বিকাল ৪:১৫
রবিবার
৫ ই ডিসেম্বর ২০২১ ইংরেজি
২১ শে অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
২৯ শে রবিউস-সানি ১৪৪৩ হিজরী

উপজেলায় ১৭ ভোট পাওয়া বাবলু বিপুল ভোটে এমপি

বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসন এলাকাতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান।এই আসনটিতে বরাবরই বিএনপি প্রার্থী দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচিত হয়ে আসছেন। দূর্নীতি মামলা দণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দি খালেদা জিয়া এবার নির্বাচনে অযোগ্য হন। বিএনপি থেকে গাবতলী উপজেলা চেয়ারম্যান মোরর্শেদ মিলটন ও শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সরকার বাদল মনোনয়রপত্র জমা দেন এই আসনে।

দুইজনেই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ায় নির্বাচন কমিশন তাদের প্রার্থীতা বাতিল করে। ফলে ওই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শূন্য হয়ে যায়। এ অবস্থায় স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম বাবলুকে বিএনপি সমর্থন দেয়।বিএনপির সমর্থন নিয়ে ট্রাক মার্কার এক লাখ ৯০ হাজার ২৯৯ ভোট পেয়ে তিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।

রেজাউল করিম বাবলুর এমপি নির্বাচিত হওয়ার ঘটনাটি পুরো বগুড়ায় আলোড়ন তৈরি করেছে। বিএনপি অধ্যুষিত এই এলাকায় ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে কোন আসনে দলটির কে জয়ী হলেন, কে হলেন না, আলোচিত সেই হিরো আলমের ভরাডুবি- সেই খবর ছাপিয়ে বগুড়ায় আলোচনায় এখন বাবলুর এই বিরাট বিজয়।

‘বাবুল এমপি হলো, দেশত আর বাকি থাকল কে’ ভোটের রাতে ফল দেওয়ার পর বগুড়া শহরের সাতমাথা চত্বরের পাশে একজন চায়ের দোকানি বলছিলেন এ কথা। তার সঙ্গে জনাদশেক ক্রেতার কথায় বগুড়া-৭ আসনে নবনির্বাচিত সাংসদ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যিনি মাত্র ১৭ ভোট পেয়েছিলেন। ভোটের আগে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম বাবলুর তৎপরতাই ছিল না, তিনিই ভোটের দিন মহাজোটের প্রার্থী এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির স্ত্রীসহ সাত প্রার্থীকে হারিয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। অন্য ছয় প্রার্থী মিলে যে ভোট পেয়েছেন, বাবলু একাই পেয়েছেন তার দ্বিগুণ। বিষয়টি নিজের কাছেই বিশ্বাস হচ্ছে না নবনির্বাচিত এই সাংসদের।

বাবলু রাজনীতিবিদ নন, একসময় জেলা আদালত এলাকায় টাইপিস্ট ছিলেন। ওইসময় তার বিরুদ্ধে প্রতারণা নানা অভিযোগ ওঠে। চাকরি দেওয়ার কথা বলে, আদালত থেকে জামিন করিয়ে দেওয়ার কথা বলে তিনি নাকি বিভিন্ন সময় টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু জানান, একাধিকবার রেজাউল করিম বাবলুর বিরুদ্ধে তিনি এধরনের অভিযোগ পেয়েছেন। এসব ঘটনায় কয়েক দফা সালিশ-দরবার করেছেন। তবে তিনি এখন তাদের এমপি!

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রেজাউল করিম বাবলু বলেন, এমন কথা তার কানেও আসে। তবে এগুলো একেবারেই ভুয়া। তিনি কখনও এ ধরনের বাজে কাজ করেননি। নতুন নির্বাচিত হওয়া এই সাংসদের দাবি, তিনি পেশায় সাংবাদিক। আর সমাজের কাজ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানুষ নানা ধরনের অপপ্রচার চালায়। তার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।

বাবলুর এলাকা শাজাহানপুরের বাসিন্দারা জানালেন, কিশোরকালেই বাবলু নানা ‘দুই নম্বরী’ শুরু করেন। ছাত্রজীবনে স্থানীয় গোয়াইল এলাকায় এক বাড়িতে গৃহশিক্ষক থাকার সময় জাল টাকা তৈরির সময় মেশিনপত্রসহ হাতেনাতে ধরাও পড়েন। ওই সময়ে মুচলেকায় ছাড়া পান তিনি। ওসব ব্যাপারে তার বক্তব্য , সেই আগের কথা তার মনে নেই। তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি, ঘটনার কথা নয়। তিনি জানালেন, তিনি শাজাহানপুর প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। এখন স্থানীয় একটি অনলাইনের সম্পাদক।

আলোচনায় না থেকেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রায় দুই লাখ ভোট পেলেন কীভাবে- সে বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে স্থানীয় রাজনীতিবিদদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেল, বগুড়া-৭ আসনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্ম। এজন্য এ এলাকাটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও এখানে বিপুল ভোটে বারবার নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু এবার মামলায় সাজা খাটার কারণে প্রার্থী হতে পারেননি। বিএনপির পক্ষ থেকে গাবতলী উপজেলা চেয়ারম্যান মোরশেদ মিলটন মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেন। তবে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ না করার অভিযোগে প্রার্থিতা বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত বিএনপি বাধ্য হয়ে নির্বাচনের একদিন আগে স্বতন্ত্র প্রার্থী বাবলুকে সমর্থন দিলে তার কপাল খুলে যায়।

অবশ্য মঙ্গলবার বিএনপির এই সমর্থনের কথা অস্বীকারই করতে চাইলেন ভোটে পাস করা রেজাউল করিম বাবলু। তিনি দাবি করেন, শুক্রবার তিনি টেলিভিশনের খবরে দেখতে পান বিএনপি তাকে সমর্থন দিয়েছে। তবে তার সঙ্গে কারও যোগাযোগ হয়নি। এখন স্বতন্ত্র সাংসদ থাকবেন, নাকি বিএনপিতে যুক্ত হবেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা পরিস্থিতিই বলে দেবে। কী করতে হবে তা ভবিষ্যতের ওপর নির্ভর করবে।

