয়েছে সপ্তাহ খানেক আগে। অস্ত্রোপচার শেষে হাসপাতালের ঠিক দক্ষিণে দুই মিনিটের হাঁটা পথে সোয়েতা গেস্ট হাউজে থেকেই প্রতিদিনের ড্রেসিং আর এই কয়দিনের সুষ্ঠু চিকিৎসা নেন। তার সঙ্গে ভারতে ছিলেন তার বড় বোনের মেয়ে মুশফিকা রোজি এবং বোনের ছেলে মোহাম্মদ রায়হান।

উল্লেখ্য, চামেলীর পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন থেকে অবস্থান করছিলেন রাজশাহী মহানগরীর দরগাপাড়ার জরাজীর্ণ একটি ঘরে।
বিষয়টি পদ্মানিউজ২৪ডটকমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে অনেকেই তার পাশে এসে দাঁড়ান। এ সময় তার চিকিৎসার সকল দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত ২ নভেম্বর রাজশাহী থেকে ঢাকা নিয়ে ভর্তি করা হয় জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতালে) ২১৬ নং কেবিনে। সেখানে প্রাথমিক পর্যায়ের পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে হাসপাতালেই চিকিৎসার প্রস্তুতি শরু হয়। কিন্তু চামেলী দাবি করেন ভারতে চিকিৎসার জন্য। তার দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় ভারতে।

বাংলাদেশ জাতীয় নারী দলের হয়ে ১৯৯৯ থেকে ২০১১ পর্যন্ত মাঠ মাতিয়ে বেড়িয়েছেন চামেলী খাতুন। ২০১০ সালের এশিয়া কাপের রানার আপ হওয়া দলের হয়ে মাঠ মাতান এই দাপুটে ক্রিকেটার। এর বাইরে ঢাকা বিভাগে খেলেছেন টানা। দুই মৌসুম শেখ জামালের ক্যাপ্টেন হিসেবে সামনে থেকে টেনে নিয়ে গেছেন দলকে। সেই তিনিই পরাস্ত হন ইনজুরিতে। এখন তার চিকিৎসা চলছে।

পড়ুন : ক্রিকেটার চামেলী হাসপাতলের ছাড়পত্র পেয়েছেন, ফিরছেন মঙ্গলবা

এসএইচ-১৬/১১/১২ (সুমন হাসান)

কাদের সিদ্দিকীকে যত পারেন গালি দিন!

কাদের সিদ্দিকীকে যত পারেন গালি দিন। যত পারেন অপমানজনক কথা বলতে থাকেন। আপনাদের এই কথা বলার অধিকার আদায়ের জন্যই তিনি আজন্ম সংগ্রাম করেছেন। তিনি তো আজ গালিই প্রাপ্য!

কাদের সিদ্দিকীকে গালি দিন। কারণ তিনি-

*নিজের জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ে দেশকে শত্রুমুক্ত করেছেন।

*দেশের অভ্যন্তরে থেকে ১৭ হাজার সশস্ত্র গেরিলার বিশাল বাহিনী তৈরি করে পাকিস্তানিদের অস্ত্র কেড়ে নিয়েই পাকিস্তানিদের মেরেছেন।

*বাংলাদেশের ৫/১ অংশে শত্রুবাহিনী ঢুকতে না দিয়ে ‘মুক্তাঞ্চল’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

*যুদ্ধকালীন ভারতীয় মিত্র বাহিনী এই কাদের সিদ্দিকী’র মুক্তাঞ্চল দিয়েই কাদের সিদ্দিকীর সহায়তায় এই ভুখন্ডে ঢুকে মুক্তি বাহিনীকে সহায়তা করার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেছিলেন।

*তিনি প্রথম চারদিক থেকে ঘেরাও করে ঢাকা আক্রমণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন।

*জেনারেল নিয়াজীকে আত্মসমর্পনের জন্য হুংকার দিয়ে তিনিই প্রথম বলেছিলেন, ‘তুমি আত্মসমর্পণ করো না হয় মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হও’।

*নিয়াজীর ডেরায় দাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করার জন্য বাড়িয়ে দেওয়া নিয়াজীর হাতকে তিনি প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, ‘যে হাত দিয়ে আমার বাংলাকে পুড়ে শ্মশান বানিয়েছো, আমার মা-বোনেদের সম্ভ্রমহানি করেছো সে হাতে আমি কাদের সিদ্দিকী হ্যান্ডশেক করবো না’।

