বাংলাদেশ-ভারত সরকারের মেয়াদ শেষেও তিস্তার সমাধান নেই

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ১০, ২০১৮ আপডেটঃ ৫:০১ অপরাহ্ন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি সফরের সময়ে উভয় দেশের সরকারের চলতি মেয়াদেই তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সইয়ের প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যদিও শেষের দিকে বাংলাদেশ-ভারত সরকারের মেয়াদ। উভয় দেশেই এখন চলছে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি।

তিস্তা নিয়ে বাংলাদেশকে দেওয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের সম্ভবনা এই সময়ে এসে এক দমই ক্ষীণ বলে মনে করছেন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দিল্লিকে বিষয়টি বারবার মনে করিয়ে দেওয়া হলেও দেশটির স্বাদিচ্ছার অভাবে এখনো অগ্রগতি আসছে না।

২০১৭ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি সফরে যান। তখন নরেন্দ্র মোদির সাথে বৈঠকে শেখ হাসিনা ২০১১ সালের জানুয়ারিতে উভয় দেশের সম্মতি অনুযায়ী তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে একটি অন্তবর্তীকালীন চুক্তি করতে অনুরোধ জানান।

জবাবে মোদি বলেন, এ ব্যাপারে দ্রুত চুক্তি সম্পাদনে তার সরকার ভারতে সংশ্লিষ্ট সবার সাথে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর মমতা ব্যানার্জির উপস্থিতিতে মোদি ঘোষণা দেন বাংলাদেশ-ভারতের বর্তমান সরকারের মেয়াদেই তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি হবে।

হাসিনা-মোদি বৈঠকে সে সময় ফেনী, মনু, মুহুরী, খোয়াই, গোমতী, ধরলা ও দুধকুমার নদীর মতো অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনসংক্রান্ত বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশও দেন। এ দিকে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি না হলেও চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ পেতে যাচ্ছে দেশটি।

অথচ এর আগে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ঢাকা সফরের সময় তিস্তার পানি বণ্টনে অপারগতা প্রকাশ করায় সে সময় ভারতকে বন্দর দু’টি ব্যবহারের সম্মতিপত্র সই থেকে বিরত ছিল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে থাকা তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি’র বিষয়টি যদি এই সময়ের মধ্যে সুরহা না হয় তবে আগামী নির্বাচন পরবর্তী উভয় দেশের সরকার বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কতটা আন্তরিক হবে তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে আলাপ কালে সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেছেন, মোদি চুক্তির বিষয়টি বলেছেন ঠিকই কিন্তু কাছের কাছতো কিছুই হচ্ছেনা।

চুক্তি হওয়ার জন্য যে ঘটনা প্রবাহ তৈরি হওয়ার দরকার তেমন কিছুইতো দেখছিনা। মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি না হওয়ায় চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিস্তা চুক্তি না হলেও এবার চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের সে সুযোগ পেতে যাচ্ছে ভারত। আমরা যে উদারতা দেখাচ্ছি, ভারত তেমনিভাবে উদারতা দেখাচ্ছেনা।

এসএইচ-০৫/১০/১০ (অনলাইন ডেস্ক, তথ্য সূত্র : আমাদের সময়.কম)