দক্ষ প্রকৌশলী সৃষ্টির কোন বিকল্প নেই : রাষ্ট্রপতি

প্রকাশিতঃ ডিসেম্বর ১, ২০১৯ আপডেটঃ ৬:০২ অপরাহ্ন

রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ বলেন, একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মােকাবেলায় দক্ষ প্রকৌশলী সৃষ্টির কোন বিকল্প নেই। আপনারা জানেন, বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যে দেশ যতবেশি উন্নত সে দেশ ততবেশি সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। আমাদের বিপুল মানবসম্পদ থাকা সত্ত্বেও কারিগরী ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় অর্জিত না হওয়ায় আমরা আশানুরুপভাবে এগুতে পারি নি। বর্তমান সরকার কারিগরী ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্বারােপ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করছে।

রোববার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রথান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলােকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলােকে এযাবতকালের উল্লেখযােগ্য পরিমাণ উন্নয়ন বাজেট প্রদান ও গবেষণা বরাদ্দ প্রদান করা হচ্ছে। বিদ্যমান সুবিধাসমূহের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলাে গুণগত উচ্চশিক্ষা প্রদানে ব্রতী হবে বলে আমার বিশ্বাস। সম্মানিত শিক্ষকমণ্ডলী। সাটিফিকেট দেয়া এবং শিক্ষার প্রসারই শেষ কথা নয়।

আমাদের প্রয়ােজন যুগােপযােগী শিক্ষা। বর্তমানে প্রতিনিয়তই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তিত হচ্ছে। কাজেই আমাদেরও বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। বাস্তবভিত্তিক এবং প্রায়ােগিক শিক্ষার উপর জোর দিতে হবে। গুণগত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার সাথে লাবরেটরির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি গবেষণা ও হাতে–কলমে শিক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত শিক্ষা অর্জিত হয়। এ জন্য গবেষণা ও ল্যাবরেটরি কর্মের উপর অধিক মনােনিবেশ করা জরুরি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে।

মাথায় রেখে ন্যানাে টেকনােলােজি, রােবােটিক্স, ব্লক চেইন ম্যানেজমেন্ট, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মতাে। বিষয়গুলােকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষা যাতে দেশের কল্যাণে, মানবতার কল্যাণে, ব্যবহৃত হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে। এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলে উদ্যোগী হবেন বলে আমার বিশ্বাস। প্রযুক্তি উন্নয়নের বাহন। তাই বলে প্রযুক্তির উদ্ভাবনই যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও জনগণের উন্নয়ন করার মধ্যেই উদ্ভাবনের সার্থকতা। তাই যুগােপযােগী ও লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সকলকে মনােনিবেশ করতে হবে । অন্যের অনুকরণ নয় বরং আমাদেরকে যাতে অন্যরা অনুকরণ করতে পারে সে লক্ষ্যে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে । অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের মহান স্বাধীনতা।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ও আহ্বানে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা এ স্বাধীনতা অর্জন করি। বঙ্গবন্ধু সবসময় রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি একটি সুখী–সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। তাইতাে তিনি স্বাধীনতার পর পরই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার নিরলস প্রচেষ্টা। চালিয়ে যাচ্ছে। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বাংলাদেশ আজ অপ্রতিরােধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় জীবনে। সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের পাশাপাশি বৃহৎ প্রকল্প পদ্মা সেতু , মেট্রোরেলসহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলেছে।

তিনি বলেন, কচু ছাড়া সব কিছুতেই ফরমালিন, নির্ভেজাল খাবার দুঃস্প্রাপ্র হয়ে গেছে। খাদ্য ভেজালের কারণে ক্যান্সারসহ জটিল রোগ হচ্ছে। দেশের মানুষই দানব হয়ে যাচ্ছে। এথেকে দেশকে ফেরাতে হবে। যারা এগুলো ঘটাচ্ছে তাদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট– ১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে আজ আমরা মহাকাশেও নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছি। আর্থ – সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রােল মডেল হিসেবে বিবেচিত। এই যে আমাদের। সামনে বিশাল কর্মযজ্ঞ, তা বাস্তবায়নে দক্ষ প্রকৌশলীর প্রয়ােজন। অবকাঠামাে থেকে শুরু করে শিল্প –কলকারখানা, বিদ্যুৎ, টেলিযােগাযােগ, মেরিন, তথ্যপ্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রকৌশলীদের ভূমিকা অনন্য। বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত–সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার যে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তা বাস্তবায়নে প্রধান কারিগর হচ্ছে প্রকৌশলীরা।

সুতরাং প্রকৌশলীদের স্ব-স্ব বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে জাতীয় উন্নয়নে অবদান। রাখতে হবে। তােমরাই আজকের অনুষ্ঠানের মধ্যমণি। তােমরা যে বিপুল স্বপ্ন নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হয়েছিলে আজ তা পাখা মেলতে শুরু করেছে। তােমাদের স্বপ্নের পাখা আজ দিগন্ত বিস্তৃত। অর্জিত জ্ঞানের পাখায় ভর করে তােমরা দেশ গড়ার কাজে ব্রতী হবে, দেশবাসী তা প্রত্যাশা করে। এই দেশ তােমাদের দিকেই তাকিয়ে আছে। মনে রাখতে হবে। এই দেশ, এ দেশের জনগণ তােমাদের এতােদিন দিয়ে এসেছে। তাদের করের অর্থেই তােমরা আজ গ্র্যাজুয়েট, প্রকৌশলী। তাই তােমরা দেশ ও জাতির কাছে ঋণী।

তােমাদের মেধা, কর্ম ও মনন দিয়ে সে ঋণ শােধ করতে হবে। সততা মানুষের জীবনে মূল্যবান সম্পদ। কর্মজীবনে তােমরা সৎ পথে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাবে। তােমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতীকে উল্লেখ আছে ‘ ঐশী জ্যোতিই আমাদের পথ প্রদর্শক। প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু মহসিন আহমেদ সততার পরাকাষ্ঠার প্রতীক হিসেবে এই কথা সংযােজন করেছিলেন। তাঁর শুভ ইচ্ছার সাথে সংগতি রেখে আমিও চাই অশুভ হাতছানি যেন কখনােই তােমাদের বিবেককে ধ্বংস করতে না পারে।

বিএ-০৪/০১-১২ (নিজস্ব প্রতিবেদক)