সংরক্ষিত আসনে বউকে এমপি করতে গিয়ে অসন্তোষে মেনন

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারী ১২, ২০১৯ আপডেটঃ ৭:১৮ অপরাহ্ন

একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলের সভাপতি রাশেদ খান মেননের স্ত্রী লুৎফুন্নেসা খান বিউটি। সোমবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে গিয়ে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। এই নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে দলটির মধ্যে।

সূত্র জানায়, দলীয় কোনো ফোরামে না থেকেও মেননপত্নী বিউটির প্রার্থী হওয়া মেনে নিতে পারছেন না ওয়ার্কার্স পার্টির অনেক নেতা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওয়ার্কার্স পার্টির এক শীর্ষ নেতা বলেন, দলীয় ফোরামে অনুমোদন ছাড়াই স্ত্রীকে দলের সংসদ সদস্য করছেন রাশেদ খান মেনন, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। সভাপতির এই সিদ্ধান্তে দলীয় নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, দশম সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর একমাত্র নারী সদস্য হাজেরা সুলতানা সাংসদ হয়েছিলেন। তবে এবার দলের নারী নেত্রীদের উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের মধ্যে সালেহা সুলতানা, অ্যাডভোকেট জুবাইদা পারভীন, বীনা রানী সরকার, ইন্দ্রানী সেন শম্পা ও আফরোজা খাতুনের মতো নেতারা ছিলেন, যারা দীর্ঘ দিন দলের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখে আসছেন। তবে তাদের বাদ দিয়ে সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী হিসেবে রাশেদ খান মেননের স্ত্রী লুৎফুন্নেসা খান বিউটির মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ দলের অনেকেই।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সালেহা সুলতানা বলেন, দলের মনোনয়ন কাকে দেওয়া হবে তা পলিট ব্যুরো, কেন্দ্রীয় কমিটি ঠিক করবে। কিন্তু তা না করে সভাপতি নিজের মর্জি মতো করেছেন। আমি না হলেও দলের অন্য কাউকে দেওয়া হলেও হত।

তিনি বলেন, এটা ঠিক না। এটা দলীয় শৃঙ্খলার বাইরে। উনি আমাদের সঙ্গে অন্যায় করেছেন।

উল্লেখ্য, সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের জন্য আওয়ামী লীগের ৪৩ জনসহ মোট ৪৯ জনের মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। অতিরিক্ত প্রার্থী না থাকায় আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর এই ৪৯জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। বিএনপির নির্বাচিতরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় তাদের ভাগের একটি আসন স্থগিত থাকছে।

বিএ-১৮/১২-০২ (ন্যাশনাল ডেস্ক)