অনেক অভিযোগের মধ্যে এলাকা ঘুরে বাবলুর কিছু ভালো কাজের তথ্যও মিলেছে। তিনি গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় মাঝিড়া বটতলা এলাকায় পুরো রমজান মাসজুড়েই মানুষের মাঝে বিনামূল্যে ইফতার বিতরণ করেন। প্রতি শুক্রবার এলাকার বিভিন্ন মসজিদে জুমার নামাজ শেষে নিজের উদ্যোগে ধর্মীয় বয়ানও দেন।

বিএ-০৭/০২-০১ (উত্তরাঞ্চল ডেস্ক)

যেসব আমলের সওয়াব মৃত্যুর পরও পাওয়া যায়

যেসব আমলের সওয়াব

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘পৃথিবীর সব প্রাণীকেই মৃত্যু স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।’ জীবন যার আছে মৃত্যু তার সুনিশ্চিত। আর দুনিয়াতে সবচেয়ে কষ্টদায়ক হচ্ছে মানুষের মৃত্যু। কারো আপন জনের মৃত্যুতে স্বজনের বিয়োগ ব্যাথাই নয় বরং মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিও প্রচণ্ড শারীরিক কষ্টের সম্মুখীন হয়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষের মৃত্যুকালীন সময়ের এ কষ্টের বিবরণ তাঁর উম্মতকে জানিয়ে দিয়েছেন। আবার মৃত্যুর এ ভয়াবহতা থেকে মুক্তি লাভের সুস্পষ্ট আমলও শিখিয়ে গেছেন। তাম্বীহুল গাফেলিনে মৃত্যুকালীন কষ্টের ওপর একটি হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে যে,

হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার হজরত কাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেন, আমাকে মৃত্যুর অবস্থা সম্পর্কে কিছু বলুন। তখন হজরত কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘মৃত্যু হলো কাঁটাদার গাছের মতো। কাঁটাযুক্ত সে গাছটি যখন মানুষের পেটে ঢোকানোর পর তার প্রতিটি কাঁটা শিরায় শিরায় লেগে যায়।

তখন একজন শক্তিশালী মানুষ যদি গাছিটি ধরে জোরে টেনে বের করার চেষ্টা করে। ওই মুহূর্তে শিরায় শিরায় বিদ্ধ হওয়া কাঁটার আঘাতের কষ্ট মানুষটি হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করে।

অনুরূপভাবে মানুষের মৃত্যুকালীন সময়ে মৃত্যুপথযাত্রীর কাছেও মনে হয় যেন, তার শরীরের গোশতগুলো যেন একটি কাঁটার সঙ্গে বেরিয়ে আসছে। সে মৃত্যুযন্ত্রণা মানুষ হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করে থাকে।

এ হলো মৃত্যুকালীন সময়ে মানুষের মৃত্যু যন্ত্রণার নমুনা। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে সেভাবে ভয় কর; যেভাবে ভয় করা উচিত। এবং অবশ্যই (সবধান!) মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১০২)

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমের মাধ্যমে মানুষকে আগেই সতর্ক করে দিয়েছেন। মৃত্যুর পূর্বে ইসলামে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করে পূর্ণাঙ্গ মুসলমান হয়ে যাও। তবেই মৃত্যুকালীন কষ্টসহ পরকালের প্রথম মনজিল কবর, ফুলসিরাত, হাশরের ময়দান এবং আল্লাহর বিচারের দিন নাজাত লাভ করবে।

জীবন ও মৃত্যু মানবজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটি পার্থিব হলেও অপরটি পরলৌকিক ও অনিবার্য। মৃত্যুর আগে মানুষ যেসব আমল করবে, আখেরাতে আল্লাহ তাআলা সেগুলোর প্রতিদান দেবেন।

আল্লাহ তাআলা জীবন ও মৃত্যু- এ দুইটি অমোঘ-বাস্তবতা সৃষ্টি করেছেন কে কত ভাল আমল করতে পারে, তা পরীক্ষা করার জন্য। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন, যাতে তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন যে, তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে কে সর্বাধিক উত্তম। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী ও অতিশয় ক্ষমাশীল। (সুরা আল-মুলক, আয়াত : ০২)

নিয়ত সঠিক-শুদ্ধ থাকলে মৃত্যুর পরও যেসব আমলের সাওয়াব পাওয়া যাবে, হাদিসের আলোকে সেগুলোর সংক্ষিপ্ত একটি তালিকা দেওয়া হলো।

ইলম শিক্ষা দেয়া

রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে মানুষকে ইলম শিক্ষা দিলো, এ ইলম অনুযায়ী আমলকারীর সমপরিমাণ সওয়াব তার আমলনামায়ও যুক্ত হতে থাকবে। অথচ তাদের কারো সওয়াবে কোনো কমতি হবে না।’ (ইবনু মাজাহ, হাদিস নং : ২৪০)

সৎ সন্তান রেখে যাওয়া

রাসুল (সা.) বলেন, ‘মানুষ মৃত্যুবরণ করার পর ৪ টি আমলের সাওয়াব অব্যাহত থাকে : ১. যে ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা দিল তার সাওয়াব, ২. ভাল কাজ চালু করার ফলে তাকে যারা অনুসরণ করল তার সাওয়াব, ৩. যে ব্যক্তি এমন সাদাকাহ করলো, যা প্রবাহমান থাকে তার সাওয়াব, ও ৪. এমন নেক সন্তান রেখে যাওয়া- যে তার জন্য দোয়া করে।’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস নং : ২২২৪৭)

মাসজিদ তৈরি করা

মাসজিদে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি কুরআন শিক্ষা কার্যক্রম, দ্বীনি বিষয়ক শিক্ষা দান ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য মাসজিদ তৈরি করল, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে ঘর তৈরি করবেন।’ (মুসলিম, হাদিস নং : ১২১৮)

