নারীদের হত্যা করে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি করতেন কারা

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ১০, ২০১৮ আপডেটঃ ৫:৫২ অপরাহ্ন

উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে নারীদের হত্যা কোনো নতুন ঘটনা নয়। কিন্তু মেক্সিকো পুলিশ এমন এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে যারা নারীদের হত্যার পরে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি করত। পুলিশের তদন্তে এ ঘটনার ভয়াবহতা প্রকাশিত হলে সেদেশের জনগণের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

গ্রেফতারের পর পুরুষটি অন্তত ২০জন নারীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। দম্পতির ফ্লাট এবং কাছাকাছি একটি জায়গায় মানব শরীরের টুকরো খুঁজে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একটি বালতি এবং ফ্রিজে রাখা ছিল।

তদন্তকারীরা বলছেন, এই দম্পতি শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রি করতেন, কিন্তু কাদের কাছে বিক্রি করতেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে নিখোঁজ ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা ন্যান্সি হুইট্রন এবং তার দুই মাস বয়সী সন্তান ভ্যালেন্টিনা। গত ৬ সেপ্টেম্বর বড় দুই সন্তানকে স্কুলে দিয়ে আসার পর থেকে ন্যান্সি আর তার ছোট সন্তানের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপরই ন্যান্সির প্রতিবেশীরা সন্দেহ প্রবণ হয়ে ওঠেন এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান।

তাদের প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, এই দম্পতি একটি বাচ্চা বহনের ট্রলি ঠেলে নিচ্ছিল তখন পুলিশ সেটি তল্লাশি করলে তার ভিতবে মানুষের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেখতে পায়।

হতভাগ্য নারীদের মাঝে একজন ছিলেন মিজ হুইট্রন যাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে ঘাতক হুয়ান কার্লোস। সে আরো স্বীকার করেছে যে, ২৩ বছরের অর্লেট অলগুইন এবং ২৯ বছরের ইভলিন রোহাসকেও হত্যা করেছে। এই তিনজনই একক মা ছিলেন, যারা গত কয়েকমাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে শিশু ভ্যালেন্টিনাকে খুঁজে পেয়েছে পুলিশ, যাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। সে এখন তার নানির সঙ্গে রয়েছে।

আদালতের কৌসুলিরা জানিয়েছেন, ঘাতকদ্বয় কোনো কোনো নারীকে হত্যার আগে যৌন নির্যাতনও করত। এবং শরীরের অঙ্গ বিক্রির পাশাপাশি তাদের জিনিসপত্রও তারা বিক্রি করে দিতো।

দেশটির মধ্যে মেক্সিকো স্টেটেই সবচেয়ে বেশি নারীদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে ৩৯৫ জন মানুষ নিখোঁজ হয়েছে, যাদের মধ্যে ২০৭ জনই নারী। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসবের কোন সমাধান বা বিচার হয় না।

এসএইচ-১০/১০/১০ (অনলাইন ডেস্ক, তথ্য সূত্র : বিবিসি)