আজীবন সম্মাননা পেলেন চারজন

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ৮, ২০১৯ আপডেটঃ ৩:১৫ অপরাহ্ন

২০১৭ ও ২০১৮ সালের জন্য ঘোষিত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন চার প্রবীণ অভিনয়শিল্পী এটিএম শামসুজ্জামান, সালমা বেগম সুজাতা, নায়ক আলমগীর ও প্রবীর মিত্র। আগামী ৮ ডিসেম্বর দেয়া হবে দুই বছরের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজীবন সম্মাননাপ্রাপ্ত চারজনের অভিনয় জীবন

এটিএম শামসুজ্জামান: ১৯৬৫ সালে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে এটিএম শামসুজ্জামানের। তবে খ্যাতি পেতে একটু সময় লাগে তার। ১৯৭৬ সালে আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ ছবিতে ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করে তিনি আলোচনায় আসেন। এরপর থেকে নিয়মিত তিনি খলচরিত্রেই অভিনয় করতে থাকেন।

কেরিয়ারের এটিএম অভিনীত ছবির সংখ্যা না গুণে বলা মুশকিল। প্রতিটি ছবিটি তিনি অভিনয় করেছেন অত্যন্ত প্রতাপের সঙ্গে। পেয়েছেন তার মূল্যও। শ্রেষ্ঠ অভিনেতা, কৌতুক অভিনেতা ও পার্শ্বঅভিনেতা- এই তিনটি বিভাগে তিনি মোট পাঁচটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছেন। তার ঝুলিতে একুশে পদকের মতো বড় সম্মাননাও রয়েছে। এবার ২০১৭ সালের জন্য আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন প্রখ্যাত এই অভিনেতা।

সালমা বেগম সুজাতা: ১৯৬৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘রূপবান’ ছবির জন্য চলচ্চিত্র জগতে সুপরিচিতি সে সময়কার চিত্রনায়িকা সুজাতা। তার অভিনয়ে হাতেখড়ি হয়েছিল মঞ্চ নাটকে। এরপর ১৯৬৩ সালে পরিচালক সালাউদ্দিনের ‘ধারাপাত’ ছবির মাধ্যমে সুজাতার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। কিন্তু ১৯৭৮ সালের পর থেকে প্রায় এক যুগ তিনি অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন। বর্তমানে চলচ্চিত্র ও নাটকে সমানে অভিনয় করছেন। তিনিও ২০১৭ সালের জন্য আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন।

মহিউদ্দিন আহমেদ আলমগীর: সত্তর, আশি ও নব্বইয়ের দশকের তুমুল জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আলমগীর। এই তিন দশক ধরে তিনি চলচ্চিত্র জগতে রাজত্ব করেছেন। উপহার দিয়েছেন একের পর এক হিট ছবি। তার সঙ্গে চিত্রনায়িকা শাবানার জুটি ছিল সবচেয়ে বেশি দর্শকনন্দিত। ১৯৭৩ সালে ‘আমার জন্মভূমি’ ছবিটি দিয়ে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক। দীর্ঘ কেরিয়ারে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে জিতে নিয়েছেন রেকর্ড নয় বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এবার ২০১৮ সালের জন্য পেতে চলেছেন আজীবন সম্মাননা।

প্রবীর মিত্র: পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে এক সময় অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন প্রবীণ অভিনেতা প্রবীর মিত্র। আদর্শ বাবার চরিত্রে তার অভিনয় জুড়ি মেলা ভার। তিনি সবচেয়ে বেশি ছাপ ফেলেছেন পরিবারের বড় ভাই ও বাবার চরিত্রে। তবে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ ছবিতে নবাব সিরাজউদ্দৌলার চরিত্রটি তার কেরিয়ারের অন্যতম মাইলফলক। প্রবীর মিত্রের চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ১৯৭৩ সালে। অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান তার স্কুল জীবনের বন্ধু। প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে এবার প্রবীর মিত্রও পাচ্ছেন ২০১৮ সালের জন্য আজীবন সম্মাননা।

আরএম-০৩/০৮/১১ (বিনোদন ডেস্ক)