গুহায় তৈরি হয় বোমা! (ভিডিও)

প্রকাশিতঃ জুলাই ১৪, ২০১৮ আপডেটঃ ২:৫৭ অপরাহ্ন

মেরিয়েটা দীপপুঞ্জ, পুয়ের্তো ভাল্লার্টা থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল দূরত্বে অবস্থিত। এটি মাটির একটি বিরাট গর্তের নিচে মেক্সিকোতে অবস্থিত। এটি সরল, শান্ত ও মনোরম একটি সৈকত। বছরের পর বছর ধরে এই দ্বীপটি মানুষের হাত থেকে অক্ষত রয়েছে।

মেরিয়েটা দীপপুঞ্জ “লুকানো বিচ” বা “প্লায়া দে আমর” নামেই বেশি সুপরিচিত। দ্বীপের প্রাকৃতিক গহ্বরময় শেল, স্ফটিক স্বচ্ছ ফিরোজা জল ও সাদা পাউডারের মত পাহাড়ের আকার-আকৃতি সত্যি মনকে বিমোহিত করে তোলে। এই বিচের বিভিন্ন ছবি ইন্টারনেটে বিস্তৃত হবার পর এই সৈকতটি মেক্সিকোর সবচেয়ে জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকতে পরিণত হয়েছে।

তবে এর এতো বেশি খ্যাতি থাকা সত্ত্বেও, লুকানো বিচের মাঝে যেতে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এখানে, হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উঠা-নামা পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া, অন্য কোন পদ্ধতি এখনও তৈরি করা হয় নি। এর গহ্বরময় দেয়ালের চারপাশ অনেক ছোট হওয়ায় চলাচল করা যাচ্ছে না। এর পানি ও পাথরের মধ্যে মাত্র ৬ ফুট খালি যায়গা রয়েছে। সৈকতের দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০ ফিট। এতে শুধুমাত্র সাঁতার ও স্কুবা ডাইভিং করা যায়, তাও শুধুমাত্র ভাটার সময়।

আরও খবর : কলেজ ছাত্রীর ২৯ দিনেই কোরআন মুখস্থ

এই নির্জন মার্ভেল অত্যন্ত আকর্ষণীয় হিসাবে উদ্ভব হয়। এটি প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের সময় বোমা সাইট হিসাবে মেক্সিকান সরকার কর্তৃক 1900 সালের গোড়ার দিকে গঠিত হয়েছে বলে জানা যায়। মেরিয়েটা দ্বীপপুঞ্জ স্পষ্টরূপে সরকারের চাঁদমারি সাইট ছিল। এই গুহায় বিভিন্ন ধরণের বোমা এবং শিলা গঠন করা হয়। এই বোমা ও অস্ত্র সরকারের নিয়ন্ত্রণে কাজে লাগানো হয়।

মেরিয়েটা দীপপুঞ্জ সেখানের পরিবেশে “মেক্সিকো গালাপাগোস” নামের এক মণি হিসেবে পরিচিত। হাজার হাজার বছর আগে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এর মাধ্যমে এই দীপপুঞ্জের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু, এখন এই দীপপুঞ্জে স্থলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীকুল একত্রে বসবাস করে।

এখানে বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রজাতি, কুঁজো তিমি রয়েছে। যার ফলে ইউনেস্কো এই দীপপুঞ্জকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করেছেন। বর্তমানে, সরকার দ্বারা এই দীপপুঞ্জকে সুরক্ষিত করে রাখে হয়েছে। তাই, কেউ এখানে যেতে চাইলে তাকে অবশ্যই অনুমতি নিতে হবে।

দ্বীপের গ্রীষ্মমণ্ডলীও জলবায়ুর কারণে ১২ মাস আপনি এখানে উপভোগ করতে পারবেন। পর্যটকের প্রিয় স্থান হয়ে উঠেছে মেরিয়েটা দ্বীপপুঞ্জ। বর্ষাকালের পর ও শীতকালের সময় এখানে ভ্রমণ করার সবচেয়ে উপযোগী সময়।

এসএইচ-১১/১৪/০৭ (অনলাইন ডেস্ক)