আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বাদ পড়তে পারেন আ.লীগের শতাধিক এমপি

প্রকাশিতঃ মে ২৫, ২০১৮ আপডেটঃ ১২:৫৯ অপরাহ্ন

ডিসেম্বরেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠোর অবস্থান মনোনয়ন বাছাইয়ে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো এ নির্বাচন এতোটা প্রতিদ্বন্দীতাহীন হবে এটা মনে করে না আওয়ামী লীগ। তাই দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত এক বছর ধরেই এমপি প্রার্থীদের বলেছেন, তৃণমূলের ম্যান্ডেট যার পক্ষে থাকবেন না তিনি মনোনয়ন পাবেন না।

আওয়ামী লীগ দলীয় সূত্র জানিয়েছে, গত এক বছরে বিভিন্ন সংস্থা দিয়ে এবং তৃণমূল ও দলের বিভিন্ন ফোরামের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সভানেত্রী বর্তমান এমপিদের মধ্য থেকে শতাধিক এমপিকে বাদ দেওয়ার তালিকায় রেখেছেন।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এবার গডফাদার ও জনবিচ্ছিন্ন সংসদ সদস্যদের মনোনয়ন না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যেসব এমপির বিরুদ্ধে এলাকায় খুন, দুর্নীতি, মাদক ব্যবসা, ঋণ খেলাপি, টেন্ডার-চাঁদাবাজিসহ দখলদারিত্বের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তারা কেউ মনোনয়ন পাবেন না।

আরও খবর : ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বিরোধীদের ঘায়েলের আশঙ্কায় বিএনপি

জানা গেছে, দশম সংসদের ২৩৪ দলীয় এমপি থেকে ১০০ জনপ্রিয় নেতাকে ফের মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এর সঙ্গে যুক্ত হবে আরও ৫০ জনের নাম। দল ও সরকারের ইমেজ ক্ষুণ্ণকারীরা আছেন বাদ পড়ার তালিকায়। এসব আসনে সন্ধান করা হচ্ছে নতুন মুখ।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিতর্কিত ও নেতিবাচক ইমেজধারী এমপি শনাক্তে কাজ করছে কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা। অনেকের রিপোর্ট এখন শেখ হাসিনার হাতে। ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের তালিকার কাজ শেষ হয়েছে। অভিযুক্তদের অনেকেই আইনের আওতায় আছেন। বাকিদের বিরুদ্ধেও আইনি প্রক্রিয়া চলছে। বিতর্কিতদের অধিকাংশই আইনি জটিলতায় বাদ পড়বেন। চাইলেও তাদের মনোনয়ন দেয়া সম্ভব হবে না। সেক্ষেত্রে বর্তমান সংসদের কমপক্ষে ১০০ এমপি বাদ পড়ার তালিকায় আছেন বলে জানায় আওয়ামী লীগের এ নির্ভরযোগ্য সূত্রটি।

আওয়ামী লীগ জরিপ টিমের সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে গত দেড় বছর ধরে ৩ মাস পরপর মাঠ জরিপ করছেন। সেখানে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে আলোচিত-সমালোচিত মন্ত্রী-এমপিদের নাম উঠে এসেছে। সেই তালিকা এখন শেখ হাসিনার কাছে। তিনি অনেককে এর মধ্যে ডেকে সতর্ক করেছেন।

আওয়ামী লীগ সংসদীয় মনোনয়নের বোর্ডের অন্যতম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, আমরা ১০০’র মতো আসনে এমপি প্রার্থী চূড়ান্ত করেছি। এসব আসনে মনোনীত প্রার্থীদের গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। বাকি ২০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্তের কাজ চলছে। ঈদের পরেই এসব আসনের বিপরীতে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শেষ হবে। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ৩০০ আসনের প্রার্থীর নাম প্রকাশের কোনো সম্ভাবনা নেই।