কোরআন বিতরণ করা

কোনো ব্যক্তি যদি মসজিদ, মাদরাসা বা কোনো প্রতিষ্ঠানে পবিত্র কোরআন বিতরণ করে তাহলে সেগুলোর সাওয়াবের অংশ সেও পাবে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘মানুষ মৃত্যুবরণ করার পর কবরে ৭টি আমলের সাওয়াব অব্যাহত থাকে : ১. যে ইলম শিক্ষা দিল, ২. যে পানি প্রবাহিত করল, ৩. কুপ খনন করল, ৪. খেজুর গাছ লাগালো (গাছ রোপন), ৫. মাসজিদ তৈরি করল, ৬. কারো দায়িত্বে কিতাব দিয়ে গেল ও ৭. এমন নেক সন্তান রেখে গেল- যে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে।’ (মুসনাদুল বাজ্জার :৭২৮৯)

গাছ রোপন করা

হাদিসে আছে, ‘কোন মুসলিম যদি কোন বৃক্ষরোপন করে, আর তা থেকে কোন ফল কেউ খায় তবে সেটি তার জন্য সাদাকাহ, যদি কেউ চুরি করে খায় তাও তার জন্য সদাকাহ, কোন পাখিও খায় তাও তার জন্য সেটি সদাকাহ। এমনকি যদি কেউ তা কেটে ফেলে তাও সেটি তার জন্য সাদকাহ।’ ( মুসলিম, হাদিস নং : ৪০৫০)

অভাবগ্রস্থদের ঘর-বাড়ি তৈরি করে দেওয়া

রাসুল (সা.) বলেন, ‘মুমিন মৃত্যুবরণ করার পর তার সাথে যে আমলের সাওয়াব সম্পৃক্ত থাকবে, তা হলো ইলম শিক্ষা দেয়া ও কিতাব রচনা করা, নেক সন্তান রেখে যাওয়া, মসজিদ তৈরি করা, অভাবগ্রস্থদের জন্য ঘর তৈরি করে দেয়া, পানি প্রবাহিত হওয়ার ব্যবস্থা করা এবং তার সম্পদ থেকে সাদাকাহ করা।’ (ইবনু খুযাইমাহ : ২৪৯)

খাওয়ার পানির ব্যবস্থা করা

হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, এক লোক রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল, তার পানির খুব পিপাসা পেল, পথিমধ্যে সে একটি কূপ পেল এবং সেখান থেকে পানি পান করল। অতঃপর দেখতে পেল একটি কুকুর পানির পিপাসায় ময়লা খাচ্ছে, তখন সে সেখানে মোজা দিয়ে পানি ভরে কুকুরকে পানি পান করাল এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করল। এজন্য আল্লাহ তাআলা তাকে মাফ করে দিলেন। সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! প্রাণীকে পানি পান করালেও কি সাওয়াব আছে? রাসুল (সা.) বললেন, প্রত্যেক সজীব অন্তরকে পানি পান করানোর জন্য সাওয়াব রয়েছে।’ ( বুখারি, হাদিস নং : ৬০০৯)

সীমান্ত রক্ষা করা

রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা অবস্থায় মারা যায়, তাহলে যে কাজ সে করে যাচ্ছিল মরার পরও তা তার জন্য সওয়াব জারি থাকবে, তার রিজিকও জারি থাকবে, কবরের পরীক্ষা থেকে সে নিরাপদ থাকবে এবং আল্লাহ তাআলা কেয়ামতে তাকে ভয় থেকে মুক্ত অবস্থায় ওঠাবেন।’ (ইবনু মাজাহ, হাদিস নং : ২২৩৪)

অন্য হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘মৃত্যুর পর প্রত্যেক মৃতের কর্মের ধারা শেষ করে দেয়া হয়। তবে যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা দেয় তার আমল কিয়ামত পর্যন্ত বাড়তে থাকবে এবং কবরের ফিতনা থেকেও সে নিরাপদ থাকবে।’ (ইবনু হিব্বান, হাদিস নং : ৪৬২৪)

প্রবাহিত পানির ব্যবস্থা করা

রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে পানির ঝর্ণা তৈরী করল, তার জন্য জান্নাত রয়েছে।’ (বুখারি, হাদিস নং : ২৭৭৮)

আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়া

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘ঐ ব্যক্তির চাইতে উত্তম কথা আর কার হতে পারে যে আল্লাহর দিকে ডাকলো, নেক আমল করলো এবং ঘোষণা করলো আমি একজন মুসলমান ‘ (সুরা হামিম সিজদাহ, আয়াত : ৩৩)

রাসুল (সা.) তার সাহাবাদের বলেন, ‘মানুষকে হিদায়াতের দিকে আহ্বান করবে, এ কাজ সম্পাদনকারীর অনুরূপ সাওয়াব তার আমলনামায় যুক্ত হতে থাকবে। অথচ তাদের সাওয়াব থেকে কোন কমতি হবে না।’ (মুসলিম, হাদিস নং : ৬৯৮০)

বইপত্র/কিতাব রচনা করা

এমন বইপত্র কিংবা কিতাব রচনা করা, যার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণ ও উপকার হয়। মানুষ সঠিক পথের দিশা পায়। হাদিসে এসেছে, ভাল কাজের পথপ্রদর্শনকারী এ কাজ সম্পাদনকারীর অনুরূপ সাওয়াব পাবে।’ (তিরমিজি, হাদিস নং : ২৬৭০)

সদকায়ে জারিয়া

‘সদকা’ শব্দের অর্থ দান করা। আর ‘জারিয়া’ অর্থ অব্যাহত। আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষে শরিয়তসম্মত এমন কল্যাণকর কাজে দান করা। যেমন- মাদরাসা তৈরি, এতিমখানা, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, পাঠাগারের ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট নির্মাণ করা ইত্যাদি অন্যতম। রাসুল (সা.) বলেন, ‘মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার যাবতীয় আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে ৩ টি আমল বন্ধ হয় না, ১. সদকায়ে জারিয়া, ২. এমন ইলম-যার দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, ৩. এমন নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।’ (মুসলিম, হাদিস নং : ৪৩১০)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবসময় উত্তম আলম ও মানবতার জন্যে কাজ করার তাওফিক দান করুন এবং আমাদের আমলগুলো কবুল করে নিন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মৃত্যুকালীন সময়ের কষ্ট থেকে হেফাজত করুন। পরকালের নাজাত দান করুন। আমিন।

আরএম-২১/০২/০১ (ধর্ম ডেস্ক)

আত্মীয়-স্বজনের চেয়ে প্রতিবেশির হক কি বেশি?

