বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারী ১৬, ২০১৭ আপডেটঃ ১২:০১ পূর্বাহ্ন

বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তখন মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছিল। দেশের প্রায় সব শহরে ভাষার দাবিতে শুরু হয়েছিল আন্দোলন। তবে ভাষার জন্য মানুষের আবেগ-ভালোবাসার এ বিষয়টি তখনকার দৈনিক পত্রিকাগুলোর পাতায় খুঁজে পাওয়া যায়নি। এর ব্যতিক্রম ঘটেনি ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির পরও। বেপরোয়া গুলিবর্ষণ, প্রাণহানির বেদনাবিধূর সেই ঘটনা ২২ ফেব্রুয়ারি বা এর পরের দিনগুলোতে পত্রপত্রিকায় তেমনভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

তবে কয়েকটি সাপ্তাহিক ও দৈনিক মিল্লাত সংবাদ প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দৈনিক আজাদের সাহসী ভূমিকা দেখা গেলেও সরকারের চাপের মুখে তাদের শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতে হয়।

তখন উল্লেখযোগ্য দৈনিক বলতে ছিল দৈনিক আজাদ, দৈনিক সংবাদ এবং মুসলিম লীগ সমর্থক মর্নিং নিউজ। ছিল দৈনিক ইনসাফ এবং দৈনিক মিল্লাত। ভাষা আন্দোলনের সময়ই ১৪ ফেব্রুয়ারি পূর্ববাংলা জননিরাপত্তা অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে পূর্ববাংলা সরকার পাকিস্তান অবজারভারের প্রকাশনা নিষিদ্ধ করে।

আরও খবর : পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ লোক বাংলায় কথা বলে

সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলোর মধ্যে ছিল তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র সৈনিক, সাপ্তাহিক ইত্তেফাক ও সাপ্তাহিক নওবেলাল। এ ছাড়া জিন্দেগী ও চাষী নামে দুটি সাপ্তাহিক ছিল। ২২ ফেব্রুয়ারি মর্নিং নিউজ পত্রিকায় দুটি সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়েছিল। তার একটি ছিল ২১ ফেব্রুয়ারির গুলিবর্ষণ ও ছাত্রদের আচরণ নিয়ে। পত্রিকাটি একুশে ফেব্রুয়ারি ও সমগ্র ভাষা আন্দোলনের ব্যাপারকে ভারতের দ্বারা অনুপ্রাণিত এবং হিন্দুদের দ্বারা সংগঠিত বিষয়  হিসেবে উপস্থাপিত করে পুরো ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক চরিত্র দেয়ার চেষ্টা চালায়। প্রতিবেদনে তারা মিথ্যে তথ্য দেয়।

তৎকালীন প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সভাপতি মওলানা আকরম খাঁর মালিকানাধীন আজাদ একুশে ফেব্রুয়ারি দিন সন্ধ্যায়ই বিশেষ জরুরি সংখ্যা বা টেলিগ্রাম প্রকাশ করে। প্রায় সপ্তাহব্যাপী আজাদের এ সংক্রান্ত পরিবেশনা ছিল অনবদ্য। কিন্তু সরকারের উচ্চ মহলের চাপের ফলে আজাদের এই বিপ্লবী ভূমিকা এক পর্যায়ে স্তিমিত হয়ে যায়। মোহাম্মদ মোদাব্বেরের সম্পাদনায় মিল্লাত পত্রিকাও ছিল ভাষা আন্দোলনের জোরালো সমর্থক। গুলিবর্ষণে নিহতদের সংবাদটি ব্যানার হেডিং করেছিল মিল্লাত। তাদের আরেকটি রিপোর্টের শিরোনাম ছিল, ‘রাতের অাঁধারে এত লাশ যায় কোথায়?’

সাপ্তাহিকগুলোর মধ্যে সৈনিক, ইত্তেফাক, নওবেলাল ছিল নিজস্ব ভূমিকায় উজ্জ্বল। সৈনিক সংবাদ-সম্ভারে ভরপুর যেমন ছিল, থাকত অতিরঞ্জনও। সম্পাদকীয়-উপসম্পাদকীয়তে ছিল আবেগের বাড়াবাড়ি। ইত্তেফাক কিংবা নওবেলালের প্রতিবেদনে তথ্যগত ভুল কম থাকত, কিন্তু আবেগ বা উচ্ছ্বাস কম ছিল না। বিশেষ করে, সম্পাদকীয়-উপসম্পাদকীয় নিবন্ধে এর মাত্রা ছিল অনেক বেশি।

এসএইচ-০১/১৬/০২ (অনলাইন ডেস্ক)