আইটি ব্যবসায় সফল হওয়ার কৌশল

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ৩, ২০১৯ আপডেটঃ ৫:৫১ অপরাহ্ন

আইটি ব্যবসায় সফল হওয়ার অনেক মন্ত্র রয়েছে, বেশি জরুরি হলো সে বিষয়গুলো জানা যেগুলো আইটি ব্যবসা পরিচালনার সময় এড়িয়ে চলা উচিত। জেনে নেওয়া যাক সেই বিশেষ বিষয়গুলো।

ঝোঁকের বশে ব্যবসা শুরু করা: যেকোনো ব্যবসা শুরু করার আগে আপনি যা নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছেন, সেই প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি। অনেকেই ‘আইটি ব্যবসায় প্রচুর লাভ’ এই কথা মনে করে ঝোঁকের বসে ব্যবসা শুরু করে দেন। অবশেষে আইটি প্রোডাক্ট, সার্ভিস এবং সর্বোপরি টেকনোলজি সম্পর্কে ধারণা না থাকার কারণে এক সময় ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হয়।

সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য না থাকা: অনেক কোম্পানি থিওরিটিক্যালি বিভিন্ন লক্ষ্য লিখলেও মনেপ্রাণে শুধু অর্থ উপার্জনকেই মূল মনে করে, যেটি আসলে ফলপ্রসূ হয় না। বাস্তবে দেখা গেছে, সেসব কোম্পানিই সত্যিকারে ব্যবসা সফল হয়েছে যারা মানুষকে সেবা দিতে চেয়েছে।

যুগোপযোগী সার্ভিস নিয়ে না আসা: কোনো কোম্পানি বছরের পর বছর একই সেবা দিয়ে ব্যবসা ধরে রাখতে পারে না। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রেতাদের চাহিদার কথা চিন্তা করে প্রোডাক্ট বা সার্ভিসে পরিবর্তন না আনলে কোম্পানি ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়বে।

প্রজেক্ট পেতে প্রজেক্টের টাইম এবং বাজেট অনেক কমিয়ে ফেলা: অনেক কোম্পানি বিশেষ করে স্টার্টআপ কোম্পানিগুলো মনে করে যে কাস্টমারকে কম বাজেট এবং কম টাইম বললে সে খুশি হয়ে প্রজেক্ট দিয়ে দেবে। নতুন কোম্পানির শুরুতে ক্লায়েন্ট পাওয়ার জন্য রিজনেবল ডিসকাউন্ট অফার করা খারাপ না। কিন্তু তাই বলে অত্যধিক কম বাজেট বা টাইম দেওয়া কখনই উচিত নয়। দেখা যাবে, আপনার সীমিত লোকবল দিয়ে আপনি দ্রুত প্রজেক্ট শেষ করতে যাবেন, তখন আর কোয়ালিটি মিট করা সম্ভব হবে না; অথবা বাজেট কম করে ফেলার কারণে দেখা যাবে আপনাকে হয়তো লস ঠেকাতে দায়সারাভাবে প্রজেক্ট শেষ করতে হচ্ছে। এভাবে বাজেট বা সময় কমিয়ে আপনি হয়তো প্রজেক্ট পাবেন, কিন্তু সেটি হয়তো আপনার ওই ক্লায়েন্টের সঙ্গে শেষ প্রজেক্ট হবে।

প্রোডাক্ট/প্রজেক্ট হস্তান্তর পরবর্তী সেবা ঠিকমত না দেওয়া: অনেক কোম্পানিই প্রোডাক্ট বা প্রজেক্ট ডেলিভারি করার পর পরবর্তী সেবা এমনকি যোগাযোগ পর্যন্ত ঠিকমত রাখে না। অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, যেকোনো ব্যবসায়, বিশেষ করে আইটি ব্যবসায় ফিরতি কাস্টমারের প্রতি খেয়াল রাখা খুবই জরুরি। কারণ ফিরতি গ্রাহক পাওয়ার সুবিধা আইটিতে অনেক বেশি।

