বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৯ আপডেটঃ ৭:৩০ অপরাহ্ন

গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ছয় শিক্ষার্থীকে এক সেমিস্টারের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. নূরউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এই বহিষ্কার আদেশের একটি চিঠি ইস্যু করে শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দফতর সমকালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শ্রেণিকক্ষের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়ায় ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে এ পদেক্ষপ নেওয়া হলো।

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন- ইলেট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের হাবিবুল্লাহ নিয়ন, মো. রাশেদ হাসান, মুনিম ইসলাম হিরা, ঝিলাম হালদার, ফাহমিদ বৃষ্টি ও দেবব্রত রায়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুল্লাহ নিয়ন তাদের বিভাগের ১০৩ নম্বর ক্লাস রুমের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করে।

এ লেখালেখিতে যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট না হয়, এই মর্মে ইলেট্রিক্যাল এ্যান্ড ইলেট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. বি. কে বালা সতর্ক করেন। তা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে আরেকটি স্ট্যাটাস দেয়।

এতে বলা হয়, এই স্ট্যাটাসে লিয়ন ও তার সহপাঠীরা কিছু অপ্রীতিকর মন্তব্য লেখে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। যা শৃংখলা পরিপন্থী ও গর্হিত কাজ। এ ঘটনার তদন্তে বিভাগীয় একাডেমিক কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৬ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে।

এ ব্যাপারে ফোনে ইলেট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. বি.কে বালার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে রেজিস্ট্রারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

ইলেট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, এ নিয়ে তারা কোনও কথা বলতে চাচ্ছেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. নূরউদ্দিন আহমেদ জানান, এ ঘটনায় গঠিত বিভাগীয় একাডেমিক কমিটি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের আপত্তিকর ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে আলোচনা করেছে। তারপর কমিটি তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে।

তিনি জানান, কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তারপরও যদি শিক্ষার্থীদের কোনও বক্তব্য থাকে তা পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।

বিএ-১১/০৬-০৯ (শিক্ষা ডেস্ক)