মোদির ১ লাখ বার কান ধরে উঠবস করা উচিৎ

প্রকাশিতঃ মে ১৬, ২০১৯ আপডেটঃ ৮:০৬ অপরাহ্ন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের র‌্যালির সময় বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙ্গায় তৃণমূলকে দুষেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ব্যাস, এতেই তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার মথুরাপুরের সভায় মোদির উদ্দেশে তিনি বলেছেন,‘মিথ্যে কথা বলার জন্য কান ধরে উঠবোস করা উচিত প্রধানমন্ত্রীর।’

বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙ্গা নিয়ে মোদি বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘তৃণমূলের গুন্ডারা’ মূর্তি ভেঙেছে। তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। একই সঙ্গে বলেছিলেন, ওই জায়গাতেই বিদ্যাসাগরের পঞ্চধাতুর মূর্তি বসাবেন তারা। সেই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরেই মথুরাপুরের মন্দিরবাজারে নির্বাচনী সভায় যোগ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই মোদির মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে কার্যত তুই-তুকারিতে নেমে আসেন মমতা।

তার সাফ জবাব, ‘উত্তরপ্রদেশে মিটিং করে বলেছে, মূর্তি বানিয়ে দেব, তোরটা থোড়াই নেব আমরা, আয়! বাংলার টাকা আছে বিদ্যাসাগরের মূর্তি বানানোর। দু’শো বছর আগেকার ঐতিহ্য ফিরিয়ে দিতে পারবে? জীবন গেলে জীবন ফিরিয়ে দিতে পারবে?’ ওই সভাতেই মমতা ফের বলেন, ‘তোমার কাছে বাংলা ভিক্ষে চায় না।’

তথ্যপ্রমাণ এবং ভিডিও হাতে আছে দাবি করে মোদির উদ্দেশে মমতার হুঁশিয়ারি, ‘দু’শো বছরের ঐতিহ্য তুমি ভেঙেছ, আমাদের কাছে সব ভিডিও কপি আছে। আর তুমি বলছ, তৃণমূল কংগ্রেস করেছে, লজ্জা করে না? কান ধরে উঠবোস করা উচিত এই প্রধানমন্ত্রীর। এক বার নয়, লক্ষবার। মিথ্যে কথা বলার জন্য। মিথ্যেবাদী! হয় প্রমাণ কর, নইলে তোমাকে কিন্তু আমরা জেলে টানব। তার কারণ, আমরা কিন্তু ছেড়ে কথা বলার লোক নই। আমাদের কাছে প্রমাণ আছে, নথি আছে। নথি নিজেই কথা বলবে। আইন আইনের পথেই চলবে।’

দু’দিন আগেই ক্যানিংয়ের সভা থেকে অমিত শাহ বলেছিলেন, ‘সোনার বাংলাকে কাঙাল’ করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সেই আক্রমণের জবাবে মমতা বলেন, ‘তোমার নেতা, ওই অমিত শাহ, গুন্ডা, কী বলে গিয়েছে বাংলায়? বাংলাকে কাঙাল বলে গিয়েছে তোমার পার্টি। মনে রেখ, বাংলার একটা মানুষও বিজেপি করবেন না, বিজেপির সঙ্গে যাবেন না।’

একই সঙ্গে কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে মমতা বলেন, ‘যাবা যাবেন (বিজেপির সঙ্গে) তারা জেনে রাখুন, আগামি দিনে সমাজ তাদের গ্রহণ করবে না। ভালবাসবে না। যারা টাকার জন্য গিয়েছেন, তারা জেনে রাখুন, মোদি বলেছিল, বছরে দু’কোটি চাকরি দেবেন। একটাও তো দেয়নি, উপরন্তু আরও তিন কোটির চাকরি ছিল, তারা বেকার হয়ে গিয়েছেন। ১২ হাজার কৃষক আত্মহত্যা করেছে আপনার আমলে।’

বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতিকে কাঠগড়ায় তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘গোরক্ষক তৈরি করেছে, আপনাদের এখানে কয়েকটা জুটেছে, এই আশেপাশেই আছে। বাইরে থেকে এসে এখানে জনসঙ্ঘ করে। না আরএসএস করে, কি একটা করে। নজরে রাখুন। তার কারণ, এদের মতো এত বিপজ্জনক, এত মৌলবাদী, উগ্রবাদী আর কেউ নেই। এরা বিদ্বেষ ছড়ায়। সমাজে দাঙ্গা ছড়ায়।’

এসএইচ-২৯/১৬/১৯ (অান্তর্জাতিক ডেস্ক)