কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ

প্রকাশিতঃ মার্চ ১৪, ২০১৯ আপডেটঃ ৮:৩০ অপরাহ্ন

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ধর্মীয় উসকানির মামলায় গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমান এ আদেশ দেন।

ওই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গুলশান থানা পুলিশকে এ নির্দেশ দেন আদালত।

একই সঙ্গে গ্রেফতার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন প্রাপ্তিসাপেক্ষে প্রোডাকশন ওয়ারেন্টসহ জামিন শুনানির জন্য আগামী ২৪ এপ্রিল দিন ধার্য করেন।

এদিন এ মামলায় খালেদা জিয়ার হাজিরের লক্ষ্যে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারিসহ জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী মো. মাসুদ আহমেদ তালুকদার।

শুনানিতে তিনি বলেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়াকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। তিনি নিরপরাধ। আর যে অভিযোগে মামলা করা হয়েছে, সেখানে বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি মামলা করেনি। মামলার বাদী সরকারি সংস্থারও কেউ নন। এ মামলায় তার জামিন প্রার্থনা করছি।

অপরদিকে বাদীপক্ষে আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ শুনানিতে বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) শেখ হাসিনা ও বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেছেন। দেশের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করছেন। মামলাটি জামিন অযোগ্য ধারার।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার আদেশ পরে দেবেন বলে জানান।

পরবর্তী সময়ে আদালত তার আদেশে বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবী প্রোডাকশন ওয়ারেন্টসহ জামিন আবেদন করেছেন।

নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, আসামিকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়নি। এ ছাড়া মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল হয়ে আসেনি। আসামির গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গুলশান থানাকে নির্দেশ দেয়া হলো।

এর আগে গত ২০ জানুয়ারি এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এরও আগে গত বছরের ৩০ জুন এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর আলী বিশ্বাস।

তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে উল্লেখ করেন।

২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে হিন্দু সম্প্রদায়ের শুভ বিজয়ার অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া।

এ সময় তিনি আওয়ামী লীগ সম্পর্কে কটূক্তিপূর্ণ সমালোচনা করেন। বক্তৃতার একপর্যায়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ পরে আছে। আসলে দলটি ধর্মহীনতায় বিশ্বাসী।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সব ধরনের মানুষের ওপর আঘাত করে। আর লোক দেখানো ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দখল করে নেয়। ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ পরা এ জবরদখলকারী সরকারের হাতে কোনো ধর্মের মানুষই নিরাপদ নয়।’

ওই বক্তব্য দেয়ার জন্য ২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৫৩ (ক) ও ২৯৫ (ক) ধারায় ঢাকা মহানগর হাকিম মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে একটি নালিশি মামলা করা হয়। ওই দিনই আদালত মামলাটি গ্রহণ করে- তা তদন্তের জন্য শাহবাগ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

বিএ-১৮/১৪-০৩ (ন্যাশনাল ডেস্ক)