গাড়িতে উঠিয়ে গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে বলা হয় চুপ থাক

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ১৬, ২০১৮ আপডেটঃ ৬:১৯ অপরাহ্ন

আমরা রিকশায় ছিলাম। আকস্মিক ৭/৮টি বাইক এবং দুটি হায়েস মাইক্রোবাস এসে আমাদের টেনে তুলে নেয়। এরপর গামছা দিয়ে আমাদের তিনজনের চোখ বেঁধে ফেলা হয়। বলা হয়, চুপ থাক, কথা বলবি না। এভাবেই সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের তুলে নিয়ে যাওয়ার বর্ণনা দেন কোটা সংস্কারের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর।

এর আগে কোটা সংস্কার আন্দোলনের তিন যুগ্ম আহ্বায়ককে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা-ডিবির বিরুদ্ধে। গাড়িতে তুলে চোখ বেঁধে তাদেরকে বলা হয়, চুপ থাক কথা বলবি না। ছাড়া পেয়ে সোমবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, ফারুক হোসেন ও নুরুল হক নুর। এছাড়া প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা। এসময় তারা সরকারের কাছে তাদের এবং পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা চেয়েছেন।

আরও খবর: ‘চাকরিতে আবেদনের বয়স ৩৫ চাই, নৌকায় ভোট দিতে চাই’

রাশেদ খান বলেন, আমার আব্বাকে (নবাই বিশ্বাস) তুলে নেয়া হয়েছে এবং বিশ্রী ভাষায় গালাগাল দিচ্ছে পুলিশ। তাকে জোর করে এটা বলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে যে, তার ছেলে (আমি) জামায়াত-শিবিরের লোক। আজ আমি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই বলেই কি আমাকে জামায়াত-শিবিরের ট্যাগ দেয়া হচ্ছে?

আমাকে এবং আমার আত্মীয়-স্বজনকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমি আশঙ্কা করছি তাদের ওপর আক্রমণ হতে পারে। সরকারের কাছে আমার আব্বার গ্রেফতারের বিচার চাই। বর্তমানে তিনি ঝিনাইদহ সদর থানায় আছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করেছি বলেই কি আমাদেরকে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে? নুরুল হক নুর বলেন, ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করতে এসে আজ একদিকে আমরা হত্যার হুমকি পাচ্ছি, অন্যদিকে পুলিশও আমাদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজে আহত আন্দোলনকারীদের দেখতে গেলে অনেক মানুষের সামনে থেকে তুলে নেয়ায় হয়তো আমরা বেঁচে ফিরতে পেরেছি। তবে, এরপর অন্য কোনো জায়গা থেকে তুলে নিয়ে গেলে আমাদের কে বাঁচাবে?গুলিস্তানে নিয়ে আমার চোখ বেঁধে ফেলা হয়। আমরা সরকারের সাথে সমঝোতা করার চেষ্টা করেছি। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তও মেনে নিয়েছি। তারপরও নাটকীয়ভাবে আমাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চোখ খোলার পর দেখি আমরা ডিবি কার্যালয়ে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের এই যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, আমাদেরকে বলা হয়েছে তোমাদের ওপর হামলা হতে পারে তাই তোমাদের এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। তোমাদের একটা ভিডিও দেখাব। তবে ভিডিও দেখানো হয়নি। আমি পানি চাইলে এক গ্লাস পানিও দেয়া হয়নি। পরে আমাদেরকে বলে তোমরা চলে যাও। পরে দরকার হলে তোমাদের আবার আসতে হবে।

নুরুল হক নুর বলেন, অধিকার আদায়ের পক্ষে কথা বলার জন্য শিক্ষার্থীদের গর্জে ওঠার আহ্বান জানাই। কারণ আমাদের কাউকে এখন মেরে ফেলাও অসম্ভব কিছু না। তাই বলছি, ন্যায়ের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে আমাদের মৃত্যু হলেও তোমরা ন্যায়ের পক্ষে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। সরকারের কাছে অনুরোধ কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের এবং তাদের পরিবার-পরিজনদের নিরাপত্তা দেয়া হোক। আমরা ১০০ ভাগ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আছি।

যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন বলেন, আমাদের তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের সবার হাতে রিভলবার ছিল। তাদের সাথে ছিল ৭/৮টি বাইক এবং দুটি কালো গ্লাসের হায়েস গাড়ি। আমাদের কাছে তথ্য চাইলে আমরা তাদের সঙ্গে গিয়ে তথ্য দিয়ে আসতাম। কিন্তু এভাবে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো কেন?

সংবাদ সম্মেলন শেষে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবন্দকে আটকের প্রতিবাদে ঢাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে এক প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। এর আগে দুপুর পৌনে ২টার দিকে ক্যাম্পাস থেকে এই তিনজনকে মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যাওয়া বলে জানান বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন।

মিন্টু রোডে অবস্থিত ডিবির উপ-কমিশনারের কার্যালয়ে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়। মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, কথা বলার জন্য কোটা সংস্কার আন্দোলনের তিন নেতাকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছিল। পরে তারা চলে গেছেন।

এমও-১৬/১৬-০৪ (শিক্ষা ডেস্ক, তথ্যসূত্র: পরিবর্তন ডটকম)