আত্মীয়-স্বজনের

প্রতিবেশির চেয়ে আত্মীয়-স্বজন প্রতিটি মানুষের কাছেই অনেক আপন। কিন্তু আত্মীয়-স্বজন কখনোই প্রতিবেশির চেয়ে বেশি উপকারে আসে না। কারণ আত্মীয়-স্বজন সবসময় ধারে-কাছে থাকে না। প্রতিবেশিরাই বিপদে-আপদে, দুঃখ-দুর্দশায় একে অপরের কাছে প্রথমে এগিয়ে আসে। প্রতিবেশির যথাযথ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই সামাজিক শান্তি নিশ্চিত হয়।

বিপদের সময় আত্মীয়-স্বজনের আগে প্রতিবেশিরাই খোঁজ-খবর নেয় এবং সেবাযত্ন করে থাকে। শুধু তা-ই নয়, সামাজিক কাজ-কর্ম, বিয়ে-শাদীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আত্মীয়-স্বজনের চেয়ে প্রতিবেশিরাই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে থাকে।

যদিও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীদেরকে কুরআন-হাদিসে পাকে অভিশপ্ত বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তথাপিও প্রতিবেশির সঙ্গে সদাচরণের ব্যাপারে কুরআনে পাকে সুস্পষ্ট নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘কাছের প্রতিবেশি, দূর প্রতিবেশি এবং সঙ্গী-সাথীদের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার কর।’ (সুরা নিসা : আয়াত ৩৬)

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হক বা অধিকার হিসেবে প্রতিবেশিকে ৩ ভাগে বিভক্ত করেছেন-

> এক হক বিশিষ্ট প্রতিবেশি। যারা আত্মীয় নয় আবার মুসলিমও নয়।

> দুই হক বিশিষ্ট প্রতিবেশি। যারা আত্মীয় নয়, তবে মুসলিম।

> তিন হক বিশিষ্ট প্রতিবেশি। যারা আত্মীয় এবং মুসলিম।

প্রতিবেশি অমুসলিম হলেও একে অন্যের সহযোগী। একে অপরের সঙ্গে চলা-ফেরা, ওঠা-বসায় পাস্পরিক সহযোগিতা করে থাকে।

আবার প্রতিবেশি মুসলিম হলে এমনিতেই তার দু’টি হক প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। একটি হলো সে প্রতিবেশি হিসেবে খোঁজ-খবর রাখার অধিকার রাখে। আবার মুসলিম হওয়ার কারণে হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী এমনিতেই এক মুসলমানের সঙ্গে অপর মুসলমানের একাধিক ৬টি হক জড়িত বলে হাদিসে প্রিয়নবি ঘোষণা করেছেন।

আবার প্রতিবেশি যদি আত্মীয় হয় তবে সে ক্ষেত্রে উপরোল্লেখিত অধিকারগুলোর সঙ্গে আত্মীয়তার হকও মিলে যায়। কেননা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীর প্রতি কুরআন এবং হাদিসের একাধিক স্থানে ভয়াবহ ক্ষতির ঘোষণা এসেছে।

সুতরাং প্রতিবেশি সঙ্গে মিলেমিশে থাকা, তাদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণ করা প্রত্যেকের মুসলমানেরই নৈতিক দায়িত্ব। কেননা কাছের এবং দূরেরসহ সব প্রতিবেশির সঙ্গে সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা।

মনে রাখতে হবে

প্রতিবেশিকে কষ্ট দেয়া ঈমানের পরপন্থী কাজ। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশিকে কষ্ট না দেয়।’ (মিশকাত)

শুধু এ হাদিসই নয়, বরং প্রিয়নবি ৩বার শপথ করে বলেছেন-

– আল্লাহর শপথ! সে ব্যক্তি ঈমানদার নয় (৩ বার এ শপথ করার পর সাহাবায়ে কেরাম) প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! কে সেই ব্যক্তি? জবাবে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘যার প্রতিবেশি তার অনিষ্ট বা ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকতে পারে না।’ (মিশকাত)

সুতরাং কুরআনের নির্দেশ এবং হাদিসের নির্দেশনা থেকে বুঝা যায়, প্রতিবেশির হক বা অধিকারের প্রতি সেভাবেই লক্ষ্য রাখা উচিত যেভাবে প্রতিবেশিদের একজন অপর জনের বিপদ-আপদে সাহায্যের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আত্মীয়-স্বজনের চেয়েও প্রতিবেশিরাই একে অপরের উপকারে আসে। যদিও আত্মীয় স্বজনের হক বেশি কিন্তু সামাজিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রতিবেশির হক বা গুরুত্বও কম নয়। বরং আত্মীয়-স্বজনের অধিকারের চেয়ে প্রতিবেশির প্রতি দ্বায়িত্ববোধ অনেক ক্ষেত্রেই বেশি।

তাই প্রতিবেশির সঙ্গে সদ্ব্যহার করার পাশাপাশি তাদের সামনে-পেছনে মঙ্গল কামনা করা, তাদের কাউকে কোনো ব্যাপারে কষ্ট না দেয়া। সব সময় একে অপরের উপকারের মানসিকতা পোষণ করা। গরিব ও অসহায় প্রতিবেশিকে ধিক্কার বা অবহেলা না করে তাদের প্রতি কোমল হওয়ার পাশাপাশি সর্বাত্মক সাহায্য-সহযোগিতা করা।

প্রিয়নবির এ কথার ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে যে-

‘ওই ব্যক্তি ঈমানদার নয় যে তৃপ্তিসহকারে খাবার গ্রহণ করে অথচ তার প্রতিবেশি তার পাশেই অভুক্ত, খাদ্যাভাবে পড়ে থাকে।’

আল্লাহ তা্আলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক প্রতিবেশির অধিকারগুলোর যথাযথ সম্মান, সম্পর্ক বজায় রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আরএম-২০/০২/০১ (ধর্ম ডেস্ক)

কবরের সংক্ষিপ্ত বিচার ও ফয়সালার ধরণ

কবরের সংক্ষিপ্ত

প্রত্যেক মানুষই মরনশীল। আল্লাহ তাআলার ঘোষণা, প্রতিটি জীবনকেই মৃতু্যর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। হাশরের ময়দানে একত্রিত করা ও বিচার শুরু হওয়ার আগে কবরেই মানুষের সংক্ষিপ্ত হিসাব তথা পরীক্ষা শুরু হবে।

