মাটির নিচে ৪ কিলোমিটার জুড়ে শহর!

প্রকাশিতঃ মে ২৬, ২০১৮ আপডেটঃ ৫:৩০ অপরাহ্ন

তুরস্কের বিল্ডাররা ঘটনাক্রমে কাপ্পাদকিয়া পারলৌকিক অঞ্চলের সবচেয়ে জটিল ও বৃহত্তম ভূগর্ভস্থ একটি শহর মাটির নিচে খুঁজে পান। এই স্থানটি তার অত্যাশ্চর্য শিলা গঠন, গভীর উপত্যকা এবং প্রাচীন ভূগর্ভস্থ গোপন আস্তানার কারনে বিখ্যাত। সর্বশেষ খুঁজে পাওয়া অঞ্চলটি কাপ্পাদকিয়ার সবথেকে বৃহত্তম শহর বলে মনে করা হচ্ছে। এর ৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে টানেল, গোপন গির্জা সমাধি ও নিরাপদ আশ্রয় রয়েছে।

ভূগর্ভস্থ শহরটি প্রায় ৫,০০০ বছর আগের তৈরি। বিল্ডাররা টানেল এর বিশাল নেটওয়ার্ক দেখতে পেয়ে শহরটি আবিষ্কার করেন। নাভসেহির দুর্গ এবং তুরস্কের হাউজিং উন্নয়ন দ্বারা সম্পাদিত একটি নির্মাণ প্রকল্পের জন্য খনন করার সময় এর পার্শ্ববর্তী এলাকার তলদেশে এই শহরটি আবিষ্কার করা হয়।

আরও খবর : রক্তের গরম পুকুর! (ভিডিও)

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এর এক রিপোর্ট অনুযায়ী, বহুস্তরীয় দালান যেখানে বসবাসকারী যায়গা, রান্নাঘর, খ্রিষ্টীয় ভজনালয় এবং সিঁড়ি অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। খুঁজে পাওয়া বুনিয়াদ প্রাচীরটি ১৯৬৩ সালে খুঁজে পাওয়া অন্য আরেকটি ভূগর্ভস্থ শহর ডেরিনকুয়ু এর মত। ডেরিনকুয়ু ১১ মাত্রা বিশিষ্ট্য একটি গভীর শহর। যেখানে ২০,০০০ অধিবাসী একসাথে ভূগর্ভে বাস করত। এখানে ঘুমের, আস্তাবলের, ওয়েলস, রান্নাঘর, সমাধি, সাম্প্রদায়িক কক্ষ ও বাথরুমের জন্য এলাকা ছিল।

ডেরিনকুয়ু ভূগর্ভস্থ শহরটি বাইরের বস্তু থেকে বাসিন্দাদের রক্ষা করার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু, মূলত এ শহরটি অনাবিষ্কৃত রয়ে যায়।কিন্তু, বর্তমানে যে শহরটি পাওয়া গেছে, তা ডেরিনকুয়ু এর তুলনায় তৃতীয় বড় শহর। Nevsehir বিশ্ববিদ্যালয় থেকে geophysicists সম্প্রতি জিওফিসিকাল resistivity এবং সিসমিক টোমোগ্রাফি ব্যবহার করে একটি 1.5 মাইল ( 4 কিমি) এলাকার একটি পদ্ধতিগত অধ্যয়ন করেন।

গবেষণায় জানা গেছে, ভূগর্ভস্থ মহলটির গভীরতা প্রায় ৩৭১ ফুট বা ১১৩ মিটার। কিন্তু সঠিক আকার এখনও অজানা। তুরকি ভাষায় কাপ্পাদকিয়া যা ‘সুন্দর ঘোড়া জমি’ নামে পরিচিত। পর্যটকেরা এখানে কিছুক্ষন এর জন্য অবশ্যই ভ্রমণ করেন। লক্ষ লক্ষ বছর আগে, অগ্ন্যুৎপাত আর ছাই এর কারনে অঞ্চলটির বিভিন্ন স্তর আচ্ছাদিত হয়ে যায়। তারপর বিভিন্ন ক্ষয় ও শিলার কারনে শহরটি ঢেকে যায়। আগ্নেয় শিলা বা চুনময় পাথর নরম এবং অত্যন্ত নমনীয়। এটি আদর্শ বিল্ডিং উপাদান হিসেবে পরিচিত।

এসএইচ-৩৫/২৬/০৫ (অনলাইন ডেস্ক)