কুয়েতের ভিসা পেতে হয়রানী ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে

প্রকাশিতঃ জানুয়ারী ১২, ২০১৮ আপডেটঃ ১১:৩০ পূর্বাহ্ন

কুয়েতগামি যাত্রীরা পদে পদে ভোগান্তি ও হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে ভিসা পেতে আগ্রহীদের অনাহুত হয়রানী ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কুয়েত গমনেচ্ছু কয়েকজন যাত্রীর সাথে আলাপ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সুত্র জানায়, কুয়েত দূতাবাস কর্তৃক ভিসা প্রদানে অলিখিত ভাবে ‘হট সার্ভিস’ প্রবর্তন করায় এই সমস্যা প্রকট আকার ধারন করেছে, এই সাথে বেড়েছে ভোগান্তি ও হয়রানী। আবার দূতাবাস কর্তৃক অলিখিত ভাবে চালু করা ‘হট সার্ভিস’র এই সুযোগ নিতে পারছেনা সকল রিক্রুটিং এজেন্ট, ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠান।

দূতাবাসের প্রবর্তিত এই হট সার্ভিস সেবা নিতে প্রতিটি পাসপোর্টে অতিরিক্ত খরচ করতে হয় ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। এই অর্থ পরিশোধ করলে মাত্র ৫/৬ ঘন্টায় মেলে হট সার্ভিস সেবা। বর্তমানে কুয়েতে গমনেচ্ছু শ্রমশক্তির পাসপোর্ট,ভিসাসহ অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুতিতে জড়িত রিক্রুটিং এজেন্ট,ট্রাভেল এজেন্টদের মধ্য থেকে মাত্র ৫/৬ টি প্রতিষ্ঠান‘হট সার্ভিসের সুযোগ পাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও খবর : শীতার্তরা কি আদৌ সহায়তা পাচ্ছেন?

কুয়েত দূতাবাসের ভিসা অফিসার আব্দুর রশিদ জানান, কুয়েত গমনেচ্ছুদের কাছ থেকে ভিসা রিসিভড করা এবং তা প্রয়োজনীয় কাজ শেষে ফেরত দেয়ার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হচ্ছেনা। তবে মাঝে মধ্যে প্রযুক্তিগত ক্রুটির কারণে ভিসা প্রসেসিং এ কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। ‘হট সার্ভিস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এরকম কোন সার্ভিস চালুর তথ্য তার জানা নেই। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে কারো কোন সমস্যা হলে তার সাথে যোগাযোগ করলে সমস্যার সমাধান করে দেবেন।

দূতাবাসের মেসেঞ্জার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, তিনি কাউন্সিলরের অধীনে কাজ করেন। হট সার্ভিনের টাকা নেয়ার বিষয়ে তাঁর সম্পৃক্ততা নেই। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ভাল বলতে পারবেন। কারণ তিনি উর্দ্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশে কাজ করেন।

ভূক্তভোগী কয়েকজনের সাথে আলাপে জানা গেছে, কুয়েত গমনেচ্ছুদের ভিসা প্রসেসিং এ ‘কথিত ‘হট সার্ভিস চালু এবং অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ সংক্রান্ত তথ্য ও সৃষ্ট সমস্যা সম্পর্কে তথ্য জানিয়ে কুয়েত সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং ঢাকাস্থ কুয়েত দূতাবাসের স্থানীয় দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলেও সমস্যা সমাধান হয়নি। এ কারণে কুয়েতগামি যাত্রী ভোগান্তি, হয়রানী কমেনি, যাত্রীদের খরচও বেড়েছে। একই সাথে কুয়েতে শ্রম শক্তি প্রেরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, কুয়েত গমনেচ্ছু কর্মীরা নিজ উদ্যোগে ভিসা সংগ্রহ করে এবং স্থানীয় রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে তা প্রসেস করে। এ পর্যায়ে কুয়েত থেকে ইস্যুকৃত ওয়ার্ক পারমিট,পুলিশ ক্লিয়ারেন্স,উইনস্ট্রিন থেকে মেডিকেল সদন পত্র সংগ্রহ করে এন্ট্রি ভিসার জন্য কুয়েত দূতাবাসে তা জমা দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে দূতাবাসের অনুমোদিত রিক্রুটং এজেন্টরা এন্ট্রি ভিসা সংগ্রহ করার সুনিদ্দিষ্ট দিনলিপি বা নিদ্দিষ্ট সময় সীমা না থাকার কারণে সুনির্দিষ্ট ফ্লাইট ডেট দিতে পারেনা।

