দাদার মৃতদেহ ৫ দিন আগলে রাখলেন বোন

প্রকাশিতঃ মে ১৬, ২০১৮ আপডেটঃ ১০:৪৪ অপরাহ্ন

ভারতের কলকাতার রবিনসন স্ট্রিটে দিদির মৃতদেহ দীর্ঘদিন আগলে রেখে সংবাদের শিরোনামে উঠে আসেন ভাই পার্থ। এর পর থেকেই মৃতদেহ না সৎকার করে আটকে রাখার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। নৈহাটির পালবাড়ি একে তো নিয়মের মধ্যেই করে নিয়েছেন। দেড় বছর আগে নৈহাটি বরদা রোডে মারা গিয়েছিলেন বাড়ির বড় ছেলে কাশীনাথ পাল। কাশীনাথরা তিন ভাই–বোন ছিলেন।

নৈহাটি স্টেশনের কাছে তাঁদের পান–পানীয়ের দোকান। তিনজনেই অবিবাহিত। কাশীনাথ মারা যাওয়ার পর তাঁর ভাই–‌বোন এতটাই শোকাহত হয়ে পড়েছিলেন যে তাঁরা দাদার মৃতদেহ সৎকার না করে আগলে রেখছিলেন।

তাঁদের বিশ্বাস ছিল, দাদার মৃত্যু হতে পারে না। তিনি ঘুমিয়ে আছেন। ৫ দিন পর তাঁর মৃতদেহ যখন ফুলেফেঁপে ওঠে এবং তা থেকে এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়ায়, তখন প্রথম গন্ধ পান প্রতিবেশী উমা সাহা। তিনিই লোকজন এবং পুলিশ ডেকে কাশীনাথের দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করেন।

আরও খবর : ‘শশা’ বিড়ালের কাছে আতঙ্ক!(ভিডিও)

কাশীনাথ মারা যাওয়ার পর ওই বাড়িতে থাকতেন কাশীনাথের ছোট ভাই অমরনাথ পাল (৬৫) এবং বোন শর্বাণী পাল (৫৫)। অমরনাথ এবং শর্বাণীর সঙ্গে দারুণ মিল ছিল। একজন আরেকজনকে চোখের আড়াল করতে চাইতেন না কিছুতেই। ৫ দিন আগে মারা যান অমরনাথ।

বড়দার মতো ছোটদা অমরনাথও মারা যায়নি, সে ঘুমিয়ে আছে, নিশ্চয় একদিন জেগে উঠবে, এই চিন্তা করে কাউকে কিছু না জানিয়ে মৃতদেহ আগলে রাখেন বোন শর্বাণী। এর মধ্যেই শর্বাণীর খাওয়াদাওয়া–সহ অন্যান্য কাজকর্ম ছিল স্বাভাবিক।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা নাগাদ ওই বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন প্রতিবেশী উমা সাহা। আচমকা তাঁর নাকে একটা দুর্গন্ধ আসে। তিনি উল্টোদিকের স্কুলের দারোয়ানকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কোনও গন্ধ পাচ্ছেন কি না। তিনিও জানান, একটা পচা গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। উমার মনে পড়ে যায় দেড় বছর আগের কথা।

কাশীনাথের দেহ আগলে রাখার কথা। তিনি সঙ্গে সঙ্গে অন্যদের নিয়ে ওই বাড়িতে ঢোকেন। দেখেন মেঝের একপাশে অমরনাথ মরে পড়ে রয়েছেন। দেহ ফুলে গেছে। পচা গন্ধে অন্নপ্রাশনের ভাত উঠে আসার মতো অবস্থা। তার মধ্যে দিব্যি রয়েছেন অমরনাথের বোন শর্বাণী।

অসংলগ্ন কথাবার্তা। আমতা আমতা করে বলে ওঠেন, ‘‌ভাই মারা গেছে জানি না। ভেবেছিলাম ঘুমিয়ে আছে।’‌ নৈহাটি থানার পুলিশ এসে মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

এসএইচ-২৫-১৬-০৫ (অনলাইন ডেস্ক, তথ্যসূত্র : আজকাল)