নীতিনির্ধারকদের দেয়া তথ্য মতে- ঠাকুরগাঁও-১, দিনাজপুর-১, দিনাজপুর-২, দিনাজপুর-৩, দিনাজপুর-৫, নীলফামারী-২, লালমনিরহাট-১, লালমনিরহাট-২, রংপুর-৪, গাইবান্ধা-২, বগুড়া-১, বগুড়া-৫, নওগাঁ-১, রাজশাহী-৪, রাজশাহী-৬, নাটোর-৩, সিরাজগঞ্জ-১, সিরাজগঞ্জ-২, সিরাজগঞ্জ-৬, পাবনা-৫, কুষ্টিয়া-৩, ঝিনাইদহ-২, ঝিনাইদহ-৪, যশোর-৫, মাগুরা-২, বাগেরহাট-১, খুলনা-১, সাতক্ষীরা-৩, সাতক্ষীরা-৪, বরগুনা-১, পটুয়াখালী-২, ভোলা-১, ভোলা-২, ভোলা-৩, ভোলা-৪, বরিশাল-১, বরিশাল-২, ঝালকাঠি-২, টাঙ্গাইল-১, টাঙ্গাইল-৫, টাঙ্গাইল-৮, জামালপুর-৩, শেরপুর-২, ময়মনসিংহ-১, ময়মনসিংহ-১০, কিশোরগঞ্জ-১, কিশোরগঞ্জ-৪, কিশোরগঞ্জ-৫, কিশোরগঞ্জ-৬, মানিকগঞ্জ-২, মানিকগঞ্জ-৩, মুন্সীগঞ্জ-৩, ঢাকা-২, ঢাকা-৩, ঢাকা-৯, ঢাকা-১০, ঢাকা-১১, ঢাকা-১২, ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৪, গাজীপুর-১, গাজীপুর-২, গাজীপুর-৪, গাজীপুর-৫, নরসিংদী-১, নরসিংদী-৪, নারায়ণগঞ্জ-১, নারায়ণগঞ্জ-২, নারায়ণগঞ্জ-৪, রাজবাড়ী-১, রাজবাড়ী-২, ফরিদপুর-১, ফরিদপুর-৩, গোপালগঞ্জ-১, গোপালগঞ্জ-২, গোপালগঞ্জ-৩, মাদারীপুর-১, মাদারীপুর-২, শরীয়তপুর-১, শরীয়তপুর-৩, সুনামগঞ্জ-৩, সিলেট-৩, সিলেট-৬, হবিগঞ্জ-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬, কুমিল্লা-২, কুমিল্লা-৩, কুমিল্লা-৪, কুমিল্লা-৫, কুমিল্লা-৯, কুমিল্লা-১০, কুমিল্লা-১১, চাঁদপুর-২, চাঁদপুর-৪, নোয়াখালী-৪, নোয়াখালী-৫, চট্টগ্রাম-১, চট্টগ্রাম-৭, চট্টগ্রাম-১২, চট্টগ্রাম-১৩ ও কক্সবাজার-৩ আসনের প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, ৩১ মার্চ দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় বিতর্কিত নেতাদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। ওই সব এলাকায় ক্লিন ইমেজ ও জনপ্রিয় প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য সাংগঠনিক সম্পাদকদের নির্দেশ দেন দলের সভাপতি।

আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান জানান, গত এক বছর থেকে মনোনয়ন বাছাইয়ের কাজ চলছে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পর দলীয় প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করবে দলের হাইকমা-।

আওয়ামী লীগের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, নির্ধারিত ১০০ আসনের বাইরে থাকা আসনগুলোর প্রত্যেকটির বিপরীতে তিনজন করে প্রার্থীর নাম নিয়ে তালিকা তৈরি হচ্ছে। অনেক আসনে এ তিনজনের তালিকায় বর্তমান এমপিদের নাম নেই। নবীন ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, পেশাজীবী নেতা, সাবেক পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তা, আমলা ও রাজনৈতিক নেতা এ তালিকায় আছেন। বিএনপির বিভিন্ন আসনের সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কিছু নেতাও আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

এছাড়া জোটের অন্যান্য শরীকদের ৬৬ আসনেও গতবারের মতো দলীয় প্রার্থী দেবে ক্ষমতাসীন দল। অক্টোবরের আগেই ৩০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত হবে।

এসএইচ-১৯/২৫/০৫ (অনলাইন ডেস্ক, তথ্যসূত্র : আমাদের সময়.কম)