আবার কখনো কখনো এন্ট্রি ভিসা সংগ্রহ করার জন্য পাসপোর্ট জমা দেয়ার সুযোগ পেলেও ক্লিয়ারেন্স পেতে অনির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ২০/২৫ থেকে এক মাস পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হয় কুয়েতগামি যাত্রীদের। তখন বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ৯/১০ হাজার টাকা খরচ করে ‘হট সার্ভিসের’ মাধ্যমে মাত্র ৫/৬ ঘন্টায় ক্লিয়ারেন্স সংগ্রহ করে থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুয়েত দূতাবাসের জনৈক মেসেঞ্জার তথা বার্তা বাহকসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা কর্মচারি এই অনৈতিক অর্থ লেনদেনে জড়িত রয়েছে। যাত্রী ও রিক্রুটিং এজেন্ট থেকে আদায় করা অতিরিক্ত এই টাকা হট সার্ভিসের সাথে সম্পৃক্ত এজেন্টরা সংগ্রহ করে এ বিষয়টি বিভিন্ন সময় সংশ্ষ্টি ভূক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রী,রিক্রুর্টিং এজেন্ট, ভিসা প্রসেসকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দূতাবাসের উর্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হলেও বাস্তবে প্রতিকার মেলেনি।

সূত্র জানায়, ঢাকাস্থ কুয়েত দূতাবাসের ভিসা সেকশনের দুর্নীতি কুয়েতগামী কর্মীদের বিপাকে ফেলেছে। দূতাবাসের পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচী না থাকার কারণে অনুমোদিত এজেন্টরা অপেক্ষায় থাকেন কবে পাসপোর্ট গ্রহণ ও ডেলিভারি করা হবে। এ ছাড়াও এজেন্টরা সুনির্দিষ্ট ভাবে কুয়েতগামী কর্মীদের ভ্রমন তারিখ প্রদানে কোন দিক নির্দেশনা দিতে না পারায় কর্মী ও এজেন্টদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

হট সার্ভিস ব্যবহারকে গোপনে উৎসাহিত করায় দূতাবাস সাধারণ এজেন্টদের থেকে সংগৃহীত পাসপোর্ট ভিসার মেয়াদের পূর্বে ২০ থেকে ২৫ দিন পর্যন্ত দূতাবাসে জমা রেখে ডেলিভারী করে। সাধারণ এজেন্টদের (হট সার্ভিসের সাথে সম্পৃক্ত নয়) মাসে ২ (দুই) বার পাসপোর্ট সংগ্রহ করা হয় তবে এ জন্য পূর্ব নির্ধারিত সময় সূচী না থাকায় বেশী সমস্যায় পড়েছে সাধান রিক্রুটিং এজেন্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দূতাবাসের অপর এক নবীন ভিসা রাইটার মেডিকেলে অনুত্তীর্ণ কুয়েত গামী কর্মীদের প্রবেশ ভিসা সংগ্রহ করে দেয় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। যা কুয়েত সরকারের নীতি বিরোধী। হট সার্ভিস ও মেডিকেলে অনুত্তীর্ণ কর্মীদের ভিসা সংগ্রহের নামে কুয়েত দূতাবাসের ভিসা সেকশনের কর্মকর্তা ও কর্মীরা অবৈধ উপায়ে বিপুল পরিমান টাকা হুন্ডি আকারে বিদেশে পাচার করছে বলে ।

এসএইচ-০৯/১২/০১ (জাফর আহমদ, আমাদের সময়)