‘আমি কিন্তু সত্যি মারা যাচ্ছি’, প্রেমিককে কলেজছাত্রীর মেসেজ

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৯ আপডেটঃ ৯:০০ অপরাহ্ন

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় প্রেমিককে মোবাইল ফোনে ‘আমি কিন্তু সত্যি মারা যাচ্ছি’ এমন মেসেজ পাঠিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে এক কলেজছাত্রী।

বুধবার ছাত্রীর বাড়ির শয়ন কক্ষের তীরের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত জাকিয়া সুলতানা ওরফে সোনালী (১৭) বাগাতিপাড়া উপজেলার পাকা ইউনিয়নের মালিগাছা সাজিপাড়া গ্রামের সুমন রেজার মেয়ে। সে লোকমানপুর কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

পুলিশ জানায়, ছাত্রী সোনালীর সঙ্গে একই কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র রোকন সরকারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে দু’জনের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। বুধবার রাতে রোকনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে সোনালীর এ সংক্রান্ত মেসেজ বিনিময় হয়।

দীর্ঘ সময় ধরে মেসেজ বিনিময়ের একপর্যায়ে রাত ১টা ৩ মিনিটে ছাত্রী সোনালী ‘আমি কিন্তু সত্যিই মরে যাচ্ছি’ লিখে রোকনকে মোবাইল ফোনে সর্বশেষ মেসেজ দেয়।

এরপর রাতের কোনো এক সময় ওড়না পেঁচিয়ে নিজের ঘরে তীরের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয়। সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।

পুলিশ নিহতের মোবাইল ফোন এবং রোকন ও ছাত্রী সোনালীর মেসেজ বিনিময়ের স্ক্রিনশট আলামত হিসেবে জব্দ করেছে।

নিহত ছাত্রীর বাবা সুমন রেজা জানান, তিনি পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেডে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে এবং তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন একই ইপিজেডে একটি কোম্পানির গার্মেন্টকর্মী হিসেবে চাকরি করেন। সে কারণে তারা দু’জনেই বাড়িতে থাকেন না।

ঘটনার দিন রাতে দুই মেয়ে সোনালী ও স্বর্ণা বাড়িতে ছিল। মেয়ের মারা যাওয়া খবর পেয়ে বুধবার সকালে তারা দু’জনে বাড়িতে আসেন।

তিনি অভিযোগ করেন, রোকন নামের ছেলেটা তার মেয়েকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি বাদী হয়ে থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

লোকমানপুর কলেজের অধ্যক্ষ ফারুখ হোসেন বলেন, তার কলেজের ছাত্র রোকনের সঙ্গে ছাত্রী সোনালীর প্রেমের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না। তবে ছাত্রী সোনালীর আত্মহননের বিষয়টি তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না বলে জানান।

বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম শেখ বলেন, খবর পেয়ে তিনি এবং নাটোরের সহকারী পুলিশ সুপার আবু হাসনাত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। লাশ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলার প্রস্তুতি চলছে। তবে অভিযুক্ত রোকনের বাড়িতে তল্লাশী চালিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। সে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বিএ-১৬/০৪-০৯ (উত্তরাঞ্চল ডেস্ক)