স্যুটকেসে তরুণীর মুণ্ডহীন মরদেহ

প্রকাশিতঃ ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ আপডেটঃ ১০:৫৩ অপরাহ্ন

স্যুটকেসের ভেতরে এক তরুণীর মুণ্ডহীন মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহ তিন টুকরা করা ছিল। এই ঘটনায় ভারতের মহারাষ্ট্রের থানে শহর থেকে ৪৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি ওই তরুণীর বাবা। সম্প্রতি মেয়েটি এক সহকর্মীকে বিয়ে করার কথা জানায় তার বাবাকে। ২২ বছর বয়সী ওই তরুণীর সহকর্মী ভিন্ন গোত্রের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ওই তরুণীকে নিজের বাবার হাতে খুন হতে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযুক্ত অরবিন্দ তিওয়ারি তার মেয়ে প্রিন্সিকে হত্যার পর তিন টুকরো করে স্যুটকেসে রাখেন। পরে শনিবার রাতে একটি অটোরিক্সায় করে পালিয়ে যান। পরদিন ভোরে ওই স্যুটকেস উদ্ধার করে পুলিশ।

৩০ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে সোমবার অরবিন্দ তিওয়ারিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। রোববার ভোরে কল্যাণ রেলওয়ে স্টেশনের বাইরে একটি অটোর ভেতর থেকে ওই স্যুটকেসটি উদ্ধার করা হয়। সেখানকার অটোচালকরাই স্যুটকেসের ব্যাপারে পুলিশকে জানিয়েছিলেন। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, স্যুটকেসের ভেতর এক তরুণীর দেহ উদ্ধার করি আমরা। সেখানে মাথা ছিল না। কোমরের নীচের অংশ ছিল। মরদেহটি তিন টুকরো করা ছিল।

ঘটনার তদন্তে নেমে ওই এলাকার অটোচালকদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। সে সময় এক অটোচালক জানান, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে অটোতে এক ব্যক্তি ওই স্যুটকেস নিয়ে উঠেছিলেন। তা থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। তবে এ নিয়ে প্রশ্ন করলে কোনও উত্তর না দিয়ে অটোতে স্যুটকেস রেখে নেমে যান তিনি। এরপর পুলিশকে খবর দেন আশপাশের অটোচালকরা।

এরপর আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে পুলিশ। এতে দেখা যায়, ওই একই ধরনের স্যুটকেস নিয়ে ট্রেনে উঠছেন দু’জন ব্যক্তি। তবে এর মধ্যে লাল শার্ট পরা এক ব্যক্তি স্টেশনের কাছে একটি শৌচালয়ে ঢুকলেও সেখান থেকে বের হন সাদা শার্ট পরে। তাতেই সন্দেহ হয় পুলিশের। সিসিটিভি ফুটেজে আরও দেখা যায়, লাল শার্ট পরা অবস্থায় একটি অটোতে উঠছিলেন ওই ব্যক্তি। ফুটেজে ওই ব্যক্তির চেহারা দেখেই এরপর স্থানীয় এলাকায় তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। শেষমেশ স্যুটকেস উদ্ধারের প্রায় ৩০ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের কাছে ধরা পড়েন অরবিন্দ।

এসএইচ-১৮/১০/১৯ (অনলাইন ডেস্ক)