গ্রেনেড হামলায় বাবর-পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড : তারেকের যাবজ্জ্বীবন

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ১০, ২০১৮ আপডেটঃ ২:২৫ অপরাহ্ন

আওয়ামী লীগের সমাবেশে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার দুপুরে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।

একই সঙ্গে বিচারক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক বিশেষ সহকারী আবদুল হারিছ চৌধুরীসহ ১৭ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদের দণ্ড এবং পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন, মাওলানা মো. তাজউদ্দিন, মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, মো. আব্দুল মাজে ভাট ওরফে মো. ইউসুফ ভাট, আব্দুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে (অভি), মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জানদাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ, মো. উজ্জল ওরফে রতন, মো. লুৎফুজ্জামান বাবর, মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহিম, মো. আব্দুস সালাম পিন্টু ও মো. হানিফ (হানিফ পরিবহনের মালিক)। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিদের মধ্যে মাওলানা মো. তাজউদ্দিন ও মো. হানিফ পলাতক রয়েছেন। বাকিরা সবাই রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন।

রায়ে আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে আজকে রায় ঘোষণার জন্য দিন ঠিক করেন বিচারক।

গুরুত্বপূর্ণ এ রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গ্রেনেড হামলার দুই মামলায় মোট আসামি ছিল ৫২ জন। বিচার চলাকালীন আসামি জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এবং হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান ও শরিফ শাহেদুল ইসলাম বিপুলের ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলার মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাদের এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এজন্য বর্তমানে মামলা দুটিতে মোট আসামি ৪৯ জন।

তবে কারাগারে থাকা ৩১ আসামিকে সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। আহত হন শতাধিত নেতাকর্মী।

এ ঘটনায় মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক ফারুক হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল ও সাবের হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় পৃথক তিনটি এজাহার দায়ের করেন।

এদিকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ঘটনার মূলহোতাদের ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ের নিজ দফতরে রায় পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, রায়ের কপি হাতে পেলে আমরা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেব। তারেক-হারিছদের সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে আপিলের সিদ্ধান্ত নেব। তবে কোনো কিছুই এই মুহূর্তে চূড়ান্ত নয়। সামগ্রিকভাবে এই বিচারের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী।

দুপুরে নাজিম উদ্দিন রোডে বিশেষ আদালতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এতে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়।

অপর দিকে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ফরমায়েশি রায়’ উল্লেখ করে প্রতিবাদে ৭ দিনের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি।

বুধবার দুপুরে দলটির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

কর্মসূচির মধ্যে ১১ অক্টোবর ঢাকাসহ মহানগর, জেলা ও থানা শাখায় বিক্ষোভ সমাবেশ, ১৩ অক্টোবর সারাদেশের ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশ, ১৪ অক্টোবর ঢাকাসহ সারদেশে যুবদলের বিক্ষোভ, ১৫ অক্টোবর ঢাকাসহ সারাদেশে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ, ১৬ অক্টোবর ঢাকাসহ সারাদেশে বিএনপির কালো পতাকা মিছিল, ১৭ অক্টোবর ঢাকাসহ সারাদেশে মহিলা দলের মানববন্ধন ও ১৮ অক্টোবর ঢাকাসহ সারাদেশে শ্রমিক দলের মানববন্ধন।

এসএইচ-০২/১০/১০ (ন্যাশনাল ডেস্ক)