ফেসবুক লাইভে আত্মহত্যা

প্রকাশিতঃ জুন ১২, ২০১৮ আপডেটঃ ২:৪৫ অপরাহ্ন

ঘরের মধ্যে জিনসের প্যান্ট ও টপ পরে ওড়নার ফাঁসে ছাত্রীর দেহ ঝুলছে। এমন ঘটনা যখন ঘটছে, তখন তরুণীর মোবাইলে চলছে ফেসবুক লাইভ। ভারতের সোনারপুরের বৈদ্যপাড়ায় ঘটনাটি ঘটে রোববার। সোনারপুরের কামরাবাদ গার্লস স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিল মৃত মৌসুমি মিস্ত্রি (‌১৭)‌।

ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর সোমবার সকালে এই ফেসবুক লাইভের কথা জানাজানি হয়। এদিনই ছাত্রীর পরিবার তাঁর প্রেমিক ঘাসিয়াড়ার বাসিন্দা আরিয়ানের বিরুদ্ধে মৃত্যুতে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। ওই ছাত্রীর প্রেমিক এবং তাঁর প্রাক্তন শিক্ষকের খোঁজ করার পাশাপাশি ৩০৬ এবং আইটি অ্যাক্টে মামলা শুরু করেছে পুলিশ।

বৈদ্যপাড়ায় ভাড়াবাড়িতে থাকে ছাত্রীর পরিবার। বাবা দীপক মিস্ত্রি রিকশা চালান। মা শম্পা মিস্ত্রি কলকাতায় আয়ার কাজ করেন। তাঁদের ৪ বছরের ছেলে ঠাকুমার কাছে থাকে। বাবা–মার সঙ্গে এখানে মৌসুমি থাকতেন। মা শম্পা বলেন, ‘‌মেয়ে সারাক্ষণ ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলত। শনিবার দুপুরে ফোন করে মৌসুমিকে ডাকে ওর বান্ধবী প্রিয়া। তাড়াতাড়ি সে বেরিয়ে যায়। সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরে।

আরও খবর : স্কুলে আইবুড়ো ভাত শিক্ষকের!

আমি কর্মসূত্রে কলকাতায় ছিলাম। রাতে ওর বাবা বাড়ি ফিরে দেখে, ঘরের দরজা বন্ধ করে মেয়ে ফোনে কথা বলছে। ওই রাতেই পাড়ায় জলসা দেখতে গিয়েছিল সে। সেখানে তার সঙ্গে ছিল আরিয়ান। ভোরে বাড়ি ফেরে মৌসুমি। পরের দিন বেশ বেলা হলেও ঘর থেকে না বেরোনোয় জানালার ফাঁক দিয়ে দেখি ঘরের মধ্যে গলায় ফাঁস দিয়ে ও ঝুলছে। টেবিলে মোবাইল ফোনে চলছে ফেসবুক লাইভ। এতেই সব পরিষ্কার হয়।’‌

মেয়ের বাবা দীপকবাবু জানান, ওই দিন সকালে আচমকাই মৌসুমির প্রাক্তন গৃহশিক্ষক চন্দন ফোন করে মেয়ের খোঁজ করেছে। তাতেই সন্দেহ, তিনিও ওই লাইভ ভিডিও দেখেছেন। তাঁর প্রশ্ন, আরও অনেকেই তো ওই লাইভ ভিডিও দেখেছেন তাঁরা কেন কিছু জানালেন না!‌

তাঁর আরও অভিযোগ, ফেসবুক লাইভে মেয়ে তার প্রেমিককে আত্মহত্যা করে দেখাবে বলে জানিয়েছিল। প্রেমিক তাতে প্ররোচনাও দিয়েছিল। পুলিস জানায়, ওই ছাত্রীর ফেসবুকে মৌসুমি মিস্ত্রি, কুইন প্রভৃতি বিভিন্ন নামে একাধিক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ছিল। ঘটনার দিন রাতে জলসা থেকে দেরি করে ফেরার জন্য মেয়েকে বকাবকি করেছিলেন তাঁর মা। আরিয়ান ও চন্দনের খোঁজ চলছে।

এসএইচ-১৩/১২/০৬ (অনলাইন ডেস্ক, তথ্যসূত্র : আজকাল)