গর্ভধারণে উর্বরতা বৃদ্ধির প্রাকৃতিক উপায়

গর্ভধারণে উর্বরতা

যদি গর্ভধারণে ঝামেলা অনুভব করেন কিংবা উর্বরতা বিষয়ে সমস্যায় রয়েছেন বলে মনে হয়, তবে আপনাকে স্বাস্থ্যটাকে ঠিক করতে হবে। উর্বরতা বৃদ্ধির কিছু প্রাকৃতিক পদ্ধতি রয়েছে। এগুলোর জানান দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

১. জারায়ুকে উষ্ণ রাখুন : চাইনিজ চিকিৎসায় বলা হয়, শীতল জরায়ুতে রক্ত চলাচল করে না। আর এ কারণে গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে। শীতল জরায়ুতে একটা শিশু বেড়ে ওঠার স্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকে না বলে জানান ওমেন্স হেলথ অ্যান্ড ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ আকুপাংকচারিস্ট। তার মতে, আপনি গর্ভধারণ করতে পারেন এমনকি ৪০ এর কোঠায়। যদি পিরিয়ডের রক্ত গাঢ় বেগুনি বা কালো হয়ে থাকে, তবে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। জরায়ুকে উষ্ণ রাখতে গরম গোসল করতে পারেন। মোজা পরে থাকবেন। এ ছাড়া আদা বা দারুচিনির চা খাবেন।

২. সময়মতো সেক্স : যদি ২৮ দিনের চক্র থাকে, তবে ডিম্বাণু উর্বর থাকবে ১৪তম দিনে। এ সময় সেক্স করলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকে। তাই চক্রের ১২, ১৪ ও ১৬তম দিনে সেক্স করতে হবে। আবার ঘন ঘন সেক্স করলেও গর্ভধারণের সমূহ সম্ভাবনা থাকে।

৩. আবেদনময় সেক্স করুন : যেহেতু যৌনতার মাধ্যমেই গর্ভধারণ ঘটে, কাজেই তা বেশি বেশি ও উপভোগ্য করে করাই ভালো। গবেষণায় বলা হয়, চক্রের যে সময়টাতে উর্বরতা থাকে না তখন সেক্স করলেও উর্বরতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, অটোইমিউন সিস্টেমের কারণে নারীর ভ্রূণ শুক্রাণুকে গ্রহণ করে না। এর কারণ হতে পারে যথেষ্ট সেক্স না করা। কেবল বেশি সেক্সই নয়, খুব আবেদনময় সেক্সও উর্বরতা বৃদ্ধি করে।

৪. হাড়ের সুরুয়া খান : পুষ্টি উপাদান গর্ভধারণের অতি জরুরি অংশ। এটি বয়স বৃদ্ধির হারকে ধীর করে আনে। চাইনিজ চিকিৎসবায় হাড়ের মজ্জা ও সুরুয়া গর্ভধারণে উপকারী। হাড়ের স্যুপ বানিয়ে খেতে হবে।

৫. সঠিক লুব্রিকেন্টের ব্যবহার : মুখের স্বাস্থ্যকর শ্লেষ্মাও গর্ভধারণে কাজ করে। পিচ্ছিলকারক পদার্থ সেক্সকে অনেক বেশি আরামদায়ক করতে পারে। যদি লুব্রিকেন্ট তেল বা পেট্রোলিয়ামে বানানো হয়ে থাকে, তবে তা শুক্রাণুকে সঠিক পথে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। কিছু লুব্রিকেন্টে থাকে যার উপাদান শুক্রাণুকে মেরে ফেলে।

৬. গমের ঘাস : গমের ঘাসে দারুণ শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি দেহের ইস্ট্রোজেনের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং উর্বরতা বৃদ্ধি করে।

৭. বিষ দূরীকরণ : রাসায়নিক পদার্থ উর্বরতা নষ্ট করে। আমেরিকার এক হিসাবে বলা হয়, হাজার রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে যা নারীর গর্ভাধারণের ক্ষেত্রে বিষ হিসাবে কাজ করে। এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনলজি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ কথা বলা হয়। পরিষ্কার করার উপাদান, খাবার, প্রসাধন ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে। এসব ব্যবহারে সচেতন হতে হবে।

৮. আবেগ নিয়ন্ত্রণ : যখন গর্ভধারণে সমস্যা হয় তখন দেহে সমস্যা রয়েছে বলে মনে করা হয়। এটি সম্পর্কেও বিরূপ প্রভাব ফেলে। নেতিবাচক আবেগ জেগে ওঠে যা সম্পর্ককে বিষাক্ত করে তোলে। মানসিক অশান্তি গর্ভাধারণে ঝামেলা করতে পারে। এই অবস্থা জরায়ুর দিকে শক্তি প্রবাহে বাধার সৃষ্টি করে। তাই মানসিকভাবে চাপমুক্ত থাকতে হবে। মনের গভীরের সঙ্গে কথা বলতে হবে। নিজের প্রতি আস্থাশীল থাকতে হবে।

৯. স্মার্টফোনটি বন্ধ রাখুন : রাত জেগে স্মার্টফোন ব্যবহার বা টেলিভিশনে সময় নষ্ট করতে থাকলে তা দেহের সার্কাডিয়ান রিদম নষ্ট করে। এতে উর্বরতা নষ্ট হয় বলে গবেষণায় জানানো হয়। ফার্টিলিটি অ্যান্ড স্টেরিলিটি জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণায় বলা হয়, প্রযুক্তিতে ব্যস্ত না থেকে ইয়োগা বা ব্যায়াম চলতে পারে। সেক্সও করতে পারেন। তা ছাড়া স্বাস্থ্যকর গর্ভধারণে পর্যাপ্ত ঘুমও দরকার।

১০. অ্যাপের সঠিক ব্যবহার : গর্ভধারণ বিষয়ক অ্যাপ ব্যবহার করে থাকলে তার সঠিক ব্যবহার জেনে নিন। যদি পিরিয়ড নিয়মিত হয়, তবে অ্যাপটি সঠিক ফলাফল দেয়। অবস্টেট্রিক্স অ্যান্ড গাইনকোলজি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়, এমন ৩৩টি অ্যাপের মধ্যে মাত্র ৩টি অ্যাপ সঠিকভাবে নারীর উর্বর অবস্থা বুঝতে পারে। যদি পিরিয়ড অনিয়মিত থাকে তবে অ্যাপের মাধ্যমে উর্বরতা বুঝতে সাবধান থাকতে হবে।

১১. মাছ খেতে হবে : ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিডের দারুণ এক উৎস মাছ। এই উপাদানটি গর্ভধারণের জন্য উপকারী। পারদের প্রভাবেও গর্ভাধারণ বাধাগ্রস্ত হয়। তাই মাছ খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দিন।

আরএম-২৪/০৯/০২ (লাইফস্টাইল ডেস্ক)