খালেদা জিয়ার জেল হওয়ায় সুবিধা হয়েছে শেখ হাসিনার!

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারী ১২, ২০১৮ আপডেটঃ ১১:০৬ অপরাহ্ন

দূর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জেল হওয়ায় রাজনৈতিকভাবে সুবিধেয় রয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমনই খবর দিয়েছে ভারতের প্রভাবশালী বাংলা পত্রিকা। পত্রিটিতে রোববার এক সম্পাদকীয়তে এ কথা বলা হয়েছে।

পত্রিকাটির কলকাতা, গুয়াহাটি, শিলচর ডিব্রগড় ও শিলিগুড়ি এডিশনে একযোগে প্রকাশিত এই সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, দূর্নীতি মামলায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের জেল হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, তার বিরুদ্ধে আরও ৩৫টি মামলা আদালতে বিচারাধীন। এইসব মামলার রায় খালেদার বিরুদ্ধে গেলে তার ভোটে দাঁড়ানো অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে। এই অবস্থায় বিএনপি সমর্থকারা দেশ জুড়ে বিক্ষোভ দেখালেও ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনা সরকার কঠোর হাতে তা দমন করতে সক্ষম হয়েছেন।

আরও খবর : ভিডিও ভাইরাল হলেও কোনো শাস্তি হয়নি (ভিডিও)

দূর্নীতির দায়ে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দোষী সাব্যস্ত হলেও তিনি তার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছেন, তাকে বেশি দিন কারাগারের মধ্যে রাখা যাবে না। কারণ দেশের আম জনতাই তার স্বপক্ষে দাঁড়িয়ে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করবেন। আত্মীয়-পরিজনদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেছেন, কান্নাকাটির কোনও দরকার নেই। আক্ষেপেরও প্রয়োজন নেই। এই পরিস্থিতিতে সমর্থকদের আরও কঠিন হতে হবে। যে কোনও প্রতিকূল পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সাহস সঞ্চয় করতে হবে। বর্তমান শেখ হাসিনা সরকারের জনপ্রিয়তা ক্রমশ নিম্নমূখী। সুতরাং দল যদি মানুষকে পাশে নিয়ে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলে তা হলে অচিরেই বাংলাদেশে ফের বিএনপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

দূর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জেল হওয়ার ঘটনা এই উপ-মহাদেশে নতুন কিছু নয়। কারণ পাকিস্তানেও এভাবে বহু কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসহ শীর্ষ নেতাদের জেলে যেতে হয়েছে নতুবা সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, বেনজির ভুট্টোর মতো জনপ্রিয় নেত্রীকেও প্রাণ দিতে হয়েছে জঙ্গিদের বিস্ফোরণে। সাবেক রাষ্ট্রপতি পারভেজ মুশাররফের বিরুদ্ধেও বর্তমানে আদালতে মামলা চলছে।

কিছুদিন আগেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে দূর্নীতির জালে জড়িয়ে নিজের পদ ছাড়তে হয়েছে। কিন্তু তা সত্বেও বেগম খালেদা জিয়ার ঘটনার অন্য একটা বিশেষ মাত্রা রয়েছে। কারণ ২০১৩ সালের বাংলাদেশ নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার দল অংশ নেয়নি। এর সুবাদে শেখ হাসিনার পক্ষে সরকার গঠন অনেক সহজ হয়ে যায়। যদিও এই নির্বাচনকে বাতিল করার জন্য বেগম খালেদা জিয়ার দল বিএনপি নানাভাবে আন্তর্জাতিক স্তরে চাপ সৃষ্টি করেছিল। মধ্যস্থতার জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে এলেও তার কোনও সুরাহা হয়নি।

এই প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হয়। এবং তার পর থেকেই বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। যে মামলায় বেগম খালেদা জিয়া এবং তার পুত্র তারেক রহমান দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তার পেছনে রয়েছে অবাধ দূর্নীতি। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছেন খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমান।

বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ করা হয়, ঘুষের টাকা সংগ্রহ করার জন্যই খালেদা জিয়া তার স্বামী জিয়ার নামে এই অনাথ ট্রাস্ট খুলেছিলেন। খালেদা জিয়ার এই জেল হওয়ার ঘটনায় এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে বর্তমানে তার পক্ষে আর নির্বাচনে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে খালেদা জিয়া যে অংশ নিতে পারবেন তা কোনওভাবেই নিশ্চিত নয়। আর তাকে ছাড়া বিএনপির পক্ষে বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসা অসম্ভবও বটে।

যদিও পুত্র তারেক রহমানের হাতে খালেদা জিয়া বিএনপি দলের নেতৃত্ব তুরে দিয়েছেন কিন্তু তার পক্ষে দলের সমর্থকদের মনোবল চাঙ্গা করে হাসিনার দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে লড়াইয়ে নামা বেশ কঠিনও বটে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিএনপি ডিসেম্বরের ভোটে আওয়ামী লীগকে ওয়াকওভার দেবে, এমন মনে করার কোনও কার্যকারণ নেই। এটা ঠিক যে দীর্ঘদিন ধরে শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশের ক্ষমতায় রয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক শক্তিসহ জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রেখেছে আওয়ামী লীগ। তা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে দলের মধ্যেই অনেক ঘুঘুর বাসা বেঁধেছে। সাধারণ মানুষ এদের কাজেকর্মে যে সন্তুষ্ট এমন মনে করার কোনও সঙ্গত কারণ নেই।

এ বার যদি বিএনপি খালেদা জিয়াকে সামনে রেখে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নির্বাচন লড়ত তা হলে ফলাফল কী হত তা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন ছিল। কিন্তু ভোটের বেশ কিছুদিন আগে পাঁচ বছরের জন্য জেলে চলে যাওয়ায় শেখ হাসিনার পক্ষে লড়াই অনেকটা সহজ হয়ে গেল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শেখ হাসিনার আমলে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বিশেষত ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক যথেষ্ট উন্নত হয়েছে। ভারতও উদ্যোগী হয়ে বাংলাদেশে বিনিযোগে আগ্রহ দেখিয়েছে। এটা দু’দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটা ইতিবাচক দিক।

বিএনপির কান্ডারীর দায়িত্ব পুত্র তারেকের ওপর ছেড়ে দেওয়া হলেও বাস্তব অর্থে দলের দ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব হলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অত্যন্ত ভদ্র ও বিনয়ী মানুষ বলে পরিচিত হলেও মাঠে নেমে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে তিনি কতটা সফল হবেন তা নিয়ে কিন্তু সংশয় রয়েছে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর সেখানে যে সবসময় গণতান্ত্রিক কাঠামোয় শাসন ব্যবস্থা পরিচালিত হয়েছে তা কিন্তু নয়। শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনীর কিছু মানুষ। পরবর্তীকালে এই সেনাবাহিনীর সুত্র ধরেই দেশের দায়িত্ব নেন বর্তমান বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বামী জিয়াউর রহমান। এই প্রেক্ষপটে বাংলাদেশে সুষ্ঠভাবে নির্বাচন হোক এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসুক এটা সবার কাছেই কাম্য। জয়-পরাজয় বড় কথা নয়, গণতান্ত্রিক কাঠামোতে নির্বাচন হলে তাতে দেশের সার্বিক উন্নয়নের গতিও তীব্র হবে বলেই আশা করা যেতে পারে।

এসএইচ-৩৮/১২/০২ (অনলাইন ডেস্ক, তথ্যসূত্র : দৈনিক যুগশঙ্খ, আমাদের সময়.কম)