রাবিতে বর্ণিল আয়োজনে নতুন বর্ষকে বরণ

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ১৪, ২০১৮ আপডেটঃ ৮:৩৫ অপরাহ্ন

বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নতুন বর্ষকে বরণ করা হয়েছে। শনিবার প্রথম বছরের প্রথম দিন সূর্য উদিত হওয়ার সাথে সাথেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের ঢল নামে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মেতে ওঠে আনন্দ-উল্লাসে। শুষ্ক বৃক্ষের মধ্যে প্রাণের সঞ্চার হওয়ার একটা প্রবণতা পহেলা বৈশাখে প্রতিটা মানুষের মধ্যে ফুটে উঠে। প্রত্যেকে প্রাণ ভরে দেখে নিয়েছেন একটি জাতীর চিরায়ত সংস্কৃতি, আবেগ-অনুভূতি কতটা বাস্তব চিত্র।

দেখা যায়, এবারে চারুকলা অনুষদের মঙ্গল শোভাযাত্রায় শোভা পেয়েছে ষাঁড় ও পায়রা। কমিটির সদস্যরা জানান, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি কৃষি। এর সঙ্গে ষাঁড়ের রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। আর পায়রা হলো শান্তির প্রতীক। আনন্দ উল্লাসে আর খুশির স্বর্ণধারায় নতুন বছরকে বরণ করতে ভুলেনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সকাল সাড়ে ১০টায় বিশাল মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা ও রেজিস্ট্রার এম এ বারী।

আরও খবর: নানা আয়োজনে রাজশাহী কলেজের নববর্ষ পালন

বছরের নতুন প্রভাতকে বরণ করে নিতে সকাল থেকেই ঢাক-ঢোল আর গান-বাজনায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। বিভিন্ন বিভাগ আর সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও বের করা হয় শোভাযাত্রা। কেউ কৃষক, জেলে সাপুড়ে, বর, বউ, বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়ে পুরো ক্যাম্পাস মাতিয়ে তোলেন শিক্ষার্থীরা।

শোভাযাত্রা শেষে সকাল সাড়ে ১১ টা থেকে চারুকলা অনুষদ চত্বরে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হয় বিভিন্ন লোকসঙ্গীত, নাটক, নাচ, যন্ত্রসঙ্গীত ও কবিতা আবৃতি। চারুকলা অনুষদ চত্বর, পুরাতন ফোকলোর চত্বর, টুকিটাকি চত্বর, লিপু চত্বর, শহীদুল্লাহ ও কলাভবন, ইবলিশ চত্বর, সাবাশ বাংলাদেশ মাঠ চত্বরসহ লোকারণ্য হয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসের প্রতিটা জায়গায় যেন তিল ধারণের মতো ঠাঁই নাই।

তবে পহেলা বৈশাখে প্রতি বছরের ন্যায় এবারো ক্যাম্পাসে মূল আয়োজন চলছে চারুকলা অনুষদে। এবার অনুষদ প্রাঙ্গণে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলা চলাকালে বিভিন্ন লোকজ সঙ্গীত, নৃত্য, নাটকসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হচ্ছে।

এছাড়া দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবনের সামনে ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগ, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিজ্ঞান ভবনের মাঝে প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ, দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবনের সামনে গণিত বিভাগ, একই স্থানে মনোবিজ্ঞান বিভাগ, ইসমাঈল হোসেন সিরাজী ভবনের সামনে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ডিনস ভবনের সামনে ভাষা বিভাগ, ডিনস ভবনের উত্তর দিকে লোক প্রশাসন বিভাগ ও রবীন্দ্র কলা ভবনের সামনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ নানা আয়োজনে বর্ষবরণ করছে। বিভাগের শিক্ষার্থীরা নেচে গেয়ে আনন্দ উচ্ছাস প্রকাশ করছে।

এদিকে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও দিনটি উদযাপনে করছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, স্বেচ্ছায় রক্তদাতা সংগঠন ‘স্বজন’, স্বেচ্ছাসেবী নব জাগরণ ফাউন্ডেশন, কবিতা আবৃত্তির সংগঠন স্বণনসহ অন্যান্য সংগঠনগুলো তাদের অনুষ্ঠান পালন করছে।

এমও-১৮/১৪-০৪ (শিক্ষা ডেস্ক)