*১৮ ডিসেম্বর ১৯৭১ এ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জনসভা করে তিনি বলেছিলেন, ‘শেখ মুজিবকে মুক্তি দাও, না হলে আমি কাদের সিদ্দিকী পাকিস্তান আক্রমণ করকে বাধ্য হবো’।

*বঙ্গবন্ধুর এক কথায় তিনি পাকিস্তানিদের থেকে ছিনিয়ে নেয়া ৩১৫ ট্রাক অস্ত্র বঙ্গবন্ধুর পায়ের কাছে বিছিয়ে দিয়েছিলেন।

*যুদ্ধে অসীম সাহসিকতাপূর্ণ ভূমিকার জন্য একমাত্র বেসামরিক ব্যাক্তি হিসেবে তিনি বীরউত্তম খেতাব অর্জন করেছেন।

*১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আওয়ামীলীগের নেতারা যখন মোসতাকের মন্ত্রীসভায় শপথ পাঠে ব্যস্ত ছিলেন কিংবা ইঁদুরে গর্তে লুকিয়েছিলেন, তখন এই কাদের সিদ্দিকী ‘জাতীয় মুক্তিবাহিনী’ গড়ে তুলে শেখ মুজিব হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তুলে দেশকে এবং আওয়ামীলীগকে কলঙ্কের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন।

*বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে ১৬ বছর নির্বাসনে থেকেছিলেন এই কাদের সিদ্দিকী।

*১৯৯০ সালে দেশে ফিরে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবরস্থান কে জঙ্গলমুক্ত করেছিলেন এবং সেসময় থেকে প্রতিবছর ১৫ আগস্ট টুঙ্গিপাড়ায় কর্মসূচী (মিলাদ, দোয়া, সমাবেশ) চালু করেছিলেন।

*১৯৯৬ সালের সংসদে এই কাদের সিদ্দিকীই প্রথম মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ১০,০০০ টাকা করা দাবী তুলেছিলেন।

*২০০০ সালে দল গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত গণ মানুষের অধিকার আদায়ে অবিরত সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন।

*২০১৫ সালে ৩০৮ দিন ঘরের বাইরে অবস্থান কর্মসূচী পালন করে দুই নেত্রীকে আলোচনায় বসে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবীতে রাজপথে দিনরাত পার করেছেন।

*মানুষের ভোটের অধিকার এবং দেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় তিনি ড. কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছেন।

*ক্ষমতার লোভনীয় হাতছানিকে উপেক্ষা করে তিনি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজপথের সংগ্রামকে বেছে নিয়েছেন।

সুতরাং আজন্ম সংগ্রামী এই মানুষটির তো গালিই প্রাপ্য!

বিএ-১৬/১১-১২ (ন্যাশনাল ডেস্ক)

আশা জাগিয়েও জিততে পারলো না বাংলাদেশ

না, ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সিরিজ নিশ্চিত করতে পারল না বাংলাদেশ। শাই হোপের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে ৪ উইকেটের জয়ে ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা এনে ফেলল সফরকারী দল। অপরাজিত ১৪৬* রানের দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দিলেন শাই হোপ। এটা তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চরি। আগামী ১৪ ডিসেম্বর শুক্রবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য শেষ ওয়ানডে হবে অঘোষিত ফাইনাল। ওই ম্যাচেই নির্ধারিত হবে সিরিজ।

বাংলাদেশের দেওয়া ২৫৬ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের বলে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন এই ম্যাচেই একাদশে সুযোগ পাওয়া চন্দ্রপল হেমরাজ (৩)। এরপর অবশ্য জুটি গড়ে তোলেন শাই হোপ আর ড্যারেন ব্র্যাভো। ব্র্যাভোকে (২৭) বোল্ড করে দিয়ে ৬৫ রানের এই জুটি ভাঙেন রুবেল হোসেন। অপর ওপেনার শাই হোপ ৬৭ বলে ৩ চার ২ ছক্কায় ক্যারিয়ারের ৮ম হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন। তার ব্যাটেই এগিয়ে যেতে থাকে সফরকারীরা।

স্যামুয়েলসের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে হোপের জুটি জমে যায়। ২৬ রান করা স্যামুয়েলস ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজুর রহমানের বলে মুশফিকের গ্লাভসে ধরা পড়লে ৬২ রানের জুটির সমাপ্তি হয়। বিপজ্জনক হেটমায়ার (১৪) ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠার আগেই তাকে থামিয়ে দেন রুবেল। উইন্ডিজ অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েলকে শিকার করেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি। তার বলে সৌম্য সরকারের তালুবন্দি হন ১ রান করা পাওয়েল। মুস্তাফিজের দ্বিতীয় শিকার রোস্টন চেইস। তামিম ইকবালের অসাধারণ ক্যাচে ৯ রান ফিরেন এই ব্যাটসম্যান।

