আমার প্রধান কাজ হবে রাজশাহীতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা: লিটন

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০১৮ আপডেটঃ ৯:৩০ অপরাহ্ন

আমার প্রধান কাজ হবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এজন্য গ্যাস নিয়ে এসেছিলাম। যাতে ৫০ টির মতো সোয়েটার বা লেদার কারখানা করা হয়। এটা করা সম্ভব হবে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। শুধু শহর নয়, শহরতীর মানুষও উপকৃত হবে। এই যে বাড়তি অর্থ উপার্জনের ব্যবস্থা হবে, এতে একজন রিকশাওয়ালাও সুফল ভোগ করবে। এটিই আমার মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশন সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে রাজশাহীবাসী তাকে সুযোগ দিলে দ্রুত এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চান তিনি।

রাজশাহীসহ চার সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন আগামী মে মাসে হতে পারে। সেক্ষত্রে তফসিল হবে হয়তো এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে। এ নির্বাচনে রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট করনে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। আর ওই নির্বাচনকে ঘিরে নিজের পরিকল্পনা, স্বপ্ন ও মহানগরীর উন্নয়ন নিয়ে ইতোমধ্যেই একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরী করেছেন। যা তার নির্বাচনী প্রচারনায় থাকবে।

খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে যে প্রস্তুতিগুলো নিতে হয়, তা নিচ্ছি। নেতাকর্মীদের ভোটার তালিকা তৈরি, সংশোধন, কেউ বাদ গেলে তাকে তালিকায় আনা হচ্ছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ প্রদান ও নবায়ন দুইটি কাজই চলছে। উৎসব মুখর পরিবেশে সাধারণ মানুষ তাদের কাছে আসছেন, সদস্য হচ্ছেন। নেতাকর্মীরা ঢাকঢোল পিটিয়ে আসছেন। অন্য যেকোন বারের তুলনায় এবার আওয়ামী লীগের সদস্যপদ নেবার সংখ্যাও বেশি। সদস্যপদ গ্রহণে বিশেষ করে নারী ও তরুণদের মধ্যে আগ্রহ অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে।

আরও খবর: পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত রমেশের লাশ তোলা হলো ১৫ মাস পর

এর কারণ ব্যাখা করে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আমরা বুঝতে পারছি, আওয়ামী লীগ সম্পর্কে যে ভ্রান্ত ধারণা ছিল, সেগুলোর বিষয়ে সত্য পত্র-পত্রিকায়, রেডিও টেলিভিশনে আসার কারণে সবার ভুল ধ্যান ধারণা ভেঙে গেছে। এই কারণে আওয়ামী লীগকে তারা দেশের উন্নয়নের মূল শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। আর স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি তো বটেই। দেশকে বর্তমান বিশ্বের উপযোগী করে তোলা, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ ভাগ্য গড়ে তোলা-সব কিছুকেই সামনে নিয়ে তারা মনে করছে আওয়ামী লীগই সেই প্লাটফরম, যা তাদের স্বপ্ন বা আশা পূরণ করতে পারে।

আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহের মাধ্যমে আমরা মহল্লা কমিটি গঠন করতে যাচ্ছি। আমাদের গঠনতন্ত্রে মহল্লা কমিটি গঠনের বিধান আছে। মহল্লা হচ্ছে আমাদের ইউনিট অর্থাৎ সবচেয়ে তৃর্ণমূল পর্যায়ের কমিটি। মহল্লা কমিটি গঠনের পর করা হবে সেন্ট্রাল কমিটি। ভোটের পরে করা হবে ওয়ার্ড কমিটি।

রাজশাহীর উন্নয়নের বিষয়ে লিটন বলেন, রাজশাহীবাসী দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল পাইপ লাইনে গ্যাসের সংযোগ। সেই দাবিটি আমার সময়ে পূরণ করেছি। সুফল ভোগ করছে এখন নগরবাসী। আমি গ্যাস নিয়ে এসেছিলাম মূলত শিল্পায়নের জন্যেই। ট্রেক্সটাইল বা সোয়েটার কারখানার কাজে ব্যবহার করার জন্যে। কারাখানাগুলোর জন্যে বিদ্যুৎ যদি পিডিবি থেকে নেওয়া হয় তাহলে খরচ অনেক বেশি হয়। আর যদি গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে কারখানার কাজে লাগানো হয় তবে খরচ পড়ে ৭ ভাগের এক ভাগ। যদি গত সিটি নির্বাচনে জয়লাভ করতাম তাহলে রাজশাহী অঞ্চলে শিল্প কারখানা হয়ে যেতো হয়তো এতোদিনে। তবে আশা করছি আগামীতে হবে।

খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আমার সময়ে পূরো অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটেছে। রাস্তা-ঘাট, ড্রেনেজ সিস্টেম, আলোকায়ন, উচ্চ বহুতল ভবন নির্মাণ, নদীর ধারের উন্নয়ন, পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র করা, কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যানকে নতুন করে সাজানোসহ বহুমুখী কাজ হাতে নিয়েছিলাম। ঢাকা-রাজশাহী রুটে ট্রেন চালু করা। ওই সময়ে অনেক কাজ আমি হাতে নিয়েছিলাম। চেষ্টা করেছিলাম সেগুলো করার, আল্লাহর রহমতে মানুষ সেইসবের সুফল ভোগ করতে শুরু করেছে।

এমও-১৮/১৩-০২ (নিজস্ব প্রতিবেদক)