কোরবানিতে গরু সংকটের আশঙ্কা

প্রকাশিতঃ আগস্ট ৩, ২০১৯ আপডেটঃ ৪:৪১ অপরাহ্ন

আসন্ন ঈদুল আজহা পর্যন্ত সীমান্তপথে বৈধ-অবৈধ সব ধরনের ভারতীয় গরুর প্রবেশ বন্ধের সিদ্ধান্ত আগেই ঘোষণা করেছে সরকার৷ পাশাপাশি বন্যার কারণে বন্যাকবলিত এলাকা থেকে আসছে না গরু৷

আবার কোরবানি ঈদের দুই দিন পর ১৫ আগষ্ট৷ এদিনও কাঙালি ভোজে বিপুল সংখ্যক গরুর প্রয়োজন হয়৷ একদিকে ভারতীয় গরু আসছে না, অন্যদিকে গ্রাম থেকে গরু না এলে কোরবানিতে কি সংকট হতে পারে?

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খসরু দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন এবার কোরবানিতে পশুর কোন সংকট হবে না৷ গত বুধবার মন্ত্রণালয়ে সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, সারা দেশে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর মজুদ রয়েছে৷ এবার সারা দেশে কোরবানিযোগ্য ৪৫ লাখ ৮২ হাজার গরু ও মহিষ, ৭২ লাখ ছাগল ও ভেড়া এবং ৬ হাজার ৫৬৩টি অন্যান্য পশুর প্রস্তুত রাখা হয়েছে৷ আসন্ন ঈদুল আজহায় ১ কোটি ১০ লাখ গবাদিপশুর কোরবানি হতে পারে ধারণা প্রতিমন্ত্রীর৷

সরকারি হিসেবে আগের বছর কোরবানিতে দেশে পশু জবাই হয়েছিল এক কোটি ১৫ লাখ৷ এর মধ্যে ছাগল-ভেড়া ছিল ৭১ লাখ এবং গরু-মহিষ ৪৪ লাখ৷ এবার সেই হিসেবে গত বছরের চেয়ে তিন লাখেরও বেশি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে৷ তবে পশুর সংকট হবে কি-না তা নিয়ে পরষ্পর বিরোধী বক্তব্যও রয়েছে৷

বাংলাদেশ গবাদি পশু ব্যবসায়ি সমবায় সমিতির সভাপতি মুজিবুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সবাই যদি ঠিকমতো কোরবানি দেয় তাহলে পশুর সংকট হবে৷ কারণ ভারত থেকে পশু আসা বন্ধ হয়ে গেছে৷ এখন খামারিরা তো চায় দাম একটু বেশি পেতে৷ ফলে সংকট হলে তো তারা দাম বাড়াতে পারবে৷ আর একটা তথ্য সবাই ভুল করেন, সেটা হল- আমাদের চাহিদা ৮০ ভাগ ছোট ও মাঝারি গরুর৷ ২০ ভাগ বড় গরু দরকার৷ কিন্তু আমাদের খামারে আছে ৮০ ভাগই বড় গরু৷ ফলে সাধারণ মানুষ সেগুলো কিনতে পারে না৷”

বন্যার কারণে কি কোন প্রভাব পড়বে? জবাবে জনাব রহমান বলেন, ‘‘ওই সব এলাকার গরু খুব একটা ঢাকায় আসে না৷ এলাকাতে বিক্রি হয়৷ ফলে ওই গরু আসা বা না আসাতে কোরবানির হাটে খুব একটা প্রভাব পড়বে না৷”

জনাব রহমানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন ঢাকার সবচেয়ে বড় গরু হাট গাবতলি হাটের পরিচালক ছানোয়ার হোসেন৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘গত বছরও ভারত থেকে গরু আসেনি৷ তারপরও শুধু আমাদের হাট থেকে লাখের উপর বিক্রি হয়নি, ফেরত গেছে৷ গত বছর যে পরিমাণ গরু আমাদের সংগ্রহে ছিল এবার তার চেয়েও বেশি আছে৷

তাহলে সংকট কোথা থেকে হবে৷ এখন দেশে হাজার হাজার খামার৷ পশুর কোন সংকট হবে না৷ শুধু বছিলা থেকে গাতবলী পর্যন্ত আধা থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে ১৫-১৬টি খামার৷ বিপুল পরিমান গরু তাদের সংগ্রহে আছে৷ তাহলে সংকট হওয়ার কথা আসছে কেন?’

গাবতলী গরু হাটের ইজারাদার লুৎফর রহমানও ডয়চে ভেলের সঙ্গে আলাপকালে বলছিলেন, ‘‘বন্যার কারণে এবার কোরবানির হাটে কোন প্রভাব পড়বে না৷ কারণ ওই সব এলাকা থেকে খুব একটা গরু ঢাকায় আসে না৷

আর ডেঙ্গু? হাটের মধ্যে ডেঙ্গু মশা থাকে না৷ আমরা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করি৷ সিটি কর্পোরেশনও আমাদের সহযোগিতা করে৷ আমরা আশা করছি, এবার কোরবানিতে পশুর তেমন সংকট হবে না৷”

প্রসঙ্গত, দেশে প্রতিবছর ২৫ শতাংশ হারে গবাদিপশুর খামার বাড়ছে৷ বর্তমানে খামারের সংখ্যা পাঁচ লাখ ৭৭ হাজার ৪১৬টি৷ সবচেয়ে বেশী খামার রয়েছে চট্টগ্রামে৷ এছাড়া কুষ্টিয়া, জয়পুরহাট, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় খামার গড়ে উঠেছে৷ গরু-ছাগল-মহিষ-ভেড়া মিলিয়ে গবাদিপশু উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বিশ্বে ১২তম৷

এসএইচ-০৭/০৩/১৯ (সমীর কুমার দে, ডয়চে ভেলে)