ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে প্রাণ হারালো ১ লাখ মানুষ

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ৩, ২০১৯ আপডেটঃ ৮:০৪ অপরাহ্ন

২০১৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে প্রাণহানি হয়েছে অন্তত এক লাখ মানুষের। সম্প্রতি দ্য আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডাটা (এসিএলইডি) প্রজেক্টের এক প্রতিবেদনে এতথ্য জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, এক লাখ মৃত ব্যক্তির মধ্যে ১২ হাজার বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। চলতি বছরেই মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২০ হাজার মানুষের।

মধ্যপ্রাচ্যের দরিদ্রতম দেশ ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরু হয়েছে ২০১৪ সালে। সেসময় রাজধানী সানা থেকে সরকার হটিয়ে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা উত্তর ও কেন্দ্রীয় ইয়েমেন দখল করে।

২০১৫ সালের মার্চে সৌদি নেতৃত্বাধীন সেনারা হুথি বিদ্রোহীদের দমনে বিমান হামলা শুরু করে। এতে ধ্বংস হয়ে যায় দেশটির অসংখ্য স্কুল-কলেজ, হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ ভবন। জবাবে হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের ওপর পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

এসিএলইডি ও ইয়েমেন ডাটা প্রজেক্টের সমন্বিত উদ্যোগে যুদ্ধে নিহতদের বিষয়ে জরিপ করা হয়। তারা কয়েকটি উৎস থেকে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে যুদ্ধে সরাসরি সহিংসতায় নিহতদের এ পরিসংখ্যান তৈরি করে। এ কাজে অর্থ সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ডাচ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের এপ্রিলে ২৫শ’ মানুষ মারা গেছে, যা এখন পর্যন্ত এক মাসে সবচেয়ে বেশি নিহত হওয়ার ঘটনা। সেপ্টেম্বরে মারা গেছে ১৭শ’ মানুষ। ২০১৯-এর শেষের দিকে মৃতের সংখ্যা কমলেও বেড়েছে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর হার।

সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটছে তাইজ, হোদেইদা ও জফ প্রদেশে। ২০১৫ সাল থেকে এ তিনটি প্রদেশে ১০ হাজার করে মানুষ মারা গেছে।

সরাসরি লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় ২০১৫ সাল থেকে আট হাজার বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।

বিমান ও বোমা হামলাসহ সব ধরনের যুদ্ধে নিহতরা এ তালিকায় রয়েছে। তবে, দুর্ভিক্ষসহ যুদ্ধের কারণে উদ্ভূত দুর্যোগে নিহতদের এ তালিকায় রাখা হয়নি।

যদিও, অন্য অনেক উৎস বলছে, গৃহযুদ্ধে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি।

এসএইচ-২৫/০৩/১৯ (আন্তর্জাতিক ডেস্ক)