অতিরিক্ত মাছ-মাংস খেলে কী হয় জানেন!

প্রকাশিতঃ আগস্ট ১০, ২০১৮ আপডেটঃ ৫:৪৪ অপরাহ্ন

অতিরিক্ত মাছ-মাংস খেলে কী হয় জানেন! মাংসপেশী মজবুত করতে ও শরীরের বেড়ে উঠার জন্য প্রোটিন খুব জরুরি। কিন্তু আপনি কি জানেন অতিরিক্ত প্রোটিনও শরীরের উপকার করার চেয়ে উল্টো ক্ষতির কারণ হতে পারে? অস্ট্রেলিয়ার এক নারী বডিবিল্ডার অতিমাত্রায় প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট নিয়ে এক পর্যায়ে মারাই গেছেন।

এ ঘটনার পর  অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়। প্রতিদিনের খাবার তালিকায় অতিমাত্রায় প্রোটিন থাকাটা কি তাহলে এতোই ক্ষতিকর! অতিমাত্রায় প্রোটিন খাওয়ার পর মেগান হেফোর্ড নামের ঐ নারী বডি বিল্ডার এক পর্য়ায়ে সব সময় ক্লান্তবোধ করতেন ও অস্বাভাবিক আচরণ করতেন বলেই জানিয়েছেন তার মা।

ডাক্তাররা পরে জানিয়েছেন, তার মৃত্যুর অন্যতম কারণ হলো ইউরিয়া সাইকেল ডিজঅর্ডার। এর ফলে রোগীর মস্তিষ্কের কাজে ব্যাঘাত ঘটে। অস্পষ্টতা ও কনফিউশনে ভোগে রোগী, এক পর্যায়ে তা কোমায় নিয়ে যায় রোগীকে।

জেনে নিন হাই প্রোটিনের ঝুঁকি:

১) শরীরের বিপাক প্রক্রিয়ায় বাই প্রডাক্ট হিসেবে অ্যামোনিয়া তৈরি হয়। তাই অতিরিক্ত প্রোটিন খেলে শরীরে অ্যামোনিয়ার পরিমাণ বেড়ে গিয়ে হেফোর্ডের মতো মৃত্যু ঘটতে পারে।

২) একেকজনের শরীরে প্রোটিনের প্রভাব একেকভাবে পড়ে। তবে লিভার ও কিডনির রোগীদের প্রোটিন খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

৩) বডি বিল্ডার, দুধ পান করানো মা, গর্ভবতী, সার্জারির রোগীদের প্রোটিন খাওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

৪)  অতিরিক্ত কার্বোনেটযুক্ত খাবার শরীরে সহজে হজম হয় না ও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

৫) অতিরিক্ত প্রোটিন খেলে কিডনিকে অতিরিক্ত বর্জ্য শরীর থেকে বাইরে পাঠাতে হয়, এতে কিডনি এক পর্যায়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

অতিরিক্ত প্রোটিন খাচ্ছেন কীভাবে বুঝবেন?

প্রতিদিন হয়তো অতিমাত্রায় প্রোটিন খাচ্ছেন আপনি। তাই বুঝতে চেষ্টা করুন আপনার শরীর কিভাবে তা গ্রহণ করছে। শ্বাস-প্রশ্বাসে উদ্ভট গন্ধ, তার একটি পূর্বাভাস হতে পারে।

ভালোভাবে ব্রাশ করা ফ্লস করার পরও সেই গন্ধ যদি না যায়, তাহলে বুঝতে হবে অতিরিক্ত প্রোটিন খাচ্ছেন আপনি। অতিরিক্ত প্রোটিন খেলে শরীরের ওজন এক পর্যায়ে বেড়ে যায়। যেমন একটি গবেষণায় দেখা গেছে  অনেকেই প্রচুর ব্যায়াম করার পর ডিম খায় বেশি। এতে এক সময় তার ওজন বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই সুস্থ থাকতে হলে ডাক্তারের পরামর্শে প্রয়োজনীয় প্রোটিনই গ্রহণ করা বুদ্ধিামানের কাজ।

আরএম-১৪/১০/০৮ (স্বাস্থ্য ডেস্ক)