দ্বিতীয় ধাপে ১১৬টি উপজেলায় ভোট সোমবার

প্রকাশিতঃ মার্চ ১৭, ২০১৯ আপডেটঃ ৯:০৬ অপরাহ্ন

উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় ধাপে ১১৬টি উপজেলায় কাল সোমবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে।

নির্বাচন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার মধ্যরাতে এসব উপজেলায় আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষ হয়েছে। আজ নির্বাচনী উপজেলাগুলোর কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটের সামগ্রী পাঠানো হবে। যান চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে নিরাপত্তায় এলাকাগুলোতে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা টহল দিতে শুরু করেছেন।

এ ধাপে ১২৯টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলেও ১৩টিতে ভোট হচ্ছে না। এর মধ্যে ৬টিতে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। বাকি ৭টিতে অন্য কারণে এ ধাপে নির্বাচন হবে না।

এদিকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রচারে অংশ নেয়ার অভিযোগে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বি মিয়া ও কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলকে নির্বাচনী এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

এছাড়া পার্বত্য তিন জেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ‘এইড টু সিভিল পাওয়ার’র আওতায় দায়িত্ব পালনের জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে চিঠি দিয়েছে ইসি। এবার পাঁচ ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কাল দ্বিতীয় ধাপের ভোট হবে।

এ নির্বাচনে বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি। এ কারণে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী সংখ্যা কমেছে বলে জানিয়েছে ইসি। নির্বাচন প্রস্তুতির বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেসুর রহমান জানান, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন আয়োজনে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতে ইসি থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্বাচনে কারও শৈথিল্য ও গাফিলতি সহ্য করা হবে না।

ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, ৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপের ১২৯টি উপজেলায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত তফসিল থেকে গোপালগঞ্জ জেলার ৫টি উপজেলা সরিয়ে তৃতীয় ধাপে ও দিনাজপুর সদর উপজেলা সরিয়ে চতুর্থ ধাপে নেয়া হয়েছে।

আদালতের রায়ে নাজমুল ইসলাম নামে এক প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ও প্রতীক বরাদ্দের আদেশ থাকায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ভোট স্থগিত করেছে ইসি।

এছাড়া ৬টি উপজেলার সব পদের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সেগুলো হচ্ছে- নওগাঁ সদর, পাবনা সদর, ফরিদপুর সদর, নোয়াখালীর হাতিয়া এবং চট্টগ্রামের রাউজান ও মিরসরাই।

এসব উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কোনো পদেই ভোটের প্রয়োজন হচ্ছে না। এছাড়াও আরও ১৭টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ৭টি উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও ৬টি উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ওইসব পদেও ভোট হচ্ছে না। বাকিগুলোতে ভোটগ্রহণ হবে।

আরও জানা গেছে, দ্বিতীয় ধাপে চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন ৩৭৭ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫৩৯ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৯৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৭ হাজার ৩৯টি।

ভোটার রয়েছেন ১ কোটি ৭৯ লাখ ৯ হাজার ৬ জন। ইসি জানিয়েছে, ভোটের আগে ২ দিন, ভোটের দিন ও ভোটের পরে ২ দিন মিলিয়ে ৫ দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে থাকবেন। শনিবার পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার-ভিডিপি, কোস্টগার্ড, আর্মড পুলিশ, ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা মাঠে নেমেছেন।

আচরণবিধি প্রতিপালন ও বিশৃঙ্খলা রোধে মাঠে রয়েছেন নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। লাইসেন্সধারীদের অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ, আনসার, ভিডিপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ থাকবে সাধারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভেদে। সাধারণ কেন্দ্রে ১৪ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৫-১৬ জন নিয়োজিত থাকবেন।

দুই এমপিকে এলাকা ত্যাগের নির্দেশ : ইসি সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেয়ার অভিযোগে ডেপুটি স্পিকার ও গাইবান্ধা-৫ আসনের এমপি মো. ফজলে রাব্বি মিয়া ও কক্সবাজার-৩ আসনের এমপি সাইমুম সরওয়ার কমলকে নির্বাচনী এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে ইসি।

শনিবার পৃথক দুই চিঠিতে এ নির্দেশ দেয়া হয়। মো. ফজলে রাব্বি মিয়াকে পাঠানো ওই চিঠিতে আচরণ বিধির ২২ উপবিধি উল্লেখ করে বলা হয়, আপনার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কারণে নির্বাচন বন্ধ হলে ওই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন তথা সরকারের যে আর্থিক ব্যয় হবে পরে তার দায় দায়িত্ব নিরূপণ করা হবে। তাকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে নির্বাচনী এলাকা ত্যাগ করতে বলা হয়।

অপরদিকে সাইমুম সরওয়ার কমলকে দেয়া চিঠিতে রোববারের মধ্যে রামু উপজেলা ত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

পার্বত্য তিন এলাকায় সেনাবাহিনী : ইসি সূত্র জানিয়েছে, পার্বত্য তিন জেলায় নির্বাচন উপলক্ষে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ভোটের আগে ও পরে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির পাশাপাশি ‘এইড টু সিভিল পাওয়ার’র আওতায় সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত দিয়েছে ইসি।

বিএ-২৩/১৭-০৩ (ন্যাশনাল ডেস্ক)