সনদ প্রদানের মাধ্যমে শেষ হলো রাজশাহী কলেজের পুষ্পমেলা

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারী ১১, ২০১৮ আপডেটঃ ৯:৪৮ অপরাহ্ন

আসুন দেখে নেন বেছে নেনে গাঁধাচারা পাঁচ টাকা, বাগানবিলাস দশ টাকা, পিটুনীয়া পাঁচ টাকা এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন পদ্মা আবাসিক ১নং রোড় থেকে আসা সেবা নার্সারীর মালিক রুবাইয়াত হোসেন নাদিম।

তিনি জানন, দুই দিন ব্যাপী এই মেলা শুরু হলেও প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে পরবর্তিতে সময় বাড়িয়ে দেন আয়োজকরা। আর এই শেষ দিনে শিক্ষার্থীদের মাঝে কমদামে ফুলগাছগুলো বিক্রি করতে পেরে ভালোই লাগছে বলে জানান তিনি।

আর এইসাথে শেষ হলো রাজশাহী কলেজে চার দিন ব্যাপী পুষ্পমেলা। রোববার বিকেলে এই মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ আল-ফারুক চৌধুরীসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ।

“ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল, ডালে ডালে পুষ্পিত অম্রমুকুল” শ্লোগানকে সামনে রেখে কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ‘রাজশাহী কলেজ ন্যাচার কন্জারভেটিভ ক্লাব’ কর্তৃক কলেজের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর সামনে এই মেলার আয়োজন করা হয়।

মেলাতে বিভিন্ন প্রজাপতি ফুল, ঔষধী গাছ, অর্কিড ও হার্ব জাতীয় গাছ ছিল। কলেজের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের ফুল ও গুল্ম জাতীয় ফুল গাছের সাথে এবং বিভিন্ন ধরনের ঔষধী গাছের উপকারীতা জানানোর জন্যই মুলত এই মেলার আয়োজন করা হয়।

মেলার আয়োজকরা জানান, কলেজের শিক্ষার্থীদের বিনদোন দিতে ও বিভিন্ন ফুলের সাথে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতেই দ্বিতীয় বারের মতো এ বছরও মেলার আয়োজন করা হয়। কলেজ প্রশাসন যদি অনুমতি দেয় ও সহযোগিতা কওে তাহলে আগামী বছর আরও বড় পরিসরে এই পুষ্পমেলার আয়োজন করতে পারবো বলেও আশা ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।

মেলার দর্শনার্থীরা জানান, “বাহারী ধরনের এই ফুলগুলো সচরাচর পাওয়া যায় না। তাই ফুলের সাথে পরিচিত হতে প্রতি বছরই এমন আয়োজন করা জরুরী”।

জানতে চাইলে কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের মার্স্টাস ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী ফারিহা রহমান আন্নি জানান, ক্লাস শেষে বান্ধবীদের সাথে মেলায় ঘুরে ঘুরে কিছু ফুল গাছ কিনলাম। একসঙ্গে এতোগুলো ফুল গাছ দেখে বেছে বেছে কিনতে ভালোই লাগলো বলে জানা তিনি।

মেলায় লিজা নার্সারীর স্টলমালিক তাজরুল ইসলাম জানান, প্রথম বার রাজশাহী কলেজে পুস্প মেলায় অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি অনেক খুশি। তবে প্রথম দিকে বেচাবিক্রি তেমন একটা ছিলো না, শেষ পর্যন্ত ভালোই বিক্রি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা: হবিবুর রহমান বলেন, ” পুষ্পমেলা সামনে বছর থেকে আরো বেশি উন্নত ও ব্যপক পরিসরে করা হবে। এতে করে আমার শিক্ষার্থীরা আরো বেশি ফুল ও বৃক্ষ প্রেমী হয়ে উঠবে বলেও মানে করেন তিনি “।

পরে তিনি মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন ও মেলায় অংশগ্রহন কারীদের মাঝে সনদ বিতরন করেন।

উল্লেখ, এই মেলায় সেবা নার্সারী, লিজা নার্সারী, মা নার্সারী, গ্রিনভিউ, মায়ের দোয়াসহ ৮টি নার্সারী স্টল ও একটি বেঙ্গল মধুর স্টল ছিলো।

উক্ত মেলার প্রশাসন, নার্সারী এসোসিয়েশন ও বিভাগের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন উদ্ভিদবিজ্ঞানের সহযোগি অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম।

বিএ-২৬/১১-০২ (নিজস্ব প্রতিবেদক )