এ কারণেই যারা দুনিয়ার জীবনে আল্লাহকে বেশি ভয় করে তারা আখেরাতের প্রথম মঞ্জলি কবরের জীবন ও সংক্ষিপ্ত বিচারের সম্মুখীন হওয়াকেও বেশি ভয় করে।

তাকওয়াবানদের এ ভয়ের অন্যতম কারণ হলো, যারা কবরের সংক্ষিপ্ত বিচারে পার পেয়ে যাবে, তাদের পরবর্তী ধাপগুলো সহজ হয়ে যাবে। আর যারা কবরের সংক্ষিপ্ত বিচারে আটকে যাবে তাদের দুঃখ ও লাঞ্ছনার শেষ নেই। কবরের এ সংক্ষিপ্ত বিচার তথা প্রশ্নোত্তর পর্ব পরকালীন জীবনের ওপর বিশ্বাসের প্রথম স্তর।

কবরের সংক্ষিপ্ত বিচার

মৃতু্যর পর মৃতব্যক্তিকে যখন প্রথমে কবরে রাখা হবে, তখন মুনকার-নকির নামক অপরিচিত, অদ্ভুত ও বিকট আকৃতির দু’জন ফেরেশতা কবরে আসবেন। যাদেরকে দেখলে মুমিন ব্যক্তি ভয় পাবে না। কিন্তু অপরাধী ব্যক্তিরা অস্বাভাবিক ভয় পাবে।

সেখানে প্রশ্নোত্তর মূলক সংক্ষিপ্ত বিচার শুরু হবে। যারা প্রশ্নের উত্তরগুলো যথাযথ দিতে পারবে, তারাই সফলকাম। আর যারা সংক্ষিপ্ত বিচারালয়ের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে না , তারা ব্যর্থ।

মুনকার-নকির কবরে এসে মৃতব্যক্তিকে শোয়া থেকে উঠিয়ে বসাবে। তারপর ধারাবাহিকভাবে ৩টি প্রশ্ন করবে-

প্রথম প্রশ্ন

مَنْ رَبُّكَ؟

মান রাব্বুকা?

আপনার প্রভু কে?

প্রশ্নের উত্তর

যদি সে ব্যক্তি নেককার হয় তবে বলবে-

رَبِّى الله

আল্লাহ আমার প্রভু।

আর যদি সে মন্দ লোক হয় তবে প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারবে না।

দ্বিতীয় প্রশ্ন

مَنْ دِيْنُكَ؟

মান দ্বীনুকা?

আপনার দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থা কী?

প্রশ্নের উত্তর

যদি সে ব্যক্তি নেককার হয় তবে বলবে-

دِيْنِىَ الْاِسْلَام

ইসলাম‌ আমার জীবন ব্যবস্থা বা দ্বীন।

আর যদি সে মন্দ লোক হয় তবে প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারবে না।

তৃতীয় প্রশ্ন

مَنْ هَذَا الرَّجُل؟

মান হাজার রাজুল?

এই ব্যক্তি কে?

প্রশ্নের উত্তর

যদি সে ব্যক্তি নেককার হয় তবে বলবে-

نَبِيُّنَا مَحَمَّدُ رَّسُوْلُ الله

তিনি আমাদের নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

আর যদি সে মন্দ লোক হয় তবে প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারবে না। সে বলবে আমি এ ব্যক্তিকে চিনি না। (নাউজুবিল্লাহ)

সংক্ষিপ্ত বিচারের ফলাফল

যারা এ প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারবে। তাদের কবরের সঙ্গে জান্নাতের যোগাযোগ স্থাপন করে দেয়া হবে। জান্নাতের হাওয়া এবং সুঘ্রাণ তাদের কবরে আসতে থাকবে। তাদেরকে বলা হবে-

‘এখন তুমি আরামে ঘুমাও। নতুন বিবাহ করা দম্পতির মতো। যারা মনের সুখে ঘুমোতে থাকে।’ এভাবে তারা কিয়ামত অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এক ঘুমে পুরো সময় পার করে দেবে।

আর যারা কবরের সংক্ষিপ্ত বিচারালয়ের ৩টি প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হবে তাদের কর্ম অনুযায়ী কিয়ামত অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত শাস্তি ভোগ করতে থাকবে।

পরিশেষে…

কবরের সফলতা লাভে কুরআনের সুসংবাদ গ্রহণ করাই মুমিন মুসলমানের একান্ত কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা সংক্ষিপ্ত বিচারালয়ে মুনকার-নকিরের প্রশ্নের উত্তর সহজ হওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখ করেন বলেন-

‘যারা শ্বাস্বত বাণীতে (কালেমায়) বিশ্বাসী, আল্লাহ তাদের দুনিয়া এবং আখেরাতে এ কালেমা তথা ঈমানের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখেন।’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ২৭)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পরকালের সংক্ষিপ্ত বিচারালয়ে সফল হওয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত বিচার-ফয়সালায় কামিয়াবি হওয়ার তাওফিক দান করুন। কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আরএম-১৯/০২/০১ (ধর্ম ডেস্ক)

প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন যেসব তারকা

প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় হয়েছে। সেই বিজয়ে দেশের নেতৃত্ব আবারও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কাছেই যাচ্ছে। তিনি চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

তার এই বিজয় ও নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন বিশ্ব নেতারা। অভিনন্দন জানাচ্ছেন দেশের নানা অঙ্গনের তারকারাও। এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দুই চিত্রনায়ক রিয়াজ, ফেরদৌসসহ আরও অনেকেই।

গেল ৩১ ডিসেম্বর রাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন রিয়াজ ও ফেরদৌস। তারা ফুল নিয়ে শেখ হাসিনা ও তার নতুন সরকারকে শুভেচ্ছা জানান। রিয়াজ একটি ছবি পোস্ট করে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজের ফেসবুকের দেয়ালে লিখেছেন, ‘জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু। প্রাণপ্রিয় শেখ হাসিনা দীর্ঘজীবী হোন। প্রিয় বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকুক অনন্তকাল।’

