অভাবে নাতিকে মেরে নদীতে ভাসাল দিদিমা

প্রকাশিতঃ মে ২৫, ২০১৮ আপডেটঃ ২:৪১ অপরাহ্ন

অভাবের তাড়নায় নাতিকে খুন করে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল খোদ দিদিমার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ভারতের দক্ষিণ ২৪ পরগনার পারুলিয়া কোস্টাল থানার অন্তর্গত খোলাখালি গ্রামে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত দিদিমা সানারানি সামন্তকে গ্রেফতার করেছে পারুলিয়া কোস্টাল থানার পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

কয়েক বছর আগে সানারানি সামন্তের মেয়ে অর্চনার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল ডায়মন্ড হারবারের রামচন্দ্রপুরের বাসিন্দা তাপস মাঝির। বিয়ের পর থেকে সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল। তাপস ও অর্চনার দুটি কন্যা সন্তান ও একটি দশ মাসের পুত্র সন্তান রয়েছে। কিন্তু বেশ কিছুদিন আগে শ্বশুর বাড়ির সঙ্গে ঝামেলা হওয়ায় দশ মাসের ছোট সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে আসেন অর্চনা।

আরও খবর : হ্যারি-মেগানের বিয়ের উপহার নিলামে

অভাবের সংসারে ছোট নাতিকে নিয়ে মেয়ে বাপের বাড়িতে ওঠায় আরও সমস্যায় পড়েছিলেন অর্চনার মা সানারানি সামন্ত। নদীতে ডুব দিয়ে স্নান করে পুজো দিলে সব সমস্যা মিটে যাবে এই বলে মেয়েকে ও নাতিকে নিয়ে বুধবার সকালে বাড়ি থেকে অদূরে হুগলি নদীতে নিয়ে যান সানারানি। অভিযোগ, সেখানে অর্চনাকে নদীতে স্নান করতে পাঠিয়ে দিয়ে নাতিকে শ্বাসরোধ করে খুন করে নদীর জলে ফেলে দেন সানারানি।

স্নান সেরে অর্চনা ফিরে নিজের ছেলেকে দেখতে না পেয়ে মাকে জিজ্ঞাসা করলে সে সম্পর্কে কিছুই বলতে চাননি তার মা। বৃহস্পতিবার সকালে হুগলি নদীর চর থেকে উদ্ধার হয় ছোট শিশু রাজা মাঝির মৃতদেহ। এর পর সকলে মিলে সানারানিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চাপের মুখে নিজের দোষ স্বীকার করে নেন ওই মহিলা। বিষয়টি জানাজানি হতেই পারুলিয়া কোস্টাল থানার পুলিশ এসে গ্রেফতার করে অভিযুক্ত সানারানি সামন্তকে।

ধৃতকে বৃহস্পতিবার ডায়মন্ড হারবার আদালতে তোলা হলে বিচারক চোদ্দো দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। এই ঘটনায় এলাকার মানুষ যথেষ্ট আতঙ্কিত।

এসএইচ-২৬/২৫/০৫ (অনলাইন ডেস্ক, তথ্যসূত্র : এবেলা)