নওগাঁয় ছেলেধরার গুজব রটিয়ে ৬ জেলেকে গণপিটুনি

প্রকাশিতঃ জুলাই ২১, ২০১৯ আপডেটঃ ৭:০১ অপরাহ্ন

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ছেলেধরার গুজব রটিয়ে ছয় জেলেকে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

রোববার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বুড়িদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গণপিটুনির শিকার ওই ছয়জন হলেন-নওগাঁ সদর উপজেলার খাগড়া গ্রামের সাদ্দাম হোসেন (২৭), একই গ্রামের তসলিম হোসেন (২৩), সাইফুল ইসলাম (৩৮), আব্দুল মজিদ আকন্দ (৩৭) ও আনিছুর রহমান (২৭) এবং সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের রেজাউল করিম (২৭)। তারা সবাই জেলে সম্প্রদায়ের বলে জানা গেছে।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন জানান ওই ছয় জেলে উপজেলার বুড়িদহ গ্রামের রনজিৎ কুমার চৌধুরীর পুকুরে চুক্তিভিত্তিক মাছ ধরতে যান। জেলেদের সঙ্গে পুকুর মালিকের চুক্তি ছিল, তারা শুধু পুকুর থেকে ছোট মাছ ধরবেন। কিন্তু জেলেরা কয়েকটি বড় মাছও ধরে ফেলেন। এ নিয়ে জেলেদের সঙ্গে পুকুর মালিকের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পুকুর মালিক ও গ্রামের লোকজন জেলেদের মারধর করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে জেলেরা মার থেকে বাঁচতে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।

এ সময় গ্রামের লোকজন ছেলেধরা বলে চিৎকার করতে শুরু করলে আরও লোকজন ছুটে এসে প্রথমে বুড়িদহ গ্রামের অদূরে সাদ্দাম হোসেন নামে এক জেলেকে আটক করে। ছেলেধরা পালিয়ে যাওয়ার সংবাদ রটে গেলে দৌঁড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় পাশের খুদিয়াডাঙ্গা গ্রামের লোকজন অন্য পাঁচ জেলেকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশকে এলাকাবাসী জানালে ঘটনাস্থল থেকে ওই ছয় জেলেকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে।

ওসি মোজাফফর হোসেন বলেন, পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গ্রামবাসী ছেলেধরা গুজব রটিয়ে ছয়জনকে মারধর করে। পরে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত জেলেদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তবে আহত জেলেদের প্রাথমিকভাবে ডাক্তার দেখানো হয়েছে। ছয় জেলে থানা হেফাজতে রয়েছেন। ঘটনা তদন্ত ও তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন বলেন, এটা সম্পূর্ণ একটা গুজব। এ ধরনের গুজবে কাউকে কান না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করবো।

বিএ-১১/২১-০৭ (উত্তরাঞ্চল ডেস্ক)