কাশ্মীরের বিশেষ বাংলাদেশের জনগণ প্রতিক্রিয়া দেখাবে!

প্রকাশিতঃ আগস্ট ৬, ২০১৯ আপডেটঃ ৯:৪৭ অপরাহ্ন

ভারতের সংবিধানে অধিকৃত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার কোনো কথা না বললেও দেশটির জনগণ প্রতিক্রিয়া দেখাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা৷ তবে এই ইস্যুতে বাংলাদেশে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও মনে করছেন তারা৷

কাশ্মীর ইস্যুর প্রভাব বাংলাদেশে কেমন হতে পারে, সরকার বা সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে এবং ধর্মীয় প্রশ্নে বাংলাদেশের প্রভাব নিয়ে ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনজন বিশ্লেষক৷

কাশ্মীরের ঘটনায় অবশ্যই বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে প্রভাব পড়বে বলে মত দেন রাজনীতি ও ইতিহাস বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান৷ তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের মানুষ প্রতিক্রিয়া দেখাবে৷

এরইমধ্যে নানা মাধ্যমে তারা প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, কিন্তু সরকারের প্রতিক্রিয়া দেখানোর সাহস নেই৷ বাংলাদেশই কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের পথ দেখিয়েছে, বাংলাদেশই মডেল কিন্তু সেই মডেল বাংলাদেশ নিজেই এখন উপস্থাপন করতে পারবে না৷

‘‘কাশ্মীরের ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি হিন্দু মুসলমানের প্রশ্ন বা পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশ্নে মূখ্য নয়, মূখ্য স্বাধীনতার প্রশ্নে৷ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিষয়টি সুন্দর সমাধানের মডেল৷

বাংলাদেশের মানুষ যেমন পাকিস্তানের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে তেমনি তারা ভারতের অন্যায়ও মেনে নেবে না৷ কারণ এদেশের মানুষ স্বাধীনচেতা এবং অন্যায়ের প্রতিবাদকারী৷ মনে রাখতে হবে সরকার আর জনগণ এক নয়৷ সরকার চুপ থাকলেও সাধারণ মানুষ প্রতিক্রিয়া দেখাবেই৷”

অন্যদিকে কাশ্মীরে যে ‘কাণ্ড’ হয়েছে তার বড় কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে বলে মনে করেন না রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদ৷ তিনি বলেন, ‘‘টুকটাক প্রতিক্রিয়া হবে যা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হবে৷ তবে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ পাহাড়ে এর কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে৷

‘‘পার্বত্য শান্তিচুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়ন নিয়ে সমস্যা আছে৷ হাইকোর্টের রায়ও আছে ওটাকে আঞ্চলিক রূপ দেয়া যাবে না৷ কিন্তু সন্তু লারমা পুরোপুরি বাস্তবায়ন চান৷ এটা নিয়ে কিছুটা সমস্যা হতে পারে৷ তবে আমাদের দেশের মানুষ বন্যা, ডেঙ্গু, রোহিঙ্গাসহ আরো কিছু বিষয় নিয়ে নিজেরাই নানা সমস্যায় আছে৷ ফলে প্রতিক্রিয়া দেখাতে যে পরিস্থিতির প্রয়োজন হয় তা আমাদের এখানে নেই৷”

কাশ্মীর ইস্যুতে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন৷ তিনি বলেন, এই অঞ্চল একই সুতায় গাঁথা বলে সেই প্রভাবের বাইরে বাংলাদেশ থাকবে বলে তিনি মনে করেন না৷

তাঁর মতে, ‘‘ভারতে হিন্দুরাজ প্রতিষ্ঠার কাজ হচ্ছে৷ অন্য কোনো সম্প্রদায় বা মাইনরিটিকে তারা সহ্য করতে পারছে না৷ ওখানে ১৬ কোটি মুসলমান আছে তাদের সহ্য করতে পারছে না৷ এখন কাশ্মীরে একটা আন্দোলন হবে, প্রতিহিংসার ঘটনা ঘটবে৷ লাদাখ নিয়েও ঝামেলা হবে চীনের সঙ্গে৷ ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে৷

এই অঞ্চলে আমরা হিন্দু-মুসলমানরাইতো আছি৷ফলে একটা কিছু শুরু হলে সেটা হিন্দু মুসলিম সংঘাতের পর্যায়ে চলে যেতে পারে৷ কাশ্মীরে আরো কিছু মুসলমান নিধন হলে তার প্রভাব পাকিস্তান, আফগানিস্তানে পড়বে৷ আর এদিকটায় উত্তর প্রদেশ হয়ে বাংলাদেশেও চলে আসতে পারে৷ তবে দ্রুত কিছু হবে না৷ দ্রুত কিছু হলে চাইনিজ অ্যাকশনটা হতে পারে৷”

বাংলাদেশের মানুষ কাশ্মীরের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারকে ব্যাপকভাবে সমর্থন করে বলে মত দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক এম শহীদুজ্জামান৷

কাশ্মীর ইস্যুতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এখন বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয় হতে পারে উত্তর-পূর্ব ভারতের পরিস্থিতি কোন দিকে যায়৷ আসামে মুসলামানদের ভারতীয় নাগরিকত্ব বাতিলের যে প্রক্রিয়া চলছে তা যদি এখন মোদী সরকার আরো এগিয়ে নেয় তাহলে বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করবে৷”

‘‘সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া ভারতের দিকে৷ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কোনো ধর্মীয় বা আঞ্চলিক ক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়বে না বলে মনে করি না৷ আর এই অঞ্চলে কাশ্মীরের কারণে এখন অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির আশঙ্কা আছে৷ সেটা হলে স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশে তার প্রভাব পড়বে৷’

এসএইচ-০৮/০৬/১৯ (হারুন উর রশীদ স্বপন, ডয়চে ভেলে)