এর মাঝেই ঠাণ্ডা মাথায় ১১৮ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন শাই হোপ। ম্যাচে ছড়িয়ে পড়ে টানটান উত্তেজনা। কিছুতেই এই ওপেনারকে থামানো যাচ্ছিল না। ৪৮তম ওভারে রুবেলকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১২৫* রান টপকে যান হোপ। ১৩১ রানে তার ক্যাচ ছাড়েন বদলি ফিল্ডার নাজমুল। এর আগে তিনি কিমো পলের ক্যাচও ছেড়েছিলেন। এই হোপ-পলের ৭৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতেই ২ বল হাতে রেখে ৪ উইকেটে জিতে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৪৪ বলে ১২ চার ৩ ছক্কায় ১৪৬ রানে অপরাজিত থাকেন হোপ। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন কিমো পল (১৮*)।

এর আগে আজ মঙ্গলবার সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৫৫ রান তোলে বাংলাদেশ। শুরুতেই পেসার ওশান টমাসের একটি ইয়র্কার ফ্লিক করতে করতে গিয়ে আহত হয়ে মাঠ ছাড়েন লিটন দাস। যদিও পরে তিনি নেমেছেন। তিন নম্বরে নামা ইমরুল ৬ বল খেলে কোনো রান না করেই থমাসের বলে ক্যাচ দেন উইকেটকিপার শাই হোপের গ্লাভসে। এরপর বাংলাদেশকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দেয় তামিম-মুশফিকের জুটি। তৃতীয় উইকেটে ১১১ রান যোগ করেন তারা। দুজনেই তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি।

তামিম ইকবাল ৬৩ বলে ৪ চার এবং ১ ছক্কায় ৫০ রানে দেবেন্দ্র বিশুর শিকার হলে ভাঙে এই জুটি। প্রায় ছক্কা হতে যাওয়া বলটি ডিপ মিড উইকেটের সীমানার ওপর থেকে দুর্দান্তভাবে তালুবন্দি করেন কেমার রোচ। ইনিংস লম্বা করতে পারেননি মুশফিকও। তার ৮০ বলে ৬২ রানের থামে ওশান টমাসের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে গ্লাইড করতে গিয়ে। ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় কিপারের গ্লাভসে। দলের হাল ধরেন সাকিব-মাহমুদউল্লাহ। জমে ওঠে জুটি। ভালো খেলতে খেলতেই পাওয়েলের বলে বাজে শটে মাহমুদউল্লাহ (৩০) ক্যাচ তুলে দিলে ৬১ রানের দারুণ জুটির অবসান হয়।

মাহমুদউল্লাহ আউট হওয়ার পর ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আউট হন সৌম্য সরকার। বাজে শটে বিশু তালুবন্দি হয়ে ব্যক্তিগত ৬ রানে থমাসের তৃতীয় শিকার হয়েছেন তিনি। এরপরই আবারও মাঠে নামেন চোট পেয়ে মাঠ ছাড়া ওপেনার লিটন দাস। তবে তিনি ইনিংস বড় করতে পারেননি। কিমো পলের বলে ক্যাচ দিয়েছেন ব্যক্তিগত ৮ রানে। এর মাঝেই ৫৪ বলে ৪ চার এবং ১ ছক্কায় ক্যারিয়ারের ৪০তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

ইনিংসের শেষ দিকে রানের গতি বাড়াতে গিয়ে কেমার রোচের বলে বোল্ড হয়ে যান সাকিব। ৬২ বলে ৬ চার ১ ছক্কায় সাজানো ছিল তার ৬৫ রানের ইনিংস। সুযোগ পেয়েও ঝড় তুলতে পারেননি মাশরাফিও। অপরাজিত ছিলেন ১১ বলে ৬ রান করে। সিরিজে প্রথমবারের মতো ব্যাটিংয়ে নেমে মেহেদী হাসান মিরাজ ১০ রানে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৫৫ রানে থামে বাংলাদেশ। থমাস ৩ উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট নেন কেমার রোচ, কিমো পল, দেবেন্দ্র বিশু এবং রোভম্যান পাওয়েল।