খরচের উপর নিয়ন্ত্রণ না রাখা: অনেক কোম্পানি শখের বশে বা ভবিষ্যৎ চিন্তা না করেই বাড়তি খরচ করে ফেলে, যেটি পরবর্তীতে ব্যবসার ক্ষতি বয়ে আনে। যেকোনো খরচ করার আগে অবশ্যই সেই খরচের নিড অ্যানালাইসিস (প্রয়োজনীয়তা যাচাই) করা জরুরি।

কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী না হওয়া: যেকোনো কোম্পানির চালিকাশক্তি হলো সেই কোম্পানির কর্মচারী; আর তাই কর্মচারীদের সুযোগ সুবিধার প্রতি খেয়াল রাখা খুবই জরুরি। অনেক কোম্পানি শখের বসে অভিজাত এলাকায় অফিস বানানো, জমকালো অফিস ডেকোরেশন করা ইত্যাদিকে প্রাধান্য দেয়। অথচ এসব খরচ কমিয়ে যদি তারা কর্মচারীদের বেতন এবং সুবিধার কথা ভাবে তাহলে বরং আরো ভাল ফল পাবে।

নির্ভরশীলতাকে সমবণ্টন না করা: আপনি যদি দেখেন যে, আপনার কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো গুটিকয় মানুষের উপর নির্ভরশীল, এবং সেই মানুষগুলোর কোনো বিকল্প নেই, তাহলে বুঝবেন আপনার কোম্পানি ঝুঁকিতে আছে।

সঠিক ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠা করা: কোম্পানিতে কে, কখন, কোথায়, কি কাজ করবে, কোন কাজটির পর কোন কাজটি হবে, কতক্ষণে কোন কাজের ডেলিভারি হবে, এই ব্যাপারগুলো সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা খুবই জরুরি। অনেক কোম্পানিতে দেখা যায়, কোথায় কি কাজ হচ্ছে তার কোনো স্বচ্ছচিত্র নেই, যার ফলে কেউ অনেক কাজের চাপে আছে, আবার কেউ কাজহীনভাবে বসে সময় কাটাচ্ছে।

সঠিক মার্কেটিং স্ট্রাটেজি তৈরি করতে না পারা: মানুষকে আপনার প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস সম্পর্কে জানানোর অন্যতম মাধ্যমই হল মার্কেটিং। আপনার সেবা কোন ধরনের টার্গেট মার্কেটের বা গ্রাহকের জন্য সেটি বুঝে সে অনুযায়ী যদি আপনি মার্কেটিং স্ট্রাটেজি তৈরি না করেন, তাহলে আপনার ব্যবসা উঠবে না। ডিজিটাল মার্কেটিং বর্তমানে অনেক জনপ্রিয়। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে আপনার সেবার সম্পর্কে আপনি সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারবেন।

সহজেই হাল ছেড়ে দেওয়া: বাস্তবে দেখা গেছে, অনেক কোম্পানি ভালো ভালো কনসেপ্ট নিয়ে শুরু করার পরেও খুব তাড়াতাড়ি সেই ব্যবসা গুটিয়েও নিয়েছে। এর কারণ হলো অনেকেই ধৈর্যের সঙ্গে ব্যবসাকে ধরে রাখতে পারে না। কয়েকদিন চলার পর যখন দেখে যে লাভ আসছে না বা ফলপ্রসূ হচ্ছে না, তখন সেই ব্যবসা গুটিয়ে নিয়ে অন্য কিছু করার চেষ্টা করে। আপনি যদি নিশ্চিত থাকেন যে আপনি যে ব্যবসা করছেন আসলেই সেই ব্যবসা সফল হওয়ার মত, তাহলে ধৈর্য ধরুন, এবং সহজেই ব্যবসার হাল ছেড়ে দেবেন না।

আরএম-২৩/০৩/১০ (লাইফস্টাইল ডেস্ক)