ভারতের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে চার বিচারপতির অসন্তোষ

প্রকাশিতঃ জানুয়ারী ১২, ২০১৮ আপডেটঃ ৫:৪৮ অপরাহ্ন

ভারতের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে চার প্রবীণ বিচারপতি অসন্তোষ প্রকাশ করে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন। তারা প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ‘গণতন্ত্র বিপন্ন’ ‘সুপ্রিম কোর্টে সবকিছু ঠিকঠাক চলছে না’ বলে অভিযোগ আনেন।

এতে শোরগোল শুরু হয়েছে সারা ভারতজুড়ে। সাংবাদিক বৈঠকে বিচারপতিদের ওই মন্তব্যের পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আলোচনায় বসেছেন আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের সঙ্গে।কর্মরত অবস্থায় সাংবাদিক বিচারপতিদের সাংবাদিক সম্মেলন ভারতের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।

শুক্রবার নজিরবিহীন এ সাংবাদিক সম্মেলন ডাকেন বিচারপতি জে চেলামেশ্বর। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের পরে সুপ্রিম কোর্টের দ্বিতীয় প্রবীণতম বিচারপতি তিনি। তাঁর বাড়িতেই সাংবাদিক বৈঠকে হাজির ছিলেন বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি মদন বি লকুর এবং বিচারপতি ক্যুরিয়েন জোসেফ।

আরও খবর : আইনজীবী থেকে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি!

কী কারণে তাঁদের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ?‌ বিচারপতি চেলামেশ্বর বলেছেন, ‘‌দেশের ইতিহাসে এটা একটা অস্বাভাবিক ঘটনা। এরমধ্যে কোনও আনন্দ নেই, আমরা এটা করতে বাধ্য হয়েছি। সুপ্রিম কোর্ট ঠিকভাবে চলছে না।’‌

প্রধানবিচারপতি দীপক মিশ্রের কাজে যে তাঁরা অসন্তুষ্ট, তা গোপন না করেই চেলামেশ্বর বলেন, ‘দেশ এবং এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমরা ঋণী। এই প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করতে প্রধান বিচারপতি যাতে পদক্ষেপ করেন তা ‌নিয়ে বোঝাতে গিয়েছিলাম। আমরা ব্যর্থ হয়েছি।’‌

কর্মরত অবস্থায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হচ্ছেন বিচারপতিরা এমন ঘটনা আগে ঘটেনি। ডিসেম্বর মাসে একটি মামলার শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের সঙ্গে বিচারপতি চেলামেশ্বরের সংঘাত বাধে। সেই মামলা চেলামেশ্বরের হাত থেকে নিয়ে অন্য চার বিচারপতির হাতে দিয়ে দেন।

এই চার বিচারপতি মেনে নিয়েছিলেন— সুপ্রিম কোর্টে কোনও মামলার শুনানি কার হাতে যাবে তার সম্পূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার প্রধান বিচারপতির রয়েছে। ডিসেম্বরে মেডিকেল দুর্নীতি সংক্রান্ত ওই মামলার শুনানি চলছিল সুপ্রিম কোর্টে। লখনউ এর একটি মেডিকেল কলেজ ঘুষ নিয়ে ছাত্র ভর্তি করিয়েছে এমন অভিযোগ ওঠে। তার জন্য কালো তালিকা করা হয় ওই কলেজকে। কলেজটি সেই রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়েছিল। বিচারবিভাগও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত অভিযোগ ওঠার পরে সেই মামলা অন্য বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন প্রধান বিচারপতি।

এসএইচ-২০/১২/০১ (আন্তর্জাতিক ডেস্ক)