রংপুরে পৃথক স্থানে দুই শিশু ধর্ষণ

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ১৬, ২০১৮ আপডেটঃ ৯:৫৮ অপরাহ্ন

রংপুরে পৃথক স্থানে দুই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর অবস্থায় দুটি শিশুকেই রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, রংপুর সদর উপজেলার কিলমারী মমিনপুর গ্রামে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুল ছাত্রী (১২) ওই শিশুটি তার নানার বাসায় থাকতো। শিশুটির বাবা-মা ঢাকায় গার্মেন্টে চাকরি করেন। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে পাশেই মমিনপুর সর্দ্দার পাড়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে নয়ন শিশুটিকে বৈশাখী মেলা দেখানোর কথা বলে তার নানার বাসা থেকে নিয়ে যায়।

এরপর নয়ন তার খালার বাসায় নিয়ে গিয়ে সেখানে রাতভর শিশুটিকে ধর্ষণ করে। শিশুটিকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রোববার সকালে নয়ন শিশুটিকে তার নানার বাসায় রেখে যায়। এরপর থেকে মারাত্মক রক্তক্ষরণে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সোমবার দুপুরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আরও খবর: রাজশাহীতে ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সদস্য আটক

এদিকে এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাবাসী নয়নকে আটকে কোতোয়ালি থানায় খবর দেয়। বিকালে পুলিশ এসে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল হোসেন জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে, ১১ এপ্রিল রাতে মিঠাপুকুর উপজেলার তিলকপাড়া চেংমারী গ্রামে আরেকটি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। স্বজনরা জানান, তিলকপাড়া চেংমারী গ্রামে স্থানীয় এক স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাদের বাসায় ঘুমিয়ে ছিল। এ সময় একই গ্রামের মোতালেব মিয়ার ছেলে রুমেল তার দুই সহযোগীসহ গভীরে রাতে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। তারা শিশুটিকে ধর্ষণ করে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়।

শিশুর স্বজনরা অভিযোগ করেন, এই ঘটনার পর থেকে রুমেল ও তার সহযোগীরা থানায় অভিযোগ কিংবা মামলা না করার জন্য হুমকি দিয়ে আসছে। তারা আপস-মীমাংসা করার জন্য চাপ দিতে থাকে। এভাবে পাঁচ দিন অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে থাকা অবস্থায় শিশুটির অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরে সোমবার দুপুরে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সোমবার বিকালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ১২ নম্বর গাইনি ওয়ার্ডে গিয়ে চিকিৎসাধীন দুই শিশু ও তার স্বজনরা জানান, ঘটনা জানার পর পুলিশ এখন পর্যন্ত তাদের দেখতে আসেনি। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সারাহ ফারমিন জানান, ধর্ষণের শিকার দুই শিশুরই প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাদের দুই জনকেই রক্ত দিতে হবে।

মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে উল্লেখ করেন। কেউ তার কাছে অভিযোগ করেননি বলেও দাবি করেন। তবে জানান, এখনই ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

এমও-২৩/১৬-০৪ (উত্তরাঞ্চর ডেস্ক)