আর নতুন বছরের প্রথমদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন শেষে অপু একটি ছবি পোস্ট করেছেন ফেসবুকে। সেখানে তিনি লেখেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন। আবােরা জাতির অগ্রযাত্রার হাল ধরছেন আপনি। আপনার নেতৃত্বে সংস্কার ও উন্নয়নে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু , জয়তু শেখ হাসিনা।’

শুভেচ্ছা জানাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়েছেন চিত্রনায়ক ইমন ও অভিনেত্রী তারিনসহ সংস্কৃতি অঙ্গনের আরও অনেকেই। সবাই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আরও এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন।

এর আগে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন প্রায় শতাধিক তারকা। তারা নৌকার প্রার্থীদের প্রচারণায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়িয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রচারে অংশ নিতে গোপালগঞ্জে গিয়েছিলেন রিয়াজ ও ফেরদৌস। তারা সেখানে বক্তব্যও রাখেন।

আরএম-১৮/০২/০১ (বিনোদন ডেস্ক)

তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছলে যেসব ক্ষতি হয়

তোয়ালে দিয়ে

মুখ পরিষ্কারের জন্য সাবান বা ফেসওয়াশ দরকার হয় আমাদের। কিন্তু মুখ ধোয়ার পরে আমরা প্রত্যেকেই একটা বড় ভুল করে ফেলি। সেটি হলো গামছা বা তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে নেয়া। মুখ মোছার কাজে তোয়ালে বা গামছা ব্যবহারের অভ্যাস যদি আপনার থেকে থাকে, তাহলে ওখানেই আপনার মুখ ধোয়ার যাবতীয় সুফল শেষ হয়ে গেল!

মুখ ধোয়ার পরে তোয়ালে দিয়ে মুখ মোছা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তা থেকে কীভাবে সমস্যা হতে পারে? ভেজা মুখ থাকলে ময়েশ্চারাইজার বা সিরাম ত্বকের অনেক বেশি গভীরে ঢুকতে পারে। কিন্তু তোয়ালে দিয়ে শুকিয়ে নিলে ত্বকের ভেজাভাব আর থাকে না বলে ময়েশ্চারাইজার ত্বকের ভিতরে ততটা আর ঢুকতে পারে না।

তোয়ালে বলুন বা গামছা, তাতে সারাদিন ধরে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে বাধ্য! তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছলে সেই ব্যাকটেরিয়া ত্বকের সংস্পর্শে এসে রোমছিদ্র বন্ধ করে দিতে পারে, যার অবশ্যম্ভাবী ফল ব্রণ এবং অন্যান্য সংক্রমণ। তাই যতই দামি ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন, যতই যত্ন করে ত্বক পরিষ্কার করুন, তোয়ালে বা গামছা ব্যবহার করলে নিট ফল কিন্তু শূন্য!

মুখ ধোয়ার পর পানি ঝরানোর উপায়:

* মাথা ঝাঁকিয়ে বাড়তি পানি ঝেড়ে ফেলুন অথবা হাত দিয়ে সরিয়ে দিন

* এবার হাত দিয়েই চেপে চেপে মুখটা একটু মুছে নিন।

* এরপর ভেজা মুখেই ময়েশ্চারাইজার মাখুন। মুখ বেশি শুকনো লাগলে অল্প ফেস মিস্ট স্প্রে করে নিতে পারেন।

আরএম-১৭/০২/০১ (লাইফস্টাইল ডেস্ক)

নির্বাচনে ভরাডুবিতে বিএনপি’র তৃণমুলে হতাশা

নির্বাচনে ভরাডুবির পর বিরোধীদল বিএনপি’র তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে হতাশা এবং অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অনেকে বলেছেন, সরকার কারচুপির করে একচেটিয়া জয় পেয়েছে বলে তারা বিশ্বাস করেন। কিন্তু তারপরও বিএনপির এই ফলাফল বিপর্যয় তাদের জন্য বড় আঘাত।

তারা মনে করেন, পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব তাদের দলের মাঠ পর্যায়ে বেশি পড়বে।

তবে দলটির সিনিয়র নেতাদের অনেকে বলেছেন, তাদের হতাশা কাটাতে এখন দল গোছানোর বিষয়ে বেশি নজর দেবেন।

দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া জেলে থাকায় তাঁর অনুপস্থিতিতেই বিএনপি এবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।

দলটি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে এই নির্বাচনে অংশ নেয়ায় তৃণমুলের নেতাকর্মিরা তাদের জন্য একটা অনুকুল পরিস্থিতির স্বপ্ন দেখেছিলেন।

কিন্তু শেষপর্যন্ত ফলাফল বিপর্যয়কে তারা এখন দলের জন্য বড় সংকট হিসেবে দেখছেন।

দক্ষিণ পশ্চিমের জেলা যশোরে বিএনপির ভাল অবস্থান ছিল। সেখান থেকে দলটির একজন নেতা মকবুল হোসেন বলছিলেন, এবার তাদের মাঝে অনিশ্চয়তা বেশি কাজ করছে।

“আমরা আশা করেছিলাম, এই নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসুক আর না আসুক, অন্তত প্রধান বিরোধীদল হিসেবে থাকবে। এবং গণতান্ত্রিকভাবে রাজনীতি করতে পারবো। কিন্তু যেহেতু সম্মানজনক আসন পায় নাই। সেকারণে তৃণমুলে দীর্ঘমেয়াদী বিরোধীদল বা সংগ্রাম করার ক্ষেত্রে কর্মিদের মাঝে চরম হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। এটা সংগঠনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে বা সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

“এই ‘বিপর্যয় সবচেয়ে বড় সংকট”
একযুগ ধরে বিএনপি ক্ষমতার বাইরে রয়েছে। এই পুরো সময়টায় দলটিকে বিপর্যয়ের মধ্যে থেকে চলতে হয়েছে।

সর্বশেষ খালেদা জিয়ার জেলে যাওয়ার বিষয়টি দলটিকে বড় সংকটে ফেলেছিল।

তৃণমুলের নেতাকর্মিরা এসব পরিস্থিতির শিকার বেশি হয়েছেন বলে তারা মনে করেন। তাদের একটা বড় অংশ মামলার কারণে এলাকার বাইরেই পালিয়ে থেকেছেন। সেখানে আরও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।

খুলনা থেকে বিএনপির নেতা নুরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, এখনকার বিপর্যয়কে তারা তাদের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে দেখছেন।

“১২ বছরে এবারের আঘাতটা কিন্তু আরও বড় ধরণের,” তিনি বলছেন, “এবারের নির্বাচনে বিএনপি একেবারে অগোছালো ছিল। বিএনপি নির্বাচনে যাবে কিনা, নেতাকর্মিরা সেটা জানতো না, অন্ধকারে ছিল। এবং কর্মিদের তৈরি করে মাঠে নামানো, সে ধরণের কোন কিছু ছিল না।”

“হঠাৎ করে নির্বাচনে যাওয়া। তারপরও দল যেহেতু নতুন একটা ফ্রন্ট গঠন করেছে, নেতাকর্মিরা মনে করেছে, হয়তো জোটগতভাবে এগুতে পারবে এবং সরকার হয়তো সুষ্ঠু নির্বাচন দেবে। এর কোনটাই না হওয়ায় নেতাকর্মিরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।”

আরও কয়েকটি জেলায় বিএনপির নেতা কর্মিদের সাথে কথা বলে মনে হয়েছে, তারা বিশ্বাস করেন যে, ব্যাপক কারচুপি করে সরকার বিএনপিকে মাত্র পাঁচটি আসন দিয়েছে। এরপরও মাঠপর্যায়ের নেতারা তাদের কর্মিদের নিরাপত্তার বিষয়সহ অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছেন।

উত্তরের রাজশাহী থেকে বিএনপির একজন নেতা শফিকুল আলম বলছিলেন, নেতাকর্মিরা এলাকায় টিকে থাকতে পারবেন কিনা, এমন প্রশ্নেরও মুখোমুখি হচ্ছেন তারা।

“এই নির্বাচনে প্রথমে ভেবেছিলাম, ক্ষমতায় যাব। প্রচারণা শুরুর পর আমাদের ওপর ওপর সরকারের সহিংস হামলার ঘটনা এবং তাদের একতরফা প্রচারণায় মনে হয়েছিল, বিরোধীদলে যাব।”

“কিন্তু একেবারে পাঁচ সাতটি আসনে নামিয়ে আনায় আমাদের কর্মিরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তাদের অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছি আমরা।”

কীভাবে সামনে এগিয়ে যাবে বিএনপি?
দল কি করবে বা কিভাবে এগুবে এসব প্রশ্নও উঠছে বিএনপিতে। নুরুল ইসলাম মঞ্জু মনে করেন, তাদের দলের স্বকীয়তা বজায় রাখার প্রশ্নেও ঘাটতি হয়েছে।

“গত দু’দিন ধরে মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে, বিএনপিকে নিজস্ব জায়গা থেকে ঘর গুছিয়ে, দল গুছিয়ে নিজের সত্তায় ফিরে আসতে হবে। জোটবদ্ধ রাজনীতি করলেও বিএনপির নিজস্ব একটা সত্তা আছে এবং ছিল। সেখানে বিএনপিকে আসতে হবে।”

নির্বাচনের ফলাফলে বিএনপির সিনিয়র নেতারাও হতবাক হয়েছেন। তাদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হয়েছে।

দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ বলেছেন, দলে হতাশা কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে তারা বেশি নজর দিচ্ছেন।

তিনি বলছেন, “আমাদের জন্যতো স্বাভাবিকভাবে এটা একটা সেটব্যাক বলা যেতে পারে। এখন আমাদের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।”

“যদি আমরা টিকে থাকতে চাই, আমাদের যারা এই সময়ে সংগঠনের সাথে ছিল, যারা এই সময়ে নির্বাচনের প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিল, তাদেরকে আমাদের সামনের দিকে নিয়ে আসতে হবে।আর পালিয়ে বেরিয়েছে, আমাদের এড়িয়ে গেছে, তাদের একটু দূরে রেখে সংগঠন গোছাতে হবে।”

বিএনপির নেতারা এটাও উল্লেখ করেছেন, তারা দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে এগুতে চান।

সিনিয়র সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ মনে করেন, এই নির্বাচনের ফলাফল বিএনপির নেতা-কর্মি এবং সমর্থকদের মধ্যেও অনেক বড় হতাশা সৃষ্টি করেছে।

“বিএনপি তো আসলে সংকটের মধ্য দিয়ে অনেক দিন ধরেই যাচ্ছে। তাদের নেতৃত্বের সংকট, কি ধরণের কৌশল হবে রজনীতিতে, তার সংকট ছিল। এর মধ্যে নির্বাচনে যে পাফরমেন্স এটার পেছনে অনেক কারণ আছে, কিন্তু এটাতো হতাশা সৃষ্টি করেছে।”

“হতাশা সৃষ্টি করেছে যে, তাহলে কি দলটি আর গা ঝাড়া দিয়ে দাঁড়াতে পারবে না। এর থেকে দলকে বের করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

এই হতাশার পরিণতিতে কি হতে পারে? এই প্রশ্নে রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “এটাতো পরিস্কার যে একটা দলের মধ্যে যখন হতাশা থাকে, নেতৃত্বশূণ্য থাকে, তখন আস্তে আস্তে দলটির উপযোগীতা কমে যায়।”

“একসময়ে প্রতাপশালী বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, বিরোধীদলেও অত্যন্ত প্রতাপের সাথে ছিল, সেই দল এখন ভাল করে একটা সভা বা মিছিল করতে পারে না। এই অবস্থার মধ্যেতো দলটি ইতিমধ্যে চলে গেছে।”

“এই নির্বাচন এই দলের জন্য একটি বড় আঘাত। নির্বাচন কিভাবে হয়েছে, প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে না কী হয়েছে, এগুলি নিয়ে অনেক বিতর্ক চলবে। এটি বড় কথা নয়। বড় কথা হচ্ছে, এর তাৎক্ষণিকভাবে বিএনপির সব পর্যায়ে হতাশা তৈরি হয়েছে।

এসএইচ-০৪/০২/১৯ (কাদির কল্লোল, বিবিসি)

পেশি খিঁচুনি থেকে রেহাই পাবেন যে ৫ খাবারে

পেশি খিঁচুনি

পেশি খিঁচুনি প্রতিরোধে পটাসিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। এটি পেশি ও স্নায়ুর মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় সাহায্য করে।

খিঁচুনি প্রতিরোধের সাহায্য করতে পারে প্রোটিনও। পেশির খিঁচুনি যে কতখানি বেদনাদায়ক হতে পারে, তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন।

কয়েক সেকেন্ড থেকে শুরু করে প্রায় এক ঘণ্টাও থাকতে পারে এ ব্যথা। বিশ্রাম নেয়ার সময়, রাতে ঘুমের সময়ও হঠাৎ মাসল ক্র্যাম্প বা পেশি খিঁচুনি হতে পারে।

নিচের খাবারের দিকে নজর রাখুন যা পেশির খিঁচুনি প্রশমিত করতে সহায়তা করে-

পানি: শরীরে পানির অভাব হলে পেশিতে খিঁচুনি হতে পারে। সারা দিন সময় করে পানি পান করুন। এমনকি নারিকেলের পানি ও লেবুর রসও আপনার শরীরে পানির মাত্রা ঠিক রাখে।

কলা: কলা পটাসিয়ামের চমৎকার উৎস। পটাসিয়াম আপনার শরীরকে কার্বন ভাঙতে এবং পেশি তৈরি করতে সহায়তা করে। পটাসিয়াম পেশি ও স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

মিষ্টি আলু: কলার মতো মিষ্টি আলুও পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ। এমনকি কলার চেয়েও ছয় গুণ বেশি ক্যালসিয়াম আছে এতে। সাধারণ আলু ও কুমড়াও খেতে পারেন একই উপকার পেতে। এ আলু প্রচুর পরিমাণে পানি সরবরাহ করে যা আপনাকে হাইড্রেটেড রাখতে সহায়তা করে।

শিম: মটরশুঁটি ও শিমে প্রোটিন এবং ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে প্রচুর। কালো রিন ফাইবার সমৃদ্ধ। উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার আমাদের মাসিকের সময়ের খিঁচুনি থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে এবং আপনার রক্তের চিনি ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে।

বাদাম: প্রোটিন ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ বাদাম পেশি খিঁচুনি সারাতে সাহায্য করে। যদিও বাদাম সম্পূর্ণ প্রোটিন নয়; কারণ এতে কিছু অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিডের অভাব রয়েছে। দুর্বল অনুভব করা, পেশির খিঁচুনি সাধারণত ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে হয়। মটরশুটি ও ডাল, বাদাম ও বীজ, গোটা শস্য, কলা ও গাঢ়, পাতাযুক্ত সবুজ শাকসবজি খাওয়ার মাধ্যমে আপনার শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ বাড়ান।

আরএম-১৬/০২/০১ (স্বাস্থ্য ডেস্ক)

স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে মন্দিরে বিয়ে করলেন দুই নারী!

স্বামীকে ডিভোর্স

বিয়ের ছয় বছর পর স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে বিয়ে করেছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের দুই নারী। সম্প্রতি বুন্দেলখণ্ডের এক মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করেন তারা।

জানা যায়, ছয় বছর আগে কলেজে ওই দুই নারীর প্রথম দেখা হয়। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠলেও বাড়ির লোকজন জোর করে অন্য জায়গায় তাদের বিয়ে দেয়। কিন্তু তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। এতোদিন পর তারা সামাজিক মতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। দুজনই স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন একেঅপরকে। যদিও ম্যারেজ রেজিস্টার তাদের বিয়ে মানেননি।

তাদের মধ্যে এক নারী বলেন, ‘৬ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করে সমকামিতা অপরাধ নয়। তারপর আমাদের আইনজীবী জানান, আমরা একসঙ্গে থাকতে পারব। এরপর স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে আমরা আইনিভাবে লড়াইয়ে নেমেছি। যাতে একসঙ্গে থাকা যায়।’

বুন্দেলখণ্ডের ম্যারেজ রেজিস্টার আর কে পাল বলেন, ‘এরকম কোনো বিবাহ আইন থাকলে তো বিয়ের অনুমতি দেব। সমকামী বিয়ে এখনো আইনস্বীকৃত নয়। অনলাইনেও এখনো সরকারি নির্দেশ আসেনি।’

আরএম-১৫/০২/০১ (অনলাইন ডেস্ক)

বন্ধুকে বিয়ে করেছেন যে বলি তারকারা

বন্ধুকে বিয়ে করেছেন

প্রতিদিন কত মানুষ হিন্দি ছবিতে অভিনয় করবেন বলে মুম্বাইতে পা রাখেন তার কোনো হিসেব নেই। কেউ সফল হোন। আর কেউ বা দিনের পর দিন কঠিন পরিশ্রম করেও সেই সাফল্যের দেখা পান না। একসময়ের শাখরুখ খান থেকে আমিরখান সবাই কষ্ট করেই সাফল্য পেয়েছেন। আজ তারা স্টার। বলি তারকাদের অনেক খবরই হয়তো ভক্তদের অজানা থাকে। বলিউডের বেশকিছু তারকা বিয়ে করেছেন তাদের কাছের বন্ধুদের। চলুন জেনে নেওয়া যাক তারা কারা?

অরিজিত্ সিং ও কোয়েল রায়। ২০১৪ সালের ২০ জানুয়ারি বিয়ে হয় তাঁদের।

সুনীল শেঠি ও মানা শেঠি। ১৯৯১ সালে বিয়ে বিয়ে হয় তাঁদের।

ফারদিন খান ও নাতাশা। ২০০৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিয়ে করেন তাঁরা।

হৃতিক রোশন  ও সুজান খান। ২০০০ সালের ২০ ডিসেম্বর বিয়ে হয়। এরপর বিচ্ছেদ হয় ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর।

শাহরুখ খান, গৌরি খান।  ১৯৯১ সালের ২৫ অক্টোবর বিয়ে। সম্পর্ক এখনও অটুট।

আমির খান, রিনা দত্ত। ১৯৮৬ সালের ১৮ এপ্রিল বিয়ে হয়। এরপর ২০০৫-এ বিচ্ছেদ হয়।

আরএম-১৪/০২/০১ (বিনোদন ডেস্ক)