গাড়ি চুরি করতে বিমানে দিল্লি যাতায়াত করত চোর

প্রকাশিতঃ আগস্ট ১২, ২০১৮ আপডেটঃ ১১:১২ অপরাহ্ন

গত ৫ বছর ধরে প্রায় ৫০০ বিলাসবহুল গাড়ি চুরি করেছে এই দুর্ধর্ষ চোর। যতবারই পুলিস ধরতে গিয়েছে ততবারই হাত ফস্কে পালিয়ে গিয়েছে। মাত্র ২৯ বছর বয়স। সফরুদ্দিনকে ধরতে কম কসরত করতে হয়নি দিল্লি পুলিসকে। এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেও পুলিস নাগাল পাচ্ছিল না তার। অবশেষে পুলিসের হাতে ধরা পড়েছে সে। তবে সফরুদ্দিনকে ধরতে যে নাটকীয় অভিযান চালাতে হয়েছে তা বলিউডের যেকোনও থ্রিলার ছবিকে হার মানাবে।

শনিবার দিল্লি বিমানবন্দর থেকে সফরুদ্দিনকে ধাওয়া করতে শুরু করে পুলিস। প্রায় ৫০ কিলোমিটার ধরে চলে এই চোর পুলিসের খেলা। শেষে সফরুদ্দিনকে কাবু করে পুলিস। জেরায় পুলিস সফরুদ্দিন জানিয়েছে, সে গত পাঁচ বছর ধরে দিল্লিকে একাধিক দামি গাড়ি চুরি করছে। শুধু মাত্র রাজধানী দিল্লি থেকে নয় নয় করে প্রায় ৫০০টি বিলাসবহুল গাড়ি চুরি করেছে সে। তার সেটি অনায়াসে বিক্রি করেছে পাঞ্জাব, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশে।
এই গাড়ি চুরির পদ্ধতিও ছিল অত্যন্ত আধুনিক।

হায়দারাবাদ থেকে দিল্লিতে বিমানে আসত সফরুদ্দিন। সঙ্গে থাকত এক সহযোগী। দিল্লির ডিসিপি রাজেশ দেও জানিয়েছেন সফরুদ্দিনের সঙ্গে থাকত একটি ল্যাপটপ এবং অত্যাধুনিক সব গ্যাজেট। যার সাহায্যে যে অনায়াসেই যেকোনও বিলাসবহুল দামি গাড়ির সেন্ট্রাল লক সিস্টেম হ্যাক করতে পারত।

এমনকি জিপিএস ট্র্যাকারও বিকল করে দেওয়ার ক্ষমতা ছিল তার গ্যাজেটে। সেকারণেই অনায়াসেই রাস্তায় অথবা পার্কিংয়ে থাকা যেকোনও দামি গাড়ির লক স্টিস্টেম এবং জিপিএস অনায়াসে হ্যাক করতে পারত সে। এতটাই প্রযুক্তি নির্ভর ছিল সেই চুরি যে গত কয়েক বছরে পুলিসও ধোঁয়াশায় ছিল গাড়ি চোরকে নিয়ে।

গত বছর ১৩ অগস্ট দিল্লির জ্ঞান সিনেমার কাছে ফাঁদ পেতেছিল পুলিস। ইন্সপেক্টর নিরজ চৌধুরি এবং সাব ইন্সপেক্টর কুলদীপ সিং অনেক চেষ্টা করেছিলেন গাড়ি চোরকে ধরতে। দিল্লির প্রগতি ময়দান পর্যন্ত সফরুদ্দিনকে ধাওয়াও করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু ধরতে পারেননি। শুধু মাত্র চেহারা দেখেছিলেন। পরে তদন্তে নেমে তার নাম জানতে পারে পুলিস। গত এক বছর ধরে সফরুদ্দিনের গতিবিধি নজরে রাখার পর অবশেষে পুলিসের জালে ধরা পড়েছে গাড়িচোর।

এসএইচ-২৪/১২/০৮ (অনলাইন ডেস্ক, তথ্যসূত